স্কুলের টয়লেটে ঢুকে অভব্যতার অভিযোগ! বিহারে জালে স্যর
পাটনা: জামুইয়ে ক্লাস টেনের এক ছাত্রীকে একদল দুষ্কৃতীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ ঘিরে শোরগোলের মধ্যে নতুন করে চর্চায় বিহার। এ বার নওয়াদার একটি স্কুলের ভিতরে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলো প্রধান শিক্ষককে! ৫২ বছরের মহেশ প্রসাদ যাদবের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু হয়েছে। মূলত সিক্স থেকে এইটের ছাত্রীরা হেডস্যরের বিরুদ্ধে সরব। তাঁর ঘরে হোক বা ওয়াশরুমে, নানা ছুতোয় মহেশ অভব্য আচরণ করতেন বলে অভিযোগ।
আতঙ্কিত, বিব্রত ছাত্রীরা কান্নাকাটি করে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের ভয়ঙ্কর অভিযোগ জানাচ্ছে — মঙ্গলবার এমন একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে তীব্র আক্রমণ শাণিয়েছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। এক্সে তিনি লেখেন, ‘এ সব কাণ্ডের পরে বিহার–বিজেপির নেতারা নিজেরাই নিজেদের মুখে কালো কালি মেখে নিন।’
বিষয়টি সামনে আসে ১৮ সেপ্টেম্বর। জানাজানি হতে ওই পড়ুয়াদের অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা প্রতিবাদে সামিল হন। হেডমাস্টারকে অফিসে আটকে রাখেন তাঁরা। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ছাত্রীদের অভিযোগ, তাদের ওয়াশরুমে ঢুকে জোর করে নিজের কোলে বসাতেন ওই প্রধান শিক্ষক। উত্তরপত্র ও কোয়েশ্চেন পেপার নিতে ওঁর ঘরে ঢুকলেও আপত্তিকর ভাবে স্পর্শ করার কথা জানিয়েছে এক স্টুডেন্ট।
নওয়াদার ঘটনা নিয়ে বিহার সরকার বা বিজেপির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে জামুইয়ের অভিযোগ নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী শ্রাবণ কুমারের মন্তব্য দলকে বেশ বিড়ম্বনায় ফেলেছে। দশমের ওই ছাত্রীকে চূড়ান্ত হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার পরেও শ্রাবণের বক্তব্য ছিল, ‘এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেই থাকে!’ ব্যাপক সমালোচনার মুখে মঙ্গলবার বিজেপির মুখপাত্র প্রতুল সহদেও বলেন, ‘আমরা এই মন্তব্যকে একেবারেই সমর্থন করছি না। এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে না। অত্যন্ত লজ্জাজনক, শিউরে ওঠার মতো ইনসিডেন্ট।’ তবে এতে বিতর্ক থামেনি। জামুইয়ের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বিহার সরকারকে নিশানা করে পবন খেরা এক্সে লেখেন — ‘রাস্তাঘাটে, এমনকী স্কুলের ওয়াশরুমেও যদি মেয়েরা নির্ভয়ে যেতে না পারে, তা হলে এদের (গভর্নমেন্ট) লজ্জায় মাথা হেঁট করে বিদায় নেওয়া উচিত।’ বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য শ্রাবণ কুমারকেও বিঁধেছে কংগ্রেস। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরির পদত্যাগের দাবি তুলেছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব।