১ কোটি কাচের চুড়িতে সাজছে বিশাল গণেশ মূর্তি
বিশাখাপত্তনম: গণেশ চতুর্থী (Ganesh Chaturthi 2026) উপলক্ষে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে এবার তৈরি হচ্ছে এক নজরকাড়া গণেশ মূর্তি। ১ কোটিরও বেশি কাচের চুড়ি দিয়ে সাজানো এই বিশাল…
বিশাখাপত্তনম: গণেশ চতুর্থী (Ganesh Chaturthi 2026) উপলক্ষে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে এবার তৈরি হচ্ছে এক নজরকাড়া গণেশ মূর্তি। ১ কোটিরও বেশি কাচের চুড়ি দিয়ে সাজানো এই বিশাল মূর্তি ২০২৬ সালের গণেশোৎসবের অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে চলেছে। মূর্তিটি দেখতে গজওয়াকার শ্রীনগর এলাকায় ভিড় জমাতে পারেন দর্শনার্থীরা।
মূর্তিটির নাম শ্রী দিব্য কঙ্কণ অলঙ্কার মহা গণপতি। শহরের এসভি এন্টারটেইনমেন্টসের উদ্যোগে গজওয়াকার শ্রীনগর এলাকায় এটি স্থাপন করা হচ্ছে। বিশাল গণেশ মূর্তির সঙ্গে চুড়ির মতো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় অলঙ্কারের প্রতীককে মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই বিশেষ ভাবনা।
১ কোটি কাচের চুড়িই মূর্তির মূল আকর্ষণ
আয়োজকদের দাবি, গণেশ মূর্তিটি সাজাতে ব্যবহার করা হয়েছে ১,০০,০০,০০০-এরও বেশি কাচের চুড়ি। এই চুড়িগুলি উত্তরপ্রদেশ থেকে আনা হয়েছে। মূর্তির কাঠামো এবং জটিল সাজসজ্জার কাজে অন্ধ্রপ্রদেশের চিরালার শিল্পীরাও যুক্ত রয়েছেন। আয়োজকদের মতে, ছোট কাঠের গুঁড়ি ও বেত-সহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে বিশাল এই কাঠামো। চুড়ি দিয়ে পুরো মূর্তিকে সাজানোর ফলে এটি শুধু ধর্মীয় আবেগের কেন্দ্র হয়ে উঠছে না, বরং ভারতীয় কারুশিল্পেরও এক অনন্য প্রদর্শনী হয়ে উঠেছে।
আগেও বিশাল গণেশ মূর্তি তৈরি করেছে এসভি এন্টারটেইনমেন্টস
গজওয়াকায় বড় ও থিমভিত্তিক গণেশ মূর্তি তৈরির ক্ষেত্রে এসভি এন্টারটেইনমেন্টসের পরিচিতি রয়েছে। ২০২৫ সালে সংস্থাটি ৮৯ ফুটের গণেশ মূর্তি তৈরি করেছিল। সেই মূর্তিটি সাজানো হয়েছিল প্রায় ১ লক্ষ সুতির ও রেশমের শাড়ি দিয়ে। তার আগের বছরগুলিতেও বড় আকারের বিভিন্ন থিমের গণেশ মূর্তি তৈরি করেছিল তারা।
Advertisements
তবে ২০২৬ সালের মূর্তির উচ্চতা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। জুলাই ২০২৬-এর একটি টাইমস অফ ইন্ডিয়া প্রতিবেদনে মূর্তিটির উচ্চতা ৮৯ ফুট বলা হয়েছিল। আবার আয়োজকদের বর্তমান গজওয়াকা গণেশ উৎসব ওয়েবসাইটে উচ্চতা ৬৮ ফুট উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আবার ১০৯ ফুট উচ্চতার কথা বলা হয়েছে। ফলে মূর্তিটির চূড়ান্ত উচ্চতা নিয়ে কিছুটা অসঙ্গতি রয়েছে।
১৪ সেপ্টেম্বর গণেশ চতুর্থী
২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর। গজওয়াকায় চতুর্থী তিথি শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৬ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে। দ্রিক পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী, গজওয়াকায় গণেশ পুজোর মধ্যাহ্ন মুহূর্ত ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ৩৯ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৬ মিনিট পর্যন্ত। উৎসবের সমাপ্তি হবে ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার, অনন্ত চতুর্দশীর দিনে গণেশ বিসর্জনের মাধ্যমে।
থাকছে লেজার শো ও ওয়াটার-স্ক্রিন শো
আয়োজকদের বর্তমান উৎসবসূচি অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থল হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে গজওয়াকা উৎসব গ্রাউন্ডস। গণেশ চতুর্থীর সময় প্রতিদিন বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সন্ধ্যার দিকে থাকছে থ্রি-ডি লেজার শো এবং ওয়াটার-স্ক্রিন শো। এর পাশাপাশি পুজোর আচার, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিও থাকবে।
দর্শনার্থীদের মূল আকর্ষণ হবে ১ কোটি চুড়ির গণেশ
বিশাখাপত্তনমের গজওয়াকার এই গণেশ মূর্তির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে ১ কোটিরও বেশি কাচের চুড়ি। লক্ষ লক্ষ আলাদা কাচের চুড়িকে একত্র করে গণেশ মূর্তির অলঙ্করণের প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার করার ভাবনা এটিকে সাধারণ গণেশ মূর্তি থেকে আলাদা করে তুলেছে। ভক্তির পাশাপাশি ভারতীয় ঐতিহ্য, অলঙ্কারশিল্প ও কারুশিল্পের এই মেলবন্ধন ২০২৬ সালের গণেশোৎসবে বিশাখাপত্তনমের গজওয়াকাকে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র করে তুলতে পারে।