পাকিস্তানকে ৩-০ হারিয়ে ‘বাজবলের ধারাবাহিকতা’, স্টোকস-ম্যাককালামকে কৃতিত্ব রুটের
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছে ইংল্যান্ড। এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টে ৮ উইকেটে জয়ের পর ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জো রুট (Joe Root)…
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছে ইংল্যান্ড। এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টে ৮ উইকেটে জয়ের পর ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জো রুট (Joe Root) দলের সাফল্যের পিছনে প্রাক্তন অধিনায়ক বেন স্টোকস এবং প্রাক্তন কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন।
এই সিরিজে ফের ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে ছিলেন রুট। তাঁর মতে, দলের বর্তমান আগ্রাসী ক্রিকেটের ভিত তৈরি করেছিলেন স্টোকস ও ম্যাককালাম। তাঁদের সময়ের কাজেরই ধারাবাহিকতা এবং ধীরে ধীরে উন্নত সংস্করণ দেখা যাচ্ছে বর্তমান ইংল্যান্ড দলে।
রুট বলেন, ম্যাককালাম কোচ এবং স্টোকস অধিনায়ক হিসেবে যে কাজ করেছিলেন, তা না হলে ইংল্যান্ড এই ধরনের ক্রিকেট খেলতে পারত না। তাঁর মতে, বর্তমান সাফল্য আগের সময়ের কাজেরই ধারাবাহিকতা।
এজবাস্টনে সহজ জয় ইংল্যান্ডের
তৃতীয় টেস্টের শেষ ইনিংসে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের সামনে ছিল মাত্র ১৩০ রানের লক্ষ্য। শুরুতে মহম্মদ আব্বাস পরপর উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে কিছুটা আশা দেখালেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচে কোনও অঘটন ঘটেনি। জো রুট অপরাজিত ৬২ রান করেন। তাঁর সঙ্গে জর্ডান কক্স ৫৯ রানে অপরাজিত থাকেন। দু’জনে মিলে ১২৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ইংল্যান্ডকে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান সিরিজের সেরা ব্যাটিং করে ৪৪৯ রান তুলেছিল। ফলে ইংল্যান্ডকে কিছুটা চাপে ফেলতে পেরেছিল পাকিস্তান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চাপ সামলে সহজেই ম্যাচ এবং সিরিজ জিতে নেয় স্বাগতিকরা।
Advertisements
Read More: বুমরাহর সামনে নেটে সমস্যায় বৈভব, আফগানিস্তান সিরিজের আগে কঠিন পরীক্ষা
‘চাপ সামলে শেষ করাটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে’
সিরিজজুড়ে ইংল্যান্ডের চাপ এবং অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার ক্ষমতাকে বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন রুট। তাঁর মতে, সিরিজের বেশিরভাগ সময় পরিস্থিতি ইংল্যান্ডের পক্ষে ছিল। কিন্তু তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান পাল্টা লড়াই করায় ইংল্যান্ডের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে দল যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ম্যাচ জিতেছে, সেটিই রুটকে সবচেয়ে বেশি খুশি করেছে।
অভিষেকেই রজাউল্লাহর ঝড়
পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন অভিষেককারী রজাউল্লাহ। মাত্র ৬৩ বলে ৮১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৯টি ছক্কা। এছাড়া শান মাসুদ ৯৫, বাবর আজম ৭৬ এবং আজম আওয়াইস ৫৯ রান করেন। পাকিস্তানের বড় স্কোরের পিছনে এই ব্যাটারদের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
Read More: কবে থেকে শুরু হচ্ছে আইএসএল ? চূড়ান্ত হল দিনক্ষণ
রজাউল্লাহর সম্পর্কে ম্যাচের আগে খুব বেশি তথ্য ইংল্যান্ডের হাতে ছিল না বলেও জানিয়েছেন রুট। তবে তরুণ ব্যাটারটি যেভাবে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন, তাতে ইংল্যান্ডের বোলারদের যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হয়েছে। রুট বলেন, রজাউল্লাহ দুর্দান্ত কিছু শট খেলেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফিল্ড সাজানোও কঠিন হয়ে পড়েছিল। জোরে ব্যাট চালিয়েও তিনি বল ভালোভাবে টাইম করেছেন বলে প্রশংসা করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
অন্তর্বর্তী কোচ ট্রেসকোথিকেরও প্রশংসা
এই সিরিজে ইংল্যান্ডের অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মার্কাস ট্রেসকোথিক। তাঁর অবদানেরও প্রশংসা করেছেন রুট। রুটের মতে, দীর্ঘমেয়াদি কোচের দায়িত্বে না থেকেও ট্রেসকোথিক একদিকে বর্তমান দলের উপর নিজের প্রভাব রেখেছেন, অন্যদিকে ভবিষ্যতের দল নিয়েও ভাবার চেষ্টা করেছেন। এই দুই দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাটা সহজ ছিল না বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ট্রেসকোথিকের ক্রিকেট দেখার দৃষ্টিভঙ্গি এবং দলের সঙ্গে কাজ করার ধরন অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ৩-০
এই জয়ের ফলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে প্রথমবার তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের নজির গড়ল ইংল্যান্ড। ম্যাককালাম ও স্টোকসের সময় থেকে ইংল্যান্ড যে আক্রমণাত্মক মানসিকতার ক্রিকেটকে নিজেদের পরিচয়ের অংশ করেছে, রুটের মন্তব্যে সেই ধারারই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। তাঁর মতে, এই ক্রিকেটের কোনও নির্দিষ্ট পর্যায়ে থেমে থাকার সুযোগ নেই। বরং ভবিষ্যতেও সেই দর্শনকে আরও উন্নত করে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের নিখুঁত ফলাফল তাই শুধু একটি সিরিজ জয় নয়, ইংল্যান্ডের বদলে যাওয়া টেস্ট ক্রিকেটের ধারাবাহিকতারও গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে থাকল।