KCL ফাইনালে ভয়াবহ ঘটনা, মুখোমুখি সংঘর্ষে জ্ঞান হারিয়ে হাসপাতালে ভারতীয় ক্রিকেটার
২০২৬ সালের কেরালা ক্রিকেট লিগের (Kerala Cricket League) ফাইনালে ভয়াবহ এক ঘটনা চমকে দিল মাঠে উপস্থিত সবাইকে। ক্যাচ ধরতে গিয়ে একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খান ত্রিশূর টাইটান্সের (Thrissur Titans) দুই ক্রিকেটার শন রজার (Shaun Roger) ও মহম্মদ ইনান (Mohammad Inan)। সংঘর্ষ এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল যে মাঠেই অজ্ঞান হয়ে যান রজার। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এই দুর্ঘটনার মধ্যেও প্রথম বার কেরালী ক্রিকেট লিগের খেতাব জিতে নেয় ত্রিশূর।
ভয়াবহ সংঘর্ষে মাঠেই অজ্ঞান রজার
তিরুবনন্তপুরমের গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ফাইনালে ক্যালিকাট গ্লোবস্টার্সের (Calicut Globstars) এক ব্যাটারের শট থেকে ক্যাচ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন শন রজার ও মহম্মদ ইনান। বলের দিকে দৌড়তে গিয়ে দু’জনের মধ্যে জোর ধাক্কা লাগে। এই সময় ইনানের হাঁটু সরাসরি রজারের বুকে আঘাত করে।
সংঘর্ষের পরই মাঠে লুটিয়ে পড়েন রজার। প্রায় এক মিনিট অচেতন অবস্থায় মাঠে পড়েছিলেন তিনি। সতীর্থের এমন অবস্থা দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ইনানও। দ্রুত চিকিৎসক দল মাঠে ছুটে আসে। রজার সাড়া না দেওয়ায় তাঁকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
খেতাব জিতে সোজা হাসপাতালে ত্রিশূর
এই ঘটনার পরও ম্যাচ জিতে নেয় ত্রিশূর টাইটান্স। তিন উইকেটে ক্যালিকাট গ্লোবস্টার্সকে হারিয়ে প্রথম বার কেরল ক্রিকেট লিগের চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। তবে ট্রফি জয়ের আনন্দ উদযাপন না করে পুরো দল সোজা হাসপাতালে পৌঁছে যায় আহত সতীর্থের কাছে। তখনও চিকিৎসাধীন ছিলেন রজার। তাঁর বাঁ-হাত সাপোর্টে বাঁধা ছিল। হাসপাতালে গিয়ে সতীর্থরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ট্রফি তাঁর কোলে তুলে দেন। আবেগঘন সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিয়ো পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
আবেগঘন বার্তা রজারের
হাসপাতাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো ভাগ করে নেন রজার। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ভরা গ্যালারির সামনে ট্রফি হাতে তোলাই ছিল আমার স্বপ্ন। কিন্তু ঈশ্বরের অন্য পরিকল্পনা ছিল। জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোর একটির উদযাপনের মঞ্চে থাকতে না পারার কষ্ট ছিল।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমার ত্রিশূর টাইটান্স পরিবারের সব সতীর্থ, কোচ, কর্তাদের ধন্যবাদ। বিশেষ করে দলের মালিক সাজিদ স্যারকে ধন্যবাদ। কেরল ক্রিকেট সংস্থা এবং প্রতিযোগিতার আয়োজকদেরও ধন্যবাদ জানাই। সমর্থক, পরিবার ও কোচদের ভালোবাসা, সমর্থন এবং প্রার্থনার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এক বার টাইটান, সব সময় টাইটান।’
শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
ত্রিশূরের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রজারের। ১২ ম্যাচে ২৬৯ রান করেন তিনি। একটি অর্ধশতরানও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। লিগ পর্বে ১০ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছিল ত্রিশূর। তবে দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অন্যতম নায়ক ছিলেন শৌন রজার, যাঁর জন্য ট্রফি জয়ের আনন্দও শেষ পর্যন্ত আবেগের রঙে রাঙিয়ে দিল গোটা দল।