মহসিন নকভি কেন ভারত-বিসিসিআইয়ের কাছে বিতর্কিত, নেপথ্যে কী?
পরপর দু’বছর এশিয়া কাপের মঞ্চে একই ঘটনা। ভারতীয় দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি মহসিন নকভির (Mohsin Naqvi) হাত থেকে ট্রফি নেয়নি। ২০২৫…
পরপর দু’বছর এশিয়া কাপের মঞ্চে একই ঘটনা। ভারতীয় দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি মহসিন নকভির (Mohsin Naqvi) হাত থেকে ট্রফি নেয়নি। ২০২৫ সালে পুরুষদের দলের পর এবার ২০২৬ সালে হরমনপ্রীত কৌর ও তাঁর সতীর্থরাও একই অবস্থান নিলেন। ট্রফি হাতে নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নকভির কাছ থেকে সেটি গ্রহণ করেনি ভারতীয় দল। কিন্তু কেন মহসিন নকভিকে ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেট মহলে এতটা আপত্তি? এর পিছনে শুধু ক্রিকেট প্রশাসনের বিষয় নয়, রয়েছে ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবও।
কোথা থেকে শুরু ট্রফি বিতর্ক?
মহসিন নকভির সঙ্গে ভারতীয় দলের দূরত্ব মূলত তৈরি হয় ২০২৫ সালের এশিয়া কাপকে কেন্দ্র করে। পাহালগামে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড জাতীয় দলকে পাকিস্তানি ক্রিকেটার বা আধিকারিকদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় না করার পরামর্শ দিয়েছিল। সেই এশিয়া কাপে ভারতের অধিনায়ক ছিলেন সূর্যকুমার যাদব। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচগুলিতে ভারতীয় অধিনায়ক পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলি আগা বা দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে হাত মেলাননি। এরপর আসে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সেখানে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে ট্রফি ও বিজয়ীদের পদক দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন নকভি। কিন্তু ভারতীয় দল তাঁর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করতে রাজি হয়নি বলে জানা যায়।
এক ঘণ্টারও বেশি অপেক্ষা, তারপর মঞ্চ থেকে সরানো হয় ট্রফি
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নকভিকে নাকি এক ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ভারতীয় দল জানিয়েছিল, তারা নকভির বদলে অন্য কোনও এসিসি আধিকারিকের কাছ থেকে ট্রফি ও পদক নিতে চায়। কিন্তু সেই প্রস্তাবে সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি অচলাবস্থায় পৌঁছায়। পরে ট্রফিটি মঞ্চ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। সরাসরি নকভির হাত থেকে ট্রফি নেওয়ার পরিবর্তে ভারতীয় দলের অবস্থানই বজায় থাকে।
ক্রিকেট প্রশাসকই নন, পাকিস্তানের মন্ত্রীও নকভি
মহসিন নকভিকে ঘিরে ভারতের আপত্তির অন্যতম বড় কারণ তাঁর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি শুধু পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান বা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি নন, পাকিস্তান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বেও রয়েছেন।
Advertisements
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের দৃষ্টিতে বিষয়টি তাই শুধুমাত্র দুই দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের মধ্যে সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয় দেখেন এমন একজন বর্তমান মন্ত্রীর সঙ্গে ক্রিকেটীয় সৌজন্য বিনিময় করা ভারত-পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। অর্থাৎ, নকভির ক্রিকেট প্রশাসক এবং সরকারি মন্ত্রী, দুই পরিচয়ই এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলেও প্রভাবশালী নকভি
পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নকভিকে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয়। দেশটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে এবং সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা আলোচিত হয়েছে। এই কারণে ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের কাছে নকভির সঙ্গে স্বাভাবিক ক্রিকেটীয় সৌজন্য বিনিময়ও শুধুমাত্র একজন ক্রিকেট প্রশাসকের সঙ্গে সম্পর্ক হিসেবে দেখা কঠিন। ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তাঁর সঙ্গে প্রতিটি প্রকাশ্য যোগাযোগের আলাদা রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি হয়।
নকভির প্রকাশ্য মন্তব্যও বাড়িয়েছে বিতর্ক
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নকভির বিভিন্ন প্রকাশ্য এবং ডিজিটাল বক্তব্য। ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নিয়ে তাঁর সরাসরি মন্তব্য এবং ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে করা বিভিন্ন পোস্টও বিতর্ক তৈরি করেছে।
ভারতের দৃষ্টিতে, একজন ক্রিকেট প্রশাসকের দায়িত্ব এবং দুই দেশের ভূরাজনৈতিক সংঘাতের বিষয়কে আলাদা রাখা উচিত। কিন্তু নকভির ক্ষেত্রে ক্রিকেট প্রশাসনের ভূমিকার সঙ্গে তাঁর সরকারি ও রাজনৈতিক পরিচয় মিশে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
কেন ট্রফি নেওয়ার বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ?
এশিয়া কাপ একটি বহুদেশীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতা হলেও ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের কারণে দুই দেশের ক্রিকেটীয় ঘটনাগুলি প্রায়ই রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়। ট্রফি গ্রহণ বা হাত মেলানোর মতো সাধারণ ক্রিকেটীয় সৌজন্যও তাই এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহে আলাদা বার্তা বহন করে।
ভারতীয় দলের পরপর দু’বছর নকভির কাছ থেকে ট্রফি না নেওয়ার ঘটনাকে সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটেই দেখতে হচ্ছে। ২০২৫ সালের বিতর্কের পর ২০২৬ সালের মহিলা এশিয়া কাপ ফাইনালেও একই অবস্থান নেওয়ায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারতীয় দলের কাছে এটি শুধু ট্রফি গ্রহণের প্রশ্ন নয়, বরং ক্রিকেট এবং রাষ্ট্রীয় রাজনীতির মধ্যে সীমারেখা কোথায় টানা হবে, সেই অবস্থানেরও প্রকাশ। অন্যদিকে নকভির একাধিক সরকারি ও ক্রিকেট প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে এই বিতর্ক ভবিষ্যতেও ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন