খাদ্যের দাম বৃদ্ধির চাপ কমবে বছর শেষে, আশাবাদী মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা - 24 Ghanta Bangla News
Home

খাদ্যের দাম বৃদ্ধির চাপ কমবে বছর শেষে, আশাবাদী মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা

Spread the love

নয়াদিল্লি: অগস্টে ভারতে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার (Food Inflation) প্রায় ৬ শতাংশে পৌঁছলেও বছরের শেষের দিকে এই চাপ দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই মনে করছেন কেন্দ্রীয় সরকারের…

নয়াদিল্লি: অগস্টে ভারতে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার (Food Inflation) প্রায় ৬ শতাংশে পৌঁছলেও বছরের শেষের দিকে এই চাপ দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই মনে করছেন কেন্দ্রীয় সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন। মঙ্গলবার অ্যাসোচেম আয়োজিত একটি অনলাইন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অগস্টে খাদ্যপণ্যের দামে যে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে, তা বছরের শেষ পর্যন্ত বজায় থাকার সম্ভাবনা কম।

অগস্টে ভারতের খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হারও ৪.৮২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত ২০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে খাদ্যপণ্যের দাম এবং সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি, দুই ক্ষেত্রেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অগস্টের খাদ্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কী বললেন নাগেশ্বরন?

নাগেশ্বরনের বক্তব্য, অগস্টে খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছিল। তবে এই প্রবণতা বছরের শেষের দিকে একই মাত্রায় থাকবে বলে তিনি মনে করছেন না। তাঁর মতে, বর্ষার ঘাটতি থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। দেশে এ বছর স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাতের ঘাটতি প্রায় ১৫ শতাংশ। অন্যদিকে গত বছরের তুলনায় চাষের আওতায় জমির পরিমাণ মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ কমেছে। মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টার মতে, এই পরিস্থিতি এখনও “পরিচালনাযোগ্য”। ফলে কৃষি উৎপাদন এবং খাদ্য সরবরাহে বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কার আশঙ্কা আপাতত সীমিত বলেই মনে করছে সরকার।

Read More: ভারতকে মৃত অর্থনীতি সমালোচকদের মুখে ঝামা ঘষে বৈদেশিক মুদ্রা রিসার্ভে ৪ নম্বরে ভারত

Advertisements


   


   

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়েও নজর

খাদ্য মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক রয়েছে কেন্দ্র। বিশেষ করে গত কয়েক দিনে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। নাগেশ্বরন বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝুঁকির কারণগুলি ফের সামনে এসেছে। তবে তাঁর মতে, ভারতীয় অর্থনীতি আরও বেশি ঝুঁকিপ্রবণ হয়ে পড়ার বদলে এই পরিস্থিতির মধ্যেও স্থিতিস্থাপক থাকার সম্ভাবনাই বেশি। সরকার পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে এবং আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ কীভাবে এগোয়, তার উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় নীতি পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

নীতি ব্যবস্থায় নমনীয়তার বার্তা

বর্তমান অনিশ্চয়তার পরিস্থিতিতে সরকারের নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে নমনীয়তা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। তিনি জানান, ব্যবসা করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাপন আরও সহজ করার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে সরকার। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তার মোকাবিলা করার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি ক্ষেত্রকেও বিনিয়োগ এবং নিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অর্থনীতির গতি বজায় রাখতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তিনি।

Read Moreবিশ্ববাজারে ধস, দেশের বাজারে কমল সোনা-রুপোর দাম; পুজোর আগে স্বস্তিতে ক্রেতারা

৪.৩ শতাংশ রাজস্ব ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আশাবাদী কেন্দ্র

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজস্ব ঘাটতি মোট দেশজ উৎপাদনের ৪.৩ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার যে লক্ষ্যমাত্রা বাজেটে নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটি পূরণ করা সম্ভব হবে বলেও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন নাগেশ্বরন। এর পিছনে কয়েকটি ইতিবাচক কারণ রয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে খুব বেশি মাত্রায় বাড়েনি। পাশাপাশি সারের দামও কমেছে। এছাড়া বিলগ্নিকরণ এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কের লভ্যাংশ থেকে সরকারের অ-কর ও অ-ঋণ মূলধনী আয়ও লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

Read Moreউৎসবের আগে বড় উপহারের সম্ভাবনা: ৪ শতাংশ পর্যন্ত ডিএ বাড়াতে পারে কেন্দ্র

নাগেশ্বরনের মতে, এই পরিস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে মোট দেশজ উৎপাদনের ৪.৩ শতাংশের কাছাকাছি রাজস্ব ঘাটতি রাখার লক্ষ্য অর্জন করার বিষয়ে সরকারের যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস রয়েছে। অর্থাৎ, একদিকে অগস্টের খাদ্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাময়িক চাপ থাকলেও বছরের শেষের দিকে তা কমার আশা করছে কেন্দ্র। অন্যদিকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতসহ আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবের দিকে নজর রেখেই অর্থনীতির গতি বজায় রাখার চেষ্টা চালানো হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *