Indian Railways: ইমার্জেন্সি সিগন্যাল দিয়ে দাঁড় করানো হল দার্জিলিং মেল, তারপরই কান্না থামল শিশুর | Indian Railways Stops Darjeeling Mail Train in Naihati to Deliver Milk for a Baby, Sets a Heartwarming Example - 24 Ghanta Bangla News
Home

Indian Railways: ইমার্জেন্সি সিগন্যাল দিয়ে দাঁড় করানো হল দার্জিলিং মেল, তারপরই কান্না থামল শিশুর | Indian Railways Stops Darjeeling Mail Train in Naihati to Deliver Milk for a Baby, Sets a Heartwarming Example

Spread the love

খুদের জন্য পৌঁছে দেওয়া হল দুধ।Image Credit: TV9 বাংলা

কলকাতা: কথায় আছে, সবার উপরে মানব সত্য। সেই মানবিকতারই পরিচয় দিল ভারতীয় রেলওয়ে। যেখানে স্টপেজ নেই, সেখানে ট্রেন থামানো হল শুধুমাত্র একরত্তির মুখে একটু দুধ পৌঁছে দিতে।

ফরাক্কার লাইনে ধসের জেরে বিচ্ছিন্ন উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ পথ। এর জেরে একাধিক ট্রেন যেমন বাতিল হয়ে গিয়েছে, তেমনই বহু ট্রেন ঘুরপথে চলছে। তার জেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেট হচ্ছে ট্রেন। এমনই লেটে চলছিল দার্জিলিং মেল। আট ঘণ্টা দেরিতে চলা দার্জিলিং মেল জরুরি ভিত্তিতে থামল নৈহাটিতে। খিদেতে ছটফট করতে থাকা একরত্তি শিশুর মায়ের হাতে পৌঁছে দেওয়া হল দুধ।

ফরাক্কা বিপর্যয়ের জেরে একাধিক উত্তরবঙ্গ ফিরতি ট্রেন বিকল্প রুট দিয়ে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। তার মধ্যে ঘটল এই নজিরবিহীন ঘটনা। নৈহাটি স্টেশনে সূচি অনুযায়ী স্টপেজ না থাকলেও, সেই স্টেশনে দার্জিলিং মেল থামানো হল। এরপর রেল কর্মীরা একরত্তি শিশুর মায়ের কাছে দুধের প্যাকেট পৌঁছে দেন, যাতে ওই শিশুটির খিদে মেটে।

প্রায় আট ঘন্টা দেরিতে চলছিল শিয়ালদহ ডিভিশনের অন্যতম প্রিমিয়াম ট্রেন দার্জিলিং মেল। উত্তরবঙ্গ থেকে মালদহ পর্যন্ত নির্দিষ্ট রুটে আসার পর, সেখান থেকে বিকল্প রুটে ট্রেনটিকে ঘোরানো হয়। সেই ট্রেনেই যাত্রী ছিলেন এক মহিলা এবং তাঁর একরত্তি সন্তান। কিশানগঞ্জ থেকে ওই যাত্রী দার্জিলিং মেলের এ২ (A2) কামরায় ওঠেন। সাইড লোয়ার বার্থ ৩৫ নম্বর আসনে তিনি ছিলেন সন্তানকে নিয়ে।

মালদহ থেকে যখন ট্রেনটিকে অন্য রুটে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়, তারপর থেকে আর কোনও স্টেশনে থামার কথা ছিল না। এদিকে ওই মহিলা জানতেন, মালদহের পর যে স্টেশন আসবে, সেখান থেকে নিজের আত্মীয়র মাধ্যমে বাচ্চার জন্য দুধ পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু ট্রেনটিকে ঘুরিয়ে দেওয়ায় তিনি সমস্যায় পড়ে যান। উত্তর প্রদেশে থাকা নিজের স্বামীকে ফোন করে বিষয়টি জানান ট্রেনের মধ্যে থেকেই।

ওই মহিলার স্বামী আজগার আলি সঙ্গে সঙ্গে “রেল মদত” অ্যাপে জানান যে ট্রেনে তাঁর স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। একরত্তির জন্য একটু যেন দুধের ব্যবস্থা করা হয়।  শিয়ালদহের কমার্শিয়াল কন্ট্রোল বিভাগের কাছে খবর যাওয়া মাত্রই ডিআরএম-এর নজরে আনা হয় বিষয়টি।

এরপর ট্রেনটি ব্যান্ডেল স্টেশনে পৌঁছলে রেল কর্মীরা ওই মহিলা যাত্রীকে খোঁজার চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। এরপর নৈহাটিতে রেল কর্মীরা জরুরি সিগন্যাল দিয়ে ট্রেনটিকে থামান। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করানোর পর রেলকর্মীরা ওই মহিলা যাত্রীকে খুঁজে পান। তারপর ওই মহিলার হাতে তাঁর সন্তানের জন্য দুধের বোতল তুলে দেন।

স্বাভাবিকভাবেই এতে খুশি ওই মহিলার স্বামী। উত্তর প্রদেশ থেকে ফোনে তিনি জানালেন, বিপর্যয়ের জন্য ট্রেন ঘুরিয়ে দিচ্ছে। এতে সমস্যায় পড়েছিলেন তাঁর স্ত্রী এবং সন্তান। তবে রেলকে জানানো মাত্রই তাঁর সন্তানের জন্য দুধ পাঠানো হয়েছে। তিনি রেলের ভূমিকায় যথেষ্ট প্রশংসা করেন।

বিপর্যয়ের কারণে দার্জিলিং মেল নির্দিষ্ট সময়ের পরিবর্তে প্রায় ৮ ঘণ্টা পরে দুপুর ১:৪৩ মিনিট নাগাদ শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *