গালওয়ান সংঘর্ষের পর প্রথম! ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে হতে পারে মোদী- জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠক - 24 Ghanta Bangla News
Home

গালওয়ান সংঘর্ষের পর প্রথম! ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে হতে পারে মোদী- জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

Spread the love

নয়াদিল্লি: ২০২০ সালের রক্তক্ষয়ী গালওয়ান উপত্যকা সংঘর্ষের পর এই প্রথম মুখোমুখি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। আগামী…

নয়াদিল্লি: ২০২০ সালের রক্তক্ষয়ী গালওয়ান উপত্যকা সংঘর্ষের পর এই প্রথম মুখোমুখি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ১৮তম ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের ফাঁকেই দুই নেতার এই সম্ভাব্য বৈঠকটি হতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক শীতলতা এবং অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের পর ভারত ও চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এই সম্ভাব্য বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।

আগামী শনিবারে দু’দিনের ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লি পৌঁছানোর কথা রয়েছে শি জিনপিংয়ের। গত সাত বছরের মধ্যে এটি তাঁর প্রথম ভারত সফর এবং ২০২০ সালের সীমান্ত সংকটের পর এই প্রথম তিনি ভারতে আসছেন। যদিও দুই দেশের পক্ষ থেকে এখনও এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক যৌথ বিবৃতি জারি করা হয়নি। তবে এর আগে কিরগিজস্তানের বিশকেকে এসসিও (SCO) সম্মেলনের মঞ্চে দুই নেতা কেবল হাত মেলালেও কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেননি।

চিনা রাষ্ট্রপতির ভারত সফরের আগে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ বজায় রাখতে নয়া দিল্লির তরফ থেকে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল উচ্চপর্যায় আলোচনার জন্য চিন সফর করেছেন। পাশাপাশি ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক পরামর্শ ও সমন্বয়কারী বৈঠক (WMCC) এবং দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যেও সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে সেনা অপসারণের পর থেকেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

২০২০ সালের জুনে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থেকেই ভারত-চিন সম্পর্কে চূড়ান্ত অবনতি ঘটেছিল। সেই সংঘর্ষে কুড়িজন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হন এবং চীন পরে তাদের চার সেনা নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করে। এরপর দীর্ঘ সামরিক ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সীমান্তে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও পূর্ণাঙ্গ সীমান্ত সমস্যা এখনও অমীমাংসিতই রয়েছে।

Advertisements


   


   

অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত

পূর্ব লাদাখে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও সামগ্রিক সীমান্ত বিরোধ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যার মধ্যে অরুণাচল প্রদেশ অন্যতম সংবেদনশীল ইস্যু। গোটা ভারতীয় রাজ্যটিকে নিজেদের এলাকা বলে দাবি করে চিন সেটিকে ‘জাংনান’ বা দক্ষিণ তিব্বত বলে অভিহিত করে। ভারত ধারাবাহিকভাবে এই দাবি খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সম্প্রতি অরুণাচলের উচ্চ সুবনসিরি অঞ্চলে চিনা সেনার তৎপরতা এবং ভারতের ভৌগোলিক অবস্থানগুলির নতুন নামকরণ করার বেইজিংয়ের মরিয়া চেষ্টা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে জটিল করে তুলেছে। ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সীমান্তে শান্তি ও স্থায়িত্ব বজায় থাকাই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি।

মোদাস-শি বৈঠকে কোন কোন ইস্যু থাকতে পারে?

প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকে সীমান্ত সমস্যা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং এলএসি (LAC) বরাবর নতুন করে উত্তেজনা এড়ানোর বিভিন্ন মেকানিজম নিয়ে আলোচনা হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে এই বৈঠক বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। নয়াদিল্লির কৌশলগত লক্ষ্য হলো সীমান্তে শান্তি বজায় রেখে পারস্পরিক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, অন্যদিকে বেইজিং ব্রিকস ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক মঞ্চে সম্পর্ক জোড়দার করতে চাইছে।

ফের সাফল্য কাশ্মীরে! কুপওয়ারায় গ্রেফতার হিজবুল জঙ্গি মনজুর আহমেদ

সাক্ষরতার নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল কংগ্রেস শাসিত রাজ্য হিমাচল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *