নন্দনের পর কেরল চলচ্চিত্র উৎসবেও আটকে বাংলা ছবি - 24 Ghanta Bangla News
Home

নন্দনের পর কেরল চলচ্চিত্র উৎসবেও আটকে বাংলা ছবি

Spread the love

নন্দনে প্রদর্শনের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর এবার কেরলের আন্তর্জাতিক তথ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবেও সরকারি অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে বাংলা স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘ইন সার্চ অফ বুদ্ধ’ (In Search Of Buddha)। ছবিটি পরিচালনা করেছেন সারান্য্যা দে। নকশাল আন্দোলনের সময়কালকে পটভূমি করে তৈরি এই ছবিটি ১৮তম ইন্টারন্যাশনাল ডকুমেন্টারি অ্যান্ড শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব কেরল বা আইডিএসএফএফকে-র ৩১টি ছবির মধ্যে রয়েছে, যেগুলির প্রদর্শনের অনুমতি নিয়ে এখনও জটিলতা রয়েছে। উৎসবটি ২৫ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর তিরুবনন্তপুরমে হওয়ার কথা।

তবে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক জানিয়েছে, কোনও ছবির প্রদর্শনের অনুমতি সরাসরি বাতিল করা হয়নি। মন্ত্রকের বক্তব্য, ছয়টি ছবির ক্ষেত্রে আরও বিস্তারিত সারাংশ চাওয়া হয়েছে এবং ছবির বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে কয়েকটি ছবি সংশ্লিষ্ট দফতরের পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। ফলে ‘ইন সার্চ অফ বুদ্ধ’-এর ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রক্রিয়াধীন বলেই বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

নকশাল যুগের গল্প ‘ইন সার্চ অফ বুদ্ধ’

‘ইন সার্চ অফ বুদ্ধ’ ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে অতীশ ও দীপঙ্কর নামে দুই চলচ্চিত্র নির্মাতাকে ঘিরে। তাঁরা বুদ্ধ নামে এক রহস্যময় নকশাল নেতাকে নিয়ে গবেষণা করতে শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চরিত্রকে ঘিরে থাকা ভুলে যাওয়া ইতিহাস, বিচ্ছিন্ন স্মৃতি এবং নানা মানুষের বয়ানের মুখোমুখি হন তাঁরা।

একজন রাজনীতিক এবং একজন অধ্যাপকের সাহায্যে তাঁদের অনুসন্ধান এগিয়ে চলে। কিন্তু যত বেশি তথ্য তাঁরা সংগ্রহ করতে থাকেন, ততই তাঁদের প্রথম দিকের ধারণা বদলাতে থাকে। বিভিন্ন মানুষের স্মৃতি এবং অতীতের বিচ্ছিন্ন বর্ণনা থেকে একাধিক ভিন্ন সত্য সামনে আসে।

Advertisements


   


   

শেষ পর্যন্ত তাঁদের অনুসন্ধান শুধু বুদ্ধকে বোঝার চেষ্টা থাকে না। বরং কোনও একটি ঘটনার বা চরিত্রের একটি নির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত সত্য আদৌ তৈরি করা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নও সামনে আসে।

নন্দনেও আটকে গিয়েছিল ছবি

কেরলে যাওয়ার আগে কলকাতাতেও ছবিটির প্রদর্শন নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। জুলাই মাসে ৯তম সাউথ এশিয়ান শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রতিযোগিতা বিভাগে ‘ইন সার্চ অফ বুদ্ধ’ নির্বাচিত হয়েছিল।

ইস্টার্ন রিজিয়ন অব ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব ইন্ডিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত ওই উৎসব ৩ থেকে ৯ জুলাই নন্দনে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু মন্ত্রকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন সময়মতো না আসায় শেষ পর্যন্ত ছবিটি উৎসব থেকে সরিয়ে নিতে হয়।

ছবিতে অভিনয় করেছেন নীল মুখোপাধ্যায়, ময়ূরাক্ষী সেন, সাগ্নিক কোলে এবং হরিদাস দে। ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন পঞ্চজনা দে এবং চিত্রগ্রহণ করেছেন সৈকত রায়।

ছবির বিষয়বস্তু নিয়ে কেন প্রশ্ন?

কেরলের উৎসবে ছবিটির প্রদর্শনের অনুমতি পেতে দেরি হওয়ায় ছবির বিষয়বস্তু নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। কারণ ছবির গল্পে নকশাল আন্দোলন, রাজনীতি, ইতিহাস এবং ধর্মীয় প্রসঙ্গ রয়েছে।

পরিচালক সারান্য্যা দে অবশ্য জানিয়েছেন, ছবিটি কোনও সরকার বা ধর্মের সমালোচনা করার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ছবিতে নকশাল আন্দোলনের সমালোচনাও করা হয়নি। বরং সমকালীন চলচ্চিত্রে নকশাল আন্দোলনকে যেভাবে অনেক সময় রোম্যান্টিক করে দেখানো হয়, ছবিটি সেই প্রবণতাকে প্রশ্ন করতে চেয়েছে।

ছবিতে একটি স্বপ্নের দৃশ্য রয়েছে, যেখানে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসীকে ধূমপান করতে দেখা যায়। পরিচালক জানিয়েছেন, দৃশ্যটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও সুররিয়াল এবং কোনও ধর্মকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করা হয়নি।

৩১টি ছবি নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা

আইডিএসএফএফকে-র জন্য কেরল স্টেট চালচিত্র অ্যাকাডেমি মোট ৩৪৭টি ছবির প্রদর্শনের জন্য কেন্দ্রের কাছে ছাড়পত্র চেয়েছিল। এর মধ্যে ৪০টি ছবির বিষয়ে মন্ত্রক আরও বিস্তারিত তথ্য এবং স্ক্রিনার চেয়েছিল বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেরল সরকারের পক্ষ থেকে পরে জানানো হয়, ৩১টি ছবি এখনও প্রদর্শনের অনুমতি পায়নি। এর মধ্যে উৎসবের মূল নির্বাচিত ছবির পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল নন-ফিকশন, ফেস্টিভ্যাল উইনার্স এবং নেপাল প্যাকেজের ছবিও রয়েছে।

তবে এই অবস্থাকে সরাসরি ‘অনুমতি বাতিল’ বলা যাবে কি না, তা নিয়ে কেন্দ্র ও উৎসব কর্তৃপক্ষের বক্তব্য আলাদা। কেরল স্টেট চালচিত্র অ্যাকাডেমি ৩১টি ছবির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছে। অন্যদিকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক জানিয়েছে, কোনও ছবির অনুমতি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়নি এবং পর্যালোচনার প্রক্রিয়া চলছে।

উৎসবের আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

আইডিএসএফএফকে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা। ফলে উৎসব শুরু হওয়ার ঠিক আগে ‘ইন সার্চ অফ বুদ্ধ’-সহ বাকি ছবিগুলির অনুমতি পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে নজর রয়েছে চলচ্চিত্র মহলের।

সারান্য্যা দে-র ছবির ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ নন্দনে প্রদর্শনের সুযোগ হারানোর পর ফের একটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় পর্যালোচনার পর ছবিটি কেরলের উৎসবে শেষ পর্যন্ত প্রদর্শিত হতে পারে কি না, সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *