নীল জলরাশি আর প্রবালের স্বর্গরাজ্য! নিরিবিলিতে ছুটি কাটাতে যেতে পারেন এই দ্বীপে? - 24 Ghanta Bangla News
Home

নীল জলরাশি আর প্রবালের স্বর্গরাজ্য! নিরিবিলিতে ছুটি কাটাতে যেতে পারেন এই দ্বীপে?

Spread the love

Havelock Island

রুপোলি বালির চর, স্বচ্ছ নীল জলরাশি আর নারকেল গাছের সারি— সমুদ্রের মোহময় রূপ দেখতে চাইলে আন্দামানের হ্যাভলক দ্বীপের চেয়ে সেরা গন্তব্য আর কিছু হতে পারে না। যদিও বর্তমানে হ্যাভলকের সরকারি নাম স্বরাজ দ্বীপ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি অ্যাডভেঞ্চার ও নিরিবিলিতে ছুটি কাটাতে বেশ পছন্দ করেন পর্যটকরা।

Havelock Island

পোর্ট ব্লেয়ারের অদূরেই স্বরাজ দ্বীপ

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ার থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে হ্যাভলক দ্বীপ। চারিদিকে সাদা বালির সৈকত, রঙিন কোরাল প্রাচীর আর ঘন ক্রান্তীয় অরণ্যে ঢাকা এই দ্বীপের দৃশ্য চোখ জুড়িয়ে দেয়। পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ফেরি বা বিলাসবহুল হেলিকপ্টারে চেপে খুব সহজেই এই দ্বীপে পৌঁছে যাওয়া যায়।

Havelock Island

বিশ্বের শান্ততম দ্বীপের তালিকায় নবম

সম্প্রতি বিশ্ব মঞ্চে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বড় স্বীকৃতি পেয়েছে এই হ্যাভলক দ্বীপ। শহরের কোলাহল ও ভিড় থেকে দূরে অবস্থিত হওয়ায় এই দ্বীপের পরিবেশ বেশ শান্ত, যা আন্তর্জাতিক স্তরে দারুণ প্রশংসা পেয়েছে।

Havelock Island

প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য স্বর্গরাজ্য

একদিকে এশিয়ার অন্যতম সেরা ও পরিষ্কার সৈকত, অন্যদিকে সমুদ্রের জলের নীচে রোমাঞ্চকর ওয়াটার স্পোর্টসের মজা এখানে মিলবে। এখানে সৈকতে বসে সূর্যাস্ত দেখার আনন্দও সত্যিই অতুলনীয়। যারা একটু নিরিবিলিতে ছুটি কাটাতে চান, তাঁদের কাছে হ্যাভলক আদর্শ স্থান।

Radhanagar Beach

রাধানগর ও এলিফ্যান্ট বিচের অসাধারণ রূপ

হ্যাভলকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো বিশ্বখ্যাত রাধানগর বিচ। এশিয়ার সেরা সৈকতগুলির মধ্যে গণ্য হওয়া এই সৈকতের সাদা বালি, ফিরোজা নীল জল আর সূর্যাস্তের দৃশ্য এক কথায় অসাধারণ। সমুদ্র স্নানের জন্যও রাধানগর বিচ দারুণ জায়গা। অন্যদিকে রয়েছে এলিফ্যান্ট বিচ, যা অগভীর জল ও রঙিন কোরাল প্রাচীরের জন্য স্নরকেলিং বা স্কুবা ডাইভিংয়ের সেরা ঠিকানা হিসেবে পরিচিত।

Kalapathar Beach

কালাপাথর ও বিজয়নগর বিচের শান্ত পরিবেশ

হ্যাভলকে রয়েছে কালাপাথর বিচ। সমুদ্রতীরে কালো রঙের আগ্নেয় পাথর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার কারণে এই সৈকতের এমন নামকরণ হয়েছে। এই সৈকত ছবি তোলা এবং সূর্যোদয় দেখার জন্য বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়াও হ্যাভলকে রয়েছে বিজয়নগর বিচ। এর অগভীর শান্ত জলরাশি এবং সৈকত জুড়ে থাকা রিসর্টের পরিবেশ মন শান্ত করে দেয়।

Scuba Diving

স্কুবা ডাইভিং থেকে কায়াকিংয়ের রোমাঞ্চ

হ্যাভলক হলো ওয়াটার স্পোর্টসপ্রেমীদের জন্য বেশ জনপ্রিয়। জলের নীচের রঙিন কোরাল ও সামুদ্রিক জীব দেখতে ‘অ্যাকোয়ারিয়াম’ এবং ‘লাইটহাউস’-এ সহ একাধিক পয়েন্টে স্কুবা ডাইভিংয়ের সুযোগ রয়েছে। অগভীর জলে স্নরকেলিং করতে পর্যটকরা ছোটেন এলিফ্যান্ট বিচ ও নীল কোভে। এ ছাড়া ম্যানগ্রোভ অরণ্য ঘুরে দেখতে সি কায়াকিং বেশ জনপ্রিয় এখানে। রোমাঞ্চের মাত্রা আরও বাড়াতে এখানে রয়েছে দ্রুতগতির জেট স্কি এবং ব্যানানা বোট রাইড।

Havelock Island

ভ্রমণের সেরা সময় নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি

হ্যাভলকে ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো শীতকাল, অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস। মনোরম আবহাওয়ার কারণে এই সময়ে স্কুবা ডাইভিং এবং স্নরকেলিং সবচেয়ে ভালো ভাবে উপভোগ করা যায়। মার্চ ও এপ্রিল মাসে গরম ও আর্দ্রতা বাড়লেও কম খরচে ঘোরার সুযোগ থাকে। তবে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রবল বর্ষা ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে ওয়াটার স্পোর্টস বন্ধ থাকে, ফলে বর্ষার সময়টা এড়িয়ে চলাই ভালো।

Havelock Island

কী ভাবে পৌঁছবেন এই দ্বীপে?

হ্যাভলকে যেতে হলে পর্যটকদের প্রথমে আকাশপথে পোর্ট ব্লেয়ারের বীর সাভারকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছতে হবে। পোর্ট ব্লেয়ার থেকে সরকারি বা বেসরকারি ফেরিই যাতায়াতের প্রধান ভরসা। জলপথে ৭০ কিলোমিটারের এই ফেরিযাত্রায় সময় লাগে সাধারণত দেড় থেকে আড়াই ঘণ্টা। সব মিলিয়ে রোমাঞ্চ ও প্রকৃতির স্বাদ একসঙ্গে পেতে হ্যাভলক ভ্রমণ পর্যটকের কাছে অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *