Kawasaki Vulcan Sলঞ্চ, দাম ৮.২৩ লাখ টাকা, ফিরল বাড়তি টর্ক
ভারতের বাজারে ২০২৭ মডেল ইয়ারের কাওয়াসাকি ভালকান এস (Kawasaki Vulcan S) ক্রুজার লঞ্চ করল কাওয়াসাকি। নতুন মডেলে বড় কোনও যান্ত্রিক পরিবর্তন না থাকলেও ইঞ্জিনের টর্কে…
ভারতের বাজারে ২০২৭ মডেল ইয়ারের কাওয়াসাকি ভালকান এস (Kawasaki Vulcan S) ক্রুজার লঞ্চ করল কাওয়াসাকি। নতুন মডেলে বড় কোনও যান্ত্রিক পরিবর্তন না থাকলেও ইঞ্জিনের টর্কে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্রেক ডিস্কের আকার কিছুটা ছোট হয়েছে এবং নতুন রঙের বিকল্প যোগ করা হয়েছে।
২০২৭ কাওয়াসাকি ভালকান এস-এর দাম রাখা হয়েছে ৮.২৩ লাখ টাকা (এক্স-শোরুম)। ২০২৬ মডেলের তুলনায় দাম বেড়েছে ১০,০০০ টাকা। নতুন বাইকের ডেলিভারি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়ার কথা।
২০২৬ মডেলের হারানো টর্ক ফিরল
২০২৬ মডেল আপডেটের সময় ভালকান এস-এর ৬৪৯ সিসি প্যারালাল-টুইন ইঞ্জিনের টর্ক ১.৪ এনএম কমে গিয়েছিল। সেই সংস্করণে ইঞ্জিনটি ৬১ বিএইচপি শক্তি এবং ৬১ এনএম টর্ক উৎপন্ন করত। ২০২৭ মডেলে কাওয়াসাকি সেই কমে যাওয়া ১.৪ এনএম টর্ক ফিরিয়ে দিয়েছে। ফলে নতুন ভালকান এস এখন ৬২.৪ এনএম টর্ক উৎপন্ন করবে, যা ২০২৪ মডেলের সমান। ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ শক্তিতে কোনও পরিবর্তন হয়নি। একইভাবে কোন আরপিএম-এ শক্তি ও টর্ক পাওয়া যায়, সেটিও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
ছোট হল সামনে ও পিছনের ব্রেক ডিস্ক
নতুন মডেলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ব্রেকিং সিস্টেমে। ডুয়াল ডিস্ক এবং ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস থাকলেও সামনে ও পিছনের ডিস্ক রোটরের ব্যাস কমানো হয়েছে। সামনের ডিস্ক এখন ২৭২ মিমি, যেখানে ২০২৬ মডেলে ছিল ৩০০ মিমি। পিছনের ডিস্কের আকার কমে হয়েছে ২১৬ মিমি, যেখানে আগের মডেলে ছিল ২৫০ মিমি। তবে ডুয়াল-চ্যানেল এবিএসই ভালকান এস-এর একমাত্র রাইডার-এইড হিসেবে থাকছে। ফিচারের তালিকায় অন্য কোনও বড় পরিবর্তন করা হয়নি।
Advertisements
সাসপেনশন ও সিট হাইট অপরিবর্তিত
২০২৭ ভালকান এস-এর সাসপেনশন সেটআপ আগের মতোই রাখা হয়েছে। সামনে রয়েছে ৪১ মিমি ফর্ক, যার ট্রাভেল ১৩০ মিমি। পিছনে লিঙ্কেজ মনোশক রয়েছে, যার ট্রাভেল ৮০ মিমি এবং প্রিলোড অ্যাডজাস্টমেন্টের সুবিধা রয়েছে। বাইকের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হল এর ৭০৫ মিমি সিট হাইট। কম উচ্চতার রাইডারদের জন্যও এই সিট হাইট ভালকান এস-কে তুলনামূলকভাবে সহজে চালানোর সুযোগ দেয়। তবে গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স মাত্র ১৩০ মিমি হওয়ায় খারাপ রাস্তা বা বড় স্পিড ব্রেকারে সাবধানে চালাতে হবে। বাইকের কার্ব ওয়েটও আগের মতো ২৩৫ কেজি।
নতুন মেটালিক কার্বন গ্রে রঙ
রঙের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এনেছে কাওয়াসাকি। ২০২৬ মডেলের মেটালিক ফ্ল্যাট স্পার্ক ব্ল্যাকের পরিবর্তে ২০২৭ ভালকান এস পাওয়া যাবে একটি নতুন মেটালিক কার্বন গ্রে রঙে। এই রঙের সঙ্গে হালকা নীলচে-সবুজ হাইলাইট দেওয়া হয়েছে। ফলে কাওয়াসাকির পরিচিত স্পোর্টি সবুজ রঙের সামান্য ছোঁয়াও ফিরে এসেছে।
একই অ্যানালগ-ডিজিটাল মিটার
ফিচারের ক্ষেত্রে নতুন মডেলে বড় কোনও পরিবর্তন নেই। আগের মতোই অ্যানালগ-ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার থাকছে। ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস ছাড়া অতিরিক্ত কোনও উল্লেখযোগ্য রাইডার-এইড যোগ করা হয়নি। অর্থাৎ নতুন ভালকান এস-এর মূল পরিবর্তনগুলি ইঞ্জিনের টর্ক, ব্রেক ডিস্ক এবং রঙের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
রয়্যাল এনফিল্ড সুপার মিটিওর ৬৫০-এর তুলনায় অনেক দামি
ভারতের ক্রুজার মোটরসাইকেল বাজারে ভালকান এস-এর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী নেই বললেই চলে। তবে সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা যায় রয়্যাল এনফিল্ড সুপার মিটিওর ৬৫০-কে। নতুন কাওয়াসাকি ভালকান এস-এর দাম যেখানে ৮.২৩ লাখ টাকা, সেখানে রয়্যাল এনফিল্ড সুপার মিটিওর ৬৫০-এর দাম ৪.০৫ লাখ টাকা (এক্স-শোরুম)। অর্থাৎ দামের ব্যবধান ৪ লাখ টাকারও বেশি। তবে ভালকান এস-এর আলাদা ইঞ্জিন চরিত্র, ক্রুজার ডিজাইন, কম ৭০৫ মিমি সিট হাইট এবং প্রিমিয়াম অবস্থানই এর মূল আকর্ষণ।
২০২৭ কাওয়াসাকি ভালকান এস মূলত বড় কোনও আপডেট নয়, বরং আগের মডেলের পরিমার্জিত সংস্করণ। ৬৪৯ সিসি ইঞ্জিনে ৬২.৪ এনএম টর্ক ফিরিয়ে আনা এবং নতুন রঙ যোগ করা হয়েছে। দাম ৮.২৩ লাখ টাকা হওয়ায় এটি এখনও ভারতের প্রিমিয়াম ক্রুজার মোটরসাইকেলগুলির মধ্যে একটি বিশেষ অবস্থানে রয়েছে।