মেয়ের বয়স ৫? আজ ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে ২০ বছর পর কত পাবেন?
কলকাতা: আপনার পাঁচ বছর বয়সি কন্যার ভবিষ্যতের জন্য এখন থেকেই কি দশ লক্ষ টাকার একটি তহবিল আলাদা করে রেখেছেন? এই অঙ্কটা যদি একটু বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে…
কলকাতা: আপনার পাঁচ বছর বয়সি কন্যার ভবিষ্যতের জন্য এখন থেকেই কি দশ লক্ষ টাকার একটি তহবিল আলাদা করে রেখেছেন? এই অঙ্কটা যদি একটু বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিনিয়োগ করা যায়, তবে তা তার উচ্চশিক্ষা এবং অন্যান্য লক্ষ্যের জন্য একটি বিরাট অঙ্কের সম্পদে পরিণত হতে পারে। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ছক বা পোর্টফোলিও তৈরির পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, দশ লক্ষ টাকার মতো বড় অঙ্ক কখনই একটিমাত্র ফান্ড বা স্কিমে আটকে রাখা উচিত নয়। বরং বিভিন্ন খাতে ভাগ করে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি কমে এবং ভালো রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়ে।
কোথায় কত টাকা বিনিয়োগ করবেন, সে বিষয়ে চয়েস ওয়েলথ-এর সিইও নিকুঞ্জ সারাফ একটি স্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছেন। তাঁর মতে, যেহেতু মেয়ের বয়স এখন মাত্র পাঁচ বছর, তাই তার গ্র্যাজুয়েশন বা উচ্চশিক্ষার জন্য হাতে অন্তত ১৩ থেকে ১৫ বছর সময় রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘টাইমিং’-এর চেয়েও বড় বিষয় হলো ‘টাইম’ বা সময়। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, মোট দশ লক্ষ টাকার প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ, অর্থাৎ সাড়ে ছ’লক্ষ থেকে সাত লক্ষ টাকা বিভিন্ন ডাইভার্সিফায়েড ইক্যুইটি এবং ইনডেক্স ফান্ডে বিনিয়োগ করতে হবে। এটি একলপ্তে না করে এসটিপি বা ‘সিস্টেমেটিক ট্রান্সফার প্ল্যান’-এর মাধ্যমে করলে বাজারের ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো যায় এবং কম্পাউন্ডিংয়ের দারুণ সুবিধা পাওয়া যায়। পাশাপাশি, নিরাপত্তার জন্য এবং একটি নিশ্চিত রিটার্ন পেতে বছরে দেড় লক্ষ টাকা করে ‘সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা’-তে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে এতে ৮.২ শতাংশ হারে করমুক্ত সুদ পাওয়া যাচ্ছে। নিকুঞ্জের মতে, মেয়ে যখন ১৮ বছরের কাছাকাছি পৌঁছবে, তখন ইক্যুইটি থেকে টাকা তুলে ধীরে ধীরে তুলনামূলক নিরাপদ ফান্ডে সরিয়ে নেওয়া উচিত।
কুড়ি বছর পর এই দশ লক্ষ টাকার অঙ্কটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে, তার একটি তুলনামূলক হিসেব তুলে ধরেছেন মিনইএমআই-এর সিওও কপিল মাখিজা। তিনি জানিয়েছেন, কোন ফান্ড ভালো সেটা বিচার করার চেয়ে দেখা উচিত কুড়ি বছর পর কোথায় রাখলে কত টাকা হবে। তাঁর হিসেব অনুযায়ী, ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটে ৭ শতাংশ সুদে কুড়ি বছরে এই দশ লক্ষ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৩৯ লক্ষ টাকায়। আবার, সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় ৮.২ শতাংশ সুদে এই টাকা বেড়ে প্রায় ৪৮ লক্ষ টাকা হতে পারে, যদিও এই প্রকল্পে বছরে দেড় লক্ষ টাকার বেশি জমা করার সুযোগ নেই। অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদে সোনায় ৯ শতাংশ রিটার্ন ধরলে তা বেড়ে প্রায় ৫৬ লক্ষ টাকা হবে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ রিটার্ন আসতে পারে ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ড থেকে। সেখানে ১২ শতাংশ হারে রিটার্ন ধরলে কুড়ি বছর পর এই দশ লক্ষ টাকা প্রায় ৯৬ লক্ষ টাকায় পরিণত হতে পারে।
নিরাপত্তা ও বৃদ্ধির এই মেলবন্ধনের বিষয়ে ব্যাঙ্কবাজার-এর সিইও আদিল শেট্টিও একই সুর চড়িয়েছেন। তাঁর মতে, সর্বোত্তম কৌশল হলো ৭০:৩০ অনুপাতে বিনিয়োগ ভাগ করা। অর্থাৎ, সাত লক্ষ টাকা ইক্যুইটি ফান্ডে এবং তিন লক্ষ টাকা সুকন্যা সমৃদ্ধির মতো সরকারি স্কিমে রাখা। সব বিশেষজ্ঞের মতেই একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট যে, দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে ইক্যুইটি ফান্ড, নিরাপত্তার জন্য সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা এবং বাবা-মায়ের অবর্তমানে সন্তানের লক্ষ্য পূরণের জন্য পর্যাপ্ত টার্ম ইন্স্যুরেন্স, এই তিনটির মেলবন্ধনেই তৈরি হতে পারে আপনার মেয়ের জন্য একটি সুরক্ষিত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের মজবুত ভিত।
Advertisements
২০২৭ জুলাই থেকে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পে বাধ্যতামূলক হবে ব্যাটারি স্টোরেজ
বাংলার শিল্পে নয়া মাইলস্টোন! সিমেন্সের সঙ্গে MOU সাক্ষর টিটাগড় রেল সিস্টেমের