৫ কিংবদন্তি Muscle Cars, তালিকায় ফোর্ড মুস্ত্যাং থেকে প্লাইমাউথ হেমি কুডা - 24 Ghanta Bangla News
Home

৫ কিংবদন্তি Muscle Cars, তালিকায় ফোর্ড মুস্ত্যাং থেকে প্লাইমাউথ হেমি কুডা

Spread the love

নয়াদিল্লি: শক্তিশালী ইঞ্জিন, আগ্রাসী ডিজাইন এবং স্পোর্টি পারফরম্যান্সের জন্য আমেরিকান মাসল কার (Muscle Cars) বহু দশক ধরে গাড়িপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের বিষয়। সামনে বড় ক্ষমতার…

নয়াদিল্লি: শক্তিশালী ইঞ্জিন, আগ্রাসী ডিজাইন এবং স্পোর্টি পারফরম্যান্সের জন্য আমেরিকান মাসল কার (Muscle Cars) বহু দশক ধরে গাড়িপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের বিষয়। সামনে বড় ক্ষমতার ইঞ্জিন, পিছনে-পাশে চওড়া বডি এবং তুলনামূলকভাবে সাধারণ স্পোর্টস কারের তুলনায় সহজলভ্য দামে উচ্চ পারফরম্যান্স, এই সহজ ফর্মুলাই মাসল কারকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।

১৯৬০-এর দশকে কার ম্যাগাজিনগুলিতে নতুন ধরনের পারফরম্যান্স কারের শ্রেণি হিসেবে ‘মাসল কার’ শব্দটির ব্যবহার জনপ্রিয় হতে শুরু করে। মূলত তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে তৈরি এই গাড়িগুলি ইউরোপের স্পোর্টস কারগুলির সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। আজকের দিনে সেই সময়ের বেশ কিছু মাসল কার অত্যন্ত বিরল এবং সংগ্রহযোগ্য। তার মধ্যে পাঁচটি উল্লেখযোগ্য মডেল হল:

১. ফোর্ড মুস্ত্যাং ম্যাক ১

মাসল কারের কথা উঠলে ফোর্ড মুস্ত্যাং-এর নাম আসবেই। ১৯৬৪ সালে উৎপাদনে আসা মুস্ত্যাং নিয়ে ফোর্ডের প্রত্যাশা ছিল, ১৯৬৫ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ১ লাখ ইউনিট বিক্রি হবে। বাস্তবে সংস্থাটি বিক্রি করেছিল প্রায় ৬.৮ লাখ ইউনিট।

মুস্ত্যাং-এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় সংস্করণগুলির মধ্যে অন্যতম ম্যাক ১। এটি মূলত পারফরম্যান্স এবং স্পোর্টি লুকের সমন্বয়ে তৈরি একটি পারফরম্যান্স ও অ্যাপিয়ারেন্স প্যাকেজ।

Advertisements


   


   

১৯৬৯ মডেল ইয়ারে প্রথম ম্যাক ১ বাজারে আসে এবং ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত এটি পাওয়া যায়। পরে ২০০৩-০৪ সালে আবার ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর ২০২১ থেকে ২০২৩ সালেও ম্যাক ১ নামটি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ক্লাসিক ম্যাক ১-এর মধ্যে ১৯৬৯ সালের সংস্করণটির গুরুত্ব আলাদা। ওই বছর এর বিক্রি ৭২,০০০ ইউনিটের বেশি ছিল।

২. ১৯৬৯ ডজ চার্জার ডেটোনা

১৯৬০-এর দশক ছিল আমেরিকান মাসল কারের স্বর্ণযুগ। সেই সময় NASCAR-এর প্রতিযোগিতায় অ্যারোডায়নামিক সুবিধা পাওয়ার জন্য ডজ নিয়ে আসে চার্জার ডেটোনা। এর আগের চার্জার ৫০০ NASCAR-এ প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার পর ডেটোনা অ্যারোডায়নামিক প্রতিযোগিতায় আরও বড় ভূমিকা নেয়। গাড়িটির সবচেয়ে পরিচিত বৈশিষ্ট্য ছিল এর বিশেষ অ্যারোডায়নামিক ডিজাইন। রাস্তায় চলার সংস্করণে ছিল ৭.০-লিটারের V8 ইঞ্জিন, যা প্রায় ৪২৫ এইচপি শক্তি উৎপাদন করত।

১৯৬৯ সালের গ্রীষ্মে সীমিত সংখ্যায় তৈরি এই গাড়ি বর্তমানে অত্যন্ত মূল্যবান কালেক্টরস কার। ভালো অবস্থায় থাকা কিছু চার্জার ডেটোনার মূল্য প্রায় ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানা যায়।

৩. ১৯৬৯ শেভরোলে ক্যামারো ZL1

১৯৬৯ সালের শেভরোলে ক্যামারো ZL1 আমেরিকান মাসল কারের ইতিহাসে অন্যতম বিরল মডেল। এই সংস্করণে ব্যবহার করা হয়েছিল ৪২৭ কিউবিক-ইঞ্চি ইঞ্জিন, যার ব্লক ছিল সম্পূর্ণ অ্যালুমিনিয়ামের। অ্যালুমিনিয়াম সিলিন্ডার হেডও ব্যবহার করা হয়েছিল। এটি L88 সংস্করণের ৪২৭ ইঞ্জিনের সঙ্গে অনেকটা সম্পর্কিত হলেও ZL1-এর বিশেষ অ্যালুমিনিয়াম নির্মাণ ছিল এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

কারখানার স্পেসিফিকেশনে গাড়িটির পাওয়ার ৪৩০ এইচপি বলা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রায় ৫২৫ এইচপি পর্যন্ত শক্তি পাওয়া গিয়েছিল বলে রিপোর্ট রয়েছে। শেভরোলে গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন ইঞ্জিন কনফিগারেশন দেওয়ার পাশাপাশি রেসিংয়ের জন্য প্রস্তুত সংস্করণও তৈরি করেছিল।

আজকের দিনে আসল ১৯৬৯ ক্যামারো ZL1 অত্যন্ত বিরল। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই মডেলের কয়েকটি গাড়ি নিলামে প্রায় ১০ লাখ ডলারের কাছাকাছি দামে বিক্রি হয়েছে বলে জানা যায়।

৪. ১৯৭৩ পন্টিয়াক ফায়ারবার্ড ৪৫৫

পন্টিয়াক ফায়ারবার্ড ট্রান্স অ্যাম-এর ১৯৭৩ সালের সংস্করণেও ছিল বিশেষ আকর্ষণ। ওই বছর গাড়িটিতে দুটি নতুন রঙ এবং আপডেটেড এক্সটেরিয়র দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে নতুন ধরনের সামনের নোজ এবং ‘বার্ড’ ডিজাইন গাড়িটির চেহারাকে আরও আলাদা করে তুলেছিল। এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় সংস্করণগুলির একটি ছিল সুপার ডিউটি ৪৫৫ বা SD-455।

এতে ছিল V8 ইঞ্জিন। নির্গমন সংক্রান্ত পরীক্ষার নিয়মও মেনে চলতে হয়েছিল গাড়িটিকে। ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য একাধিক পরিবর্তনের সুযোগ ছিল এবং শেষ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ এইচপি পর্যন্ত শক্তি পাওয়া সম্ভব ছিল। রেস-টিউনিং করা SD-455 ইঞ্জিন থেকে প্রায় ৬০০ এইচপি পর্যন্ত শক্তি পাওয়া যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই মডেলটি অত্যন্ত সীমিত সংখ্যায় তৈরি হয়েছিল। মোট মাত্র ২৫২টি মডেল বিক্রি হয়েছিল বলে তথ্য রয়েছে।

৫. প্লাইমাউথ হেমি কুডা

তালিকার শেষ নামটি নিঃসন্দেহে অন্যতম কাঙ্ক্ষিত ক্লাসিক মাসল কার প্লাইমাউথ হেমি কুডা। প্লাইমাউথ ব্যারাকুডা-র আত্মপ্রকাশ হয়েছিল ফোর্ড মুস্ত্যাং বাজারে আসার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। তবে মুস্ত্যাং-এর মতো ব্যাপক বিক্রি কখনও অর্জন করতে পারেনি এটি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যারাকুডা বিরল হয়ে ওঠে এবং বর্তমানে এটি বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ক্লাসিক মাসল কারগুলির মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। গাড়িটির অন্যতম শক্তিশালী সংস্করণে ছিল ৭.০-লিটারের V8 ইঞ্জিন, যা প্রায় ৪২৫ এইচপি শক্তি উৎপাদন করতে পারত।

ব্যারাকুডার প্রথম প্রজন্ম ক্রাইসলার A-বডি প্ল্যাটফর্মের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল এবং ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত বিক্রি হয়। এটি ছিল দুই দরজার হার্ডটপ ফাস্টব্যাক ডিজাইনের গাড়ি। এর বেশ কিছু বডি পার্ট এবং ডিজাইন এলিমেন্ট প্লাইমাউথ ভ্যালিয়েন্ট-এর সঙ্গে ভাগ করা হয়েছিল।

আজকের বাজারে আসল হেমি কুডার বিরলতা এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বই এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। তাই সাধারণ গাড়ি হিসেবে নয়, বরং অটোমোটিভ ইতিহাসের সংগ্রহযোগ্য সম্পদ হিসেবেই এই পাঁচটি মাসল কারের মূল্য সবচেয়ে বেশি।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *