প্যাকেটজাত খাবারে চিনি-নুন-ফ্যাটে সতর্কবার্তা চান ৮০% ভারতীয় - 24 Ghanta Bangla News
Home

প্যাকেটজাত খাবারে চিনি-নুন-ফ্যাটে সতর্কবার্তা চান ৮০% ভারতীয়

Spread the love

কলকাতা: প্যাকেটজাত খাবার (Packaged Food) ও পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি, নুন বা ফ্যাট থাকলে প্যাকেটের সামনের দিকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন বিপুল সংখ্যক ভারতীয়।…

কলকাতা: প্যাকেটজাত খাবার (Packaged Food) ও পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি, নুন বা ফ্যাট থাকলে প্যাকেটের সামনের দিকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন বিপুল সংখ্যক ভারতীয়। একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ৮০ শতাংশ ভারতীয় গ্রাহক চান, কোনও পণ্যে এই তিনটির মধ্যে অন্তত একটি উপাদানের পরিমাণ বেশি থাকলেই শুরু থেকেই প্যাকেটের সামনে সতর্কবার্তা দেওয়া হোক।

এই দাবি সামনে এল এমন সময়, যখন ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা এফএসএসএআই সুপ্রিম কোর্টে প্যাকেটজাত খাবারের সামনে চিনি, ফ্যাট এবং নুনের মাত্রা সম্পর্কে ছবি বা প্রতীকের মাধ্যমে তথ্য দেওয়ার প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গের সড়ক যোজনায় ১০৪২.৬২ কোটি অনুমোদন গড়কড়ির

প্যাকেটের সামনে লাল সতর্কবার্তার প্রস্তাব

গত ২৮ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টে এফএসএসএআইয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, বেশি মাত্রায় নির্দিষ্ট উপাদান থাকলে প্যাকেটের সামনে লাল ষড়ভুজ সতর্কবার্তা দেওয়া হতে পারে। সেখানে লেখা থাকতে পারে:

Advertisements


   


   

  • হাই সুগার, অর্থাৎ বেশি চিনি
  • হাই সল্ট, অর্থাৎ বেশি নুন
  • হাই ফ্যাট, অর্থাৎ বেশি ফ্যাট
  • হাইলি সুইটেনড বেভারেজ, অর্থাৎ অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয়

তবে এফএসএসএআইয়ের প্রস্তাবে এই নিয়ম দুই ধাপে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।

প্রথম ধাপে একটি উপাদান বেশি হলে সতর্কবার্তা নয়

প্রস্তাবিত প্রথম ধাপে কোনও পণ্যে অ্যাডেড সুগার, নুন এবং অ্যাডেড স্যাচুরেটেড ফ্যাটের মধ্যে অন্তত দুটি বেশি থাকলে সতর্কবার্তা দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট ধরনের মিষ্টি পানীয়ও এর আওতায় থাকবে। অন্যদিকে, কোনও পণ্যে শুধু চিনি অথবা নুন অথবা স্যাচুরেটেড ফ্যাটের মাত্রা বেশি থাকলে প্রথম ধাপে সতর্কবার্তা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। একটি পণ্যে শুধু একটি উপাদান বেশি থাকার ক্ষেত্রে সতর্কবার্তার নিয়ম দ্বিতীয় ধাপে কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে। আর এখানেই আপত্তি জানিয়েছেন অধিকাংশ গ্রাহক।

আরও পড়ুন: ভারতে স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড পরিষেবা নিয়ে আসতে চলেছে মাস্কের ষ্টারলিংক

২৩ হাজারের বেশি মানুষের মতামত

অনলাইন জনমত ও ভোক্তা-সংক্রান্ত বিষয়ে সমীক্ষা চালানো প্ল্যাটফর্ম লোকাল সার্কেলস এই সমীক্ষাটি করেছে। মোট ২৩,৫১৬টি উত্তর বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, ৮০ শতাংশ মানুষ চান, কোনও পণ্যে চিনি, নুন অথবা স্যাচুরেটেড ফ্যাটের মধ্যে যেকোনও একটি বেশি থাকলেই প্রথম থেকেই সতর্কবার্তা বাধ্যতামূলক করা হোক। অর্থাৎ, সতর্কবার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ধাপ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান না অধিকাংশ উত্তরদাতা।

সতর্কবার্তা বড় এবং স্পষ্ট হওয়া উচিত

শুধু সতর্কবার্তা থাকলেই হবে না, সেটি যাতে সহজে চোখে পড়ে, তাও চান অধিকাংশ গ্রাহক।  এই প্রশ্নে ২৩,৪৯১ জন উত্তরদাতার মধ্যে ৮৮ শতাংশ বলেছেন, প্যাকেটের সামনে সতর্কবার্তাটি বড়, স্পষ্ট এবং সহজে চোখে পড়ার মতো হওয়া উচিত। অর্থাৎ, প্যাকেট হাতে নেওয়ার পর পিছনের ছোট অক্ষরের তথ্য পড়ার আগেই যাতে ক্রেতা বুঝতে পারেন কোনও উপাদানের মাত্রা বেশি, সেই ধরনের লেবেলিংয়ের পক্ষে জনমত রয়েছে।

শুধু Added Sugar নয়, Total Sugar-এর দাবি

এফএসএসএআইয়ের প্রস্তাবে সতর্কবার্তায় মূলত অ্যাডেড সুগার, নুন এবং অ্যাডেড স্যাচুরেটেড ফ্যাট-এর মাত্রার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়েও সমীক্ষায় অংশ নেওয়া মানুষের বড় অংশ ভিন্ন মত দিয়েছেন। ২০,৫২৫ জনের মধ্যে ৫৩ শতাংশ বলেছেন, সতর্কবার্তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পণ্যে থাকা মোট চিনি, মোট নুন এবং মোট স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বিবেচনা করা উচিত।

৬ মাসের মধ্যে নিয়ম চালুর দাবি

নতুন লেবেলিং ব্যবস্থা কার্যকর করার সময়সীমা নিয়েও দ্রুত পদক্ষেপের পক্ষে মত এসেছে। ২০,০৬৮ জন উত্তরদাতার মধ্যে ৮৮ শতাংশ বলেছেন, এই নিয়ম ৬ মাসের মধ্যে কার্যকর করা উচিত। অর্থাৎ, নতুন লেবেলিং ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী।

কারা এই সমীক্ষায় অংশ নিয়েছেন?

লোকাল সার্কেলসের সমীক্ষায় দেশের ৩২৮টি জেলা থেকে মোট প্রায় ১.০৮ লাখ মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছিল। উত্তরদাতাদের মধ্যে:

  • ৬২ শতাংশ পুরুষ
  • ৩৮ শতাংশ মহিলা
  • ৪৫ শতাংশ টিয়ার-১ শহর/জেলার বাসিন্দা
  • ৩১ শতাংশ টিয়ার-২ এলাকার বাসিন্দা
  • ২৪ শতাংশ টিয়ার-৩, ৪ ও ৫ এলাকার বাসিন্দা

ফলে প্যাকেটজাত খাবারে চিনি, নুন ও ফ্যাটের মাত্রা সম্পর্কে আরও দৃশ্যমান এবং দ্রুত বোঝা যায় এমন তথ্য দেওয়ার বিষয়ে গ্রাহকদের মধ্যে যথেষ্ট জোরালো দাবি রয়েছে বলেই সমীক্ষার ফলাফল থেকে উঠে এসেছে। তবে সতর্কবার্তার চূড়ান্ত কাঠামো এবং তা কোন পর্যায়ে কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এফএসএসএআইয়ের প্রস্তাবের পরবর্তী সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *