ভারতে ইভি বিক্রি বাড়লেও ব্যক্তিগত ক্রেতারা দ্বিধায়, পিছনে চার্জিং পরিকাঠামো? - 24 Ghanta Bangla News
Home

ভারতে ইভি বিক্রি বাড়লেও ব্যক্তিগত ক্রেতারা দ্বিধায়, পিছনে চার্জিং পরিকাঠামো?

Spread the love

ভারতে বৈদ্যুতিক গাড়ির ৯Electric Vehicles) বাজার দ্রুত বাড়ছে। তবে দেশের সব রাজ্যে এই পরিবর্তনের গতি এক নয়। ব্যক্তিগত গাড়ি ও দু’চাকার বৈদ্যুতিক যান কেনার ক্ষেত্রেও রাজ্যভেদে বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। নিতি আয়োগ এবং ডব্লিউআরআই ইন্ডিয়ার প্রকাশিত ইন্ডিয়া ইলেকট্রিক মোবিলিটি ইনডেক্স বা আইইএমআই ২০২৫-এর তথ্য সেই পার্থক্যকেই সামনে এনেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতের বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবস্থায় সামগ্রিক অগ্রগতি হয়েছে। তবে চার্জিং পরিকাঠামো, ব্যক্তিগত ক্রেতাদের গ্রহণযোগ্যতা, বাণিজ্যিক যানবাহনের বিদ্যুতায়ন এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলির মধ্যে এখনও যথেষ্ট ফারাক রয়েছে।

ইভি ব্যবস্থায় কোন রাজ্য এগিয়ে?

আইইএমআই ২০২৫ হল এই সূচকের দ্বিতীয় সংস্করণ। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির বৈদ্যুতিক যান ব্যবস্থার অগ্রগতি এই সূচকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সূচকে তিনটি প্রধান বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলি হল পরিবহণ ব্যবস্থায় বৈদ্যুতিক যানবাহনের অগ্রগতি, চার্জিং পরিকাঠামোর প্রস্তুতি এবং বৈদ্যুতিক যান সংক্রান্ত গবেষণা ও উদ্ভাবন।

সামগ্রিক সূচকে দিল্লি ৮৪ নম্বর নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে। এরপর মহারাষ্ট্র ৭৮, কর্ণাটক ৭৩, চণ্ডীগড় ৭১ এবং গোয়া ৬৫ নম্বর পেয়েছে। এই পাঁচটি অঞ্চলকে শীর্ষ পারফর্মার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সামগ্রিক সূচকে এগিয়ে থাকা মানেই সেই রাজ্যে ব্যক্তিগত ক্রেতাদের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি, এমন নয়।

Advertisements


   


   

ব্যক্তিগত ক্রেতাদের ক্ষেত্রে ছবিটা আলাদা

ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিক যান গ্রহণের ক্ষেত্রে কেরল এগিয়ে রয়েছে। ২০২৫ সালে কেরলে ব্যক্তিগত ইলেকট্রিক দু’চাকা ও চারচাকা গাড়ির গ্রহণের হার ছিল ১২.৩ শতাংশ। গোয়া ছিল ১২ শতাংশ এবং কর্ণাটক ১১ শতাংশ। এরপর ওড়িশায় ব্যক্তিগত ইভি গ্রহণের হার ৯ শতাংশ। তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র এবং তেলঙ্গানায় এই হার ছিল ৮ শতাংশ করে।

এই সূচকটি রাজ্যে নথিভুক্ত ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিক দু’চাকা ও চারচাকা গাড়ির সংখ্যা এবং মোট ব্যক্তিগত দু’চাকা ও চারচাকা গাড়ির তুলনার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ, এটি শুধু বিক্রির সংখ্যা নয়, ব্যক্তিগত যানবাহনের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ির অংশ কতটা, সেটিও দেখায়।

বাণিজ্যিক ইভিতে ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা

ব্যক্তিগত ক্রেতাদের তুলনায় বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক যান গ্রহণের হার অনেক বেশি হতে পারে। ২০২৫ সালে ত্রিপুরায় বাণিজ্যিক ইভি গ্রহণের হার ছিল ৬১ শতাংশ, যা সূচকে সবচেয়ে বেশি। এর পরে মণিপুরে ৩৯ শতাংশ, জম্মু ও কাশ্মীরে ৩১ শতাংশ, উত্তরপ্রদেশে ৩০ শতাংশ এবং দিল্লিতে ২৬ শতাংশ বাণিজ্যিক ইভি গ্রহণের হার দেখা গেছে।  পশ্চিমবঙ্গে এই হার ছিল ১৪ শতাংশ।

বাণিজ্যিক যানবাহনের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক বাস, গণপরিবহণ, বাণিজ্যিক বহর এবং অন্যান্য সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে বাণিজ্যিক ইভির প্রসার এবং ব্যক্তিগত গাড়ির বাজারের গতি এক নয়।

চার্জিং পরিকাঠামো কি বড় বাধা?

ইলেকট্রিক গাড়ি কেনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির একটি হল কোথায় এবং কত সহজে চার্জ করা যাবে। আইইএমআই ২০২৫-এ রাজ্যগুলির চার্জিং পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও বড় পার্থক্য পাওয়া গেছে। দিল্লিতে প্রতি এক লক্ষ নথিভুক্ত যানবাহনের জন্য ৪১.১টি কার্যকর জনসাধারণের চার্জার রয়েছে। কর্ণাটকে এই সংখ্যা ৩৬.৮টি। গোয়ায় ২৪.৬টি এবং কেরলে ১৭.৩টি।

অন্যদিকে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে এই সংখ্যা মাত্র ৩.২টি। পশ্চিমবঙ্গে প্রতি এক লক্ষ নথিভুক্ত যানবাহনের জন্য চার্জারের সংখ্যা ৮.৪টি। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, চার্জিং পরিকাঠামো এখনও দেশের সর্বত্র সমানভাবে তৈরি হয়নি। ফলে ব্যক্তিগত ক্রেতার ইভি কেনার সিদ্ধান্তে চার্জিং সুবিধা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকতে পারে। তবে শুধু চার্জারের সংখ্যা দেখেই কোনও রাজ্যে ব্যক্তিগত ইভি গ্রহণের কারণ নির্ধারণ করা যায় না।

ইভি শিল্পকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন ব্যবসা

বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি বিক্রির বাইরেও একটি নতুন শিল্প-পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। ইভি সংস্থা, চার্জিং পরিষেবা, ব্যাটারি প্রযুক্তি এবং অন্যান্য উদ্ভাবনী ব্যবসা এই ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠছে। আইইএমআই ২০২৫-এ অর্থনীতির আকারের তুলনায় ইভি স্টার্টআপের উপস্থিতিও পরিমাপ করা হয়েছে। দিল্লিতে প্রতি ১ লক্ষ কোটি টাকার রাজ্য মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের বিপরীতে ৩০টি ইভি স্টার্টআপ রয়েছে। হরিয়ানায় এই সংখ্যা ২৪টি। মহারাষ্ট্র এবং তেলঙ্গানায় রয়েছে ১৯টি করে।

অর্থাৎ, বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসার শুধু রাস্তায় ইভির সংখ্যা দিয়ে মাপা হচ্ছে না। কোথায় নতুন ব্যবসা তৈরি হচ্ছে, গবেষণা হচ্ছে এবং বৈদ্যুতিক পরিবহণের পরিকাঠামো গড়ে উঠছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তাহলে ব্যক্তিগত ক্রেতারা এখনও ধীর কেন?

আইইএমআই ২০২৫ কোনও একটি কারণকে ব্যক্তিগত ইভি গ্রহণের ধীরগতির একমাত্র ব্যাখ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেনি। তবে তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, সামগ্রিক ইভি প্রস্তুতিতে এগিয়ে থাকা এবং ব্যক্তিগত ইভি গ্রহণের হার সবসময় একই জায়গায় থাকে না।

চার্জিং পরিকাঠামো, রাজ্য সরকারের নীতি, ক্রয়-সহায়তা, পরিচালন খরচ, চার্জিংয়ের সুবিধা এবং স্থানীয় ইভি বাজারের পরিকাঠামো সবই এই পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। আইইএমআই নিজেও নীতি ও বাস্তবায়নের অগ্রগতির পাশাপাশি রাজ্যগুলির মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছে।

ফলে ভারতের ইভি বাজার বাড়লেও ব্যক্তিগত ক্রেতাদের ব্যাপক হারে বৈদ্যুতিক গাড়িতে যাওয়ার জন্য শুধু বেশি মডেল বাজারে আসাই যথেষ্ট নয়। নির্ভরযোগ্য চার্জিং ব্যবস্থা, সহজ ব্যবহার এবং রাজ্যভিত্তিক সহায়ক পরিকাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ভারতের ইভি বাজারের পরবর্তী ধাপ

আইইএমআই ২০২৫-এর সামগ্রিক ফলাফল দেখাচ্ছে, ভারতের বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবস্থায় অগ্রগতি হচ্ছে। ২০২৫ সালের সূচকে সর্বোচ্চ স্কোর ৮৪ এবং মধ্যম স্কোর ৪০, যেখানে ২০২৪ সালে এই দুটি সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৭৭ এবং ৩৬।

তবে অগ্রগতি এখনও অসম। কোথাও ব্যক্তিগত ক্রেতাদের মধ্যে ইভির ব্যবহার বাড়ছে, কোথাও বাণিজ্যিক যানবাহনের বিদ্যুতায়ন দ্রুত হচ্ছে, আবার কোথাও চার্জিং পরিকাঠামো বা গবেষণা ও উদ্ভাবন এখনও পিছিয়ে রয়েছে।

ভারতের বৈদ্যুতিক যানবাহনের পরবর্তী পর্যায়ের সাফল্য তাই শুধু কতগুলি ইভি বিক্রি হল, তার উপর নির্ভর করবে না। ব্যক্তিগত ক্রেতাদের জন্য ব্যবহারযোগ্য পরিকাঠামো এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বৈদ্যুতিক পরিবহণ ব্যবস্থা কত দ্রুত তৈরি হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *