রিয়াদের সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য রাখতে তৎপর পাক প্রধানমন্ত্রী
ইসলামাবাদ: সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর ওপর হুথি বিদ্রোহীদের লাগাতার হামলার তীব্র নিন্দা জানাল ইসলামাবাদ। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের…
ইসলামাবাদ: সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর ওপর হুথি বিদ্রোহীদের লাগাতার হামলার তীব্র নিন্দা জানাল ইসলামাবাদ। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ইয়েমেন সংঘাতে পাকিস্তানের সামরিক অবস্থান নিয়ে কূটনৈতিক মহলে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটাতে এবং রিয়াদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেই এই তৎপরতা বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছিল। ইয়েমেনের হুথিদের আক্রমণ অব্যাহত থাকলে এই চুক্তি সক্রিয় হতে পারে বলে মন্তব্য করেছিলেন খোদ পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। কিন্তু পরবর্তীতে ইসলামাবাদের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয় যে, এই চুক্তি মূলত প্রতিরক্ষামূলক এবং হুথিদের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো বড়ো সামরিক পদক্ষেপে জড়াতে বাধ্য নয় পাকিস্তান। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ফোনালাপে পাকিস্তানের ‘পূর্ণ সংহতি’র বার্তা দিলেন শেহবাজ শরিফ। তিনি স্পষ্ট জানান, হুথিদের এই আক্রমণ শুধু আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাই বিঘ্নিত করছে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও চরম বিপদের মুখে ফেলছে।
এদিকে, ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী এবং ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে লোহিত সাগর এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বাব এল-মান্দেব প্রণালী’র নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে সংঘর্ষের জেরে লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এমন সংকটজনক পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সামরিক প্রতিশ্রুতি ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে রিয়াদের মনে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতেই শেহবাজ শরিফের এই তরিঘরি ফোনালাপ। পাশাপাশি, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শেহবাজ শরিফের বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকের সূচি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল সংঘাতে ওয়াশিংটন এবং রিয়াদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে পাকিস্তান কীভাবে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে, এখন সেটাই দেখার।
ভারতকে ৩৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টার হাইস্পিড ট্রেনের প্রস্তাব রাশিয়ার
Advertisements
ব্রিকসের দরজায় কড়া নেড়েও নিরাশ পাকিস্তান, সদস্যপদ পেতে বড় বাধা কোথায়?