NSE IPO-র সাবস্ক্রিপশন শুরু, আবেদন করবেন ২২,৫৬৯ কোটি টাকার ইস্যুতে?
অপেক্ষার অবসান। দেশের শেয়ার বাজারের অন্যতম বড় আইপিও-র সাবস্ক্রিপশন শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ বা NSE-র ২২,৫৬৯ কোটি টাকার এই আইপিও নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ইস্যুটি ২১ সেপ্টেম্বর বন্ধ হবে। NSE-র শেয়ার ২৪ সেপ্টেম্বর স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা।
এই আইপিও-র প্রাইস ব্যান্ড ১,৭০০ টাকা থেকে ১,৭৮৫ টাকা। একটি লটে রয়েছে ৮টি শেয়ার। অর্থাৎ সর্বোচ্চ দামে আবেদন করলে খুচরো বিনিয়োগকারীর ন্যূনতম ১৪,২৮০ টাকা লাগবে। ইস্যুটি পুরোপুরি অফার ফর সেল বা OFS। অর্থাৎ নতুন শেয়ার ইস্যু করছে না NSE। পুরোনো শেয়ারহোল্ডাররা তাঁদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করছেন। ফলে আইপিও থেকে NSE-র হাতে সরাসরি কোনও টাকা যাবে না।
গ্রে মার্কেটে কী অবস্থা?
আইপিও খোলার আগে NSE-র শেয়ারের গ্রে মার্কেট প্রিমিয়াম বা GMP প্রায় ৭-৯ শতাংশের আশপাশে ছিল। এর অর্থ, গ্রে মার্কেটে শেয়ারটি নিয়ে ইতিবাচক আগ্রহ রয়েছে। তবে শুধু GMP দেখে তালিকাভুক্তির পর শেয়ারের দাম কত হবে, তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না।
ব্রোকারেজ সংস্থাগুলি কী বলছে?
NSE-র আইপিও নিয়ে ব্রোকারেজ সংস্থাগুলির মতামত মোটের উপর ইতিবাচক।
এলকেপি সিকিউরিটিজ় এই আইপিও ‘Subscribe’ করার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থার হিসাবে, সর্বোচ্চ ১,৭৮৫ টাকা দরে NSE-র মূল্যায়ন ২০২৬ অর্থবর্ষের আয়ের প্রায় ৪২.৯ গুণ।
ওয়াইইএস সিকিউরিটিজ়ও আইপিওটিতে ‘Subscribe’ রেটিং দিয়েছে। তাদের মতে, ২০২৬ অর্থবর্ষের আয়ের হিসাবে NSE-র মূল্যায়ন BSE-র তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ কম। BSE-র এই অনুপাত যেখানে ৫৪.৩ গুণ, NSE-র ক্ষেত্রে তা ৪২.৯ গুণ।
দীর্ঘমেয়াদে NSE-র বাজারে নেতৃত্ব, ঋণমুক্ত ব্যালান্স শিট, শক্তিশালী মুনাফার হার এবং বাড়তে থাকা বিনিয়োগকারীর সংখ্যা সংস্থাটির অন্যতম শক্তি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। শুধু ব্রোকারেজের মতামত বা GMP দেখে নয়, আইপিওর মূল্যায়ন, ঝুঁকি এবং নিজের বিনিয়োগের লক্ষ্য বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
(এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্য ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এই সময় অনলাইন কোনও ধরনের বিনিয়োগের পরামর্শ দেয় না। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকি সাপেক্ষ। বিনিয়োগের আগে নিজে গবেষণা করুন এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।)