মোদী-শি বৈঠকে নজর কোন কোন দিকে?
নয়াদিল্লি: দীর্ঘ সাত বছরের ব্যবধানে ভারতের মাটিতে পা রাখতে চলেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার দিল্লি পৌঁছচ্ছেন তিনি।…
নয়াদিল্লি: দীর্ঘ সাত বছরের ব্যবধানে ভারতের মাটিতে পা রাখতে চলেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার দিল্লি পৌঁছচ্ছেন তিনি। ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থেকেই দুই এশীয় পরাশক্তির সম্পর্কে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার বরফ গলাতে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কূটনৈতিকভাবে নির্ণায়ক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
আগামীকাল, শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে চিনা প্রেসিডেন্টের এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC)-র পরিস্থিতি, দীর্ঘমেয়াদী সীমানা বিবাদ নিরসন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলি এই বৈঠকে প্রাধান্য পাবে বলে খবর। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে মামল্লাপুরমে ভারত-চিন অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠকের পর এটিই শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। ২০২০ সালের জুনে গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুদেশের সম্পর্ক সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেলেও, ২০২৪ সাল থেকে কূটনৈতিক স্তরে বরফ গলানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু হওয়া এবং ভিসার কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল হওয়ার মতো ইতিবাচক পদক্ষেপের পর দুই নেতার এই মুখোমুখি সাক্ষাৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।
সম্পর্কের দৃশ্যমান উন্নতি ঘটলেও একাধিক বড় বাধা এখনও রয়ে গেছে। বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে চিনের লাগাতার কারচুপির চেষ্টা এবং ব্রহ্মপুত্রের ওপর বেজিংয়ের মেদোগ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো বিষয়গুলিতে নয়াদিল্লির গভীর উদ্বেগ রয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভারত ও চিনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য রেকর্ড ১৫১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও, বাণিজ্যের পাল্লা চিনের দিকে মারাত্মকভাবে ভারী (১১২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি)। এই বিশাল ব্যবধান ও কৌশলগত নির্ভরতা কমানোর বিষয়টি ভারতের কাছে অন্যতম বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দুই দেশই আপাতত কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে আগামীকালের মোদী-শি বৈঠক কেবল সীমান্ত বা বাণিজ্যের হিসাব মেটানোর মঞ্চ নয়, বরং দুই দেশের আস্থার সংকট কাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করতে পারে কি না, সেদিকেই এখন নজর গোটা বিশ্বের।
Advertisements
‘বন্দে মাতরমের প্রথম দুটি স্তবক ছাড়া গাওয়া হবে না!’ নির্দেশ কর্ণাটক সরকারের
ষষ্ঠ তফসিল নয়! লাদাখকে আর্টিকেল ৩৭১-এর অধীনে ‘চ্যাপ্টার কে’ প্রস্তাব শাহের