Mobile Addiction: মোবাইলের নেশায় বদলে যাচ্ছে ব্রেন?
ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল দেখা, কাজ না থাকলেও স্ক্রিন স্ক্রোল করা, সোশ্যাল মিডিয়া এবং OTT-তে দীর্ঘ সময় কাটানো, এই অভ্যাসগুলি যে শরীর ও মনের জন্য ভাল নয়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এর প্রভাব যে মস্তিষ্কের উপরও পড়তে পারে, সেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে মস্তিষ্কের কার্যকলাপ এবং আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে বলে উঠে আসছে গবেষণায়।
স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের সময় মস্তিষ্ককে ক্রমাগত তথ্য, ছবি, ভিডিও এবং নোটিফিকেশনের মতো নানা উদ্দীপনার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। দীর্ঘ সময় এই ধরনের স্ক্রিন-নির্ভর অভ্যাস চলতে থাকলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজের ধরনেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ, শুধু চোখ বা ঘুমের উপর নয়, দীর্ঘমেয়াদি স্ক্রিন ব্যবহারের প্রভাব মস্তিষ্কের কার্যপ্রক্রিয়ার সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।
এই পরিবর্তনকে ঘিরেই আলোচনায় এসেছে ‘ব্রেন মোবাইল’ শব্দবন্ধটি। তবে এটি কোনও স্বীকৃত চিকিৎসাবিজ্ঞানসম্মত রোগের নাম নয়। মস্তিষ্কের পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা চলছে এবং দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন হয়, তার প্রভাব কতটা স্থায়ী এবং তা আদৌ ক্ষতিকর কি না, এসব প্রশ্নের এখনও চূড়ান্ত উত্তর নেই।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহারের সময়সীমা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। বিশেষ করে প্রয়োজন না থাকলেও বারবার ফোন হাতে নেওয়া, উদ্দেশ্যহীনভাবে স্ক্রল করা এবং দীর্ঘ সময় সোশ্যাল মিডিয়া বা OTT-তে ডুবে থাকা অভ্যাসে পরিণত হলে সতর্ক হওয়া দরকার। কারণ মস্তিষ্কের আচরণে হঠাৎ কোনও পরিবর্তন শুরু হলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।
বিজ্ঞানীরা আরও গবেষণা এবং পরীক্ষার মাধ্যমে এই পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে পরিষ্কার সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছেন। ফলে আপাতত ‘ব্রেন মোবাইল’ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে স্ক্রিন টাইম কমানো, নিয়মিত বিরতি নেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহারে লাগাম দেওয়াই নিরাপদ পথ।