Ather Konarc লঞ্চের আগে ২,০০০ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, ১ লাখ কিমির সমতুল্য টেস্ট
বেঙ্গালুরু: ভারতের বাজারে লঞ্চের আগে নতুন ইলেকট্রিক স্কুটার Ather Konarc-এর উপর একের পর এক কঠিন পরীক্ষা চালাচ্ছে অ্যাথার Energy। আগামী ২৯ আগস্ট বেঙ্গালুরুতে অ্যাথার Community Day 2026 অনুষ্ঠানে স্কুটারটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হওয়ার কথা। সংস্থার নতুন মডিউলার EL প্ল্যাটফর্ম-এর উপর তৈরি এটি প্রথম প্রোডাকশন মডেল।
অ্যাথার -এর লক্ষ্য, কোনার্ক-কে তুলনামূলক বেশি সংখ্যক ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া। অর্থাৎ এটি সংস্থার আরও মূলধারার এবং বেশি বিক্রির মডেল হিসেবে বাজারে আসতে পারে। লঞ্চের আগে তাই স্কুটারটির নির্ভরযোগ্যতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে বিশেষভাবে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
প্রায় ২ হাজার পরীক্ষায় কোনার্ক
অ্যাথার -এর প্রকাশ করা একটি ভিডিয়োতে নতুন কোনার্ক-কে সংস্থার নিজস্ব পরীক্ষাকেন্দ্র The Juggernaut-এ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। সংস্থার দাবি, কোনার্ক-এর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে প্রায় ২,০০০টি আলাদা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই পরীক্ষাগুলি মিলিয়ে বাস্তবে ১ লক্ষ কিলোমিটারের বেশি চালানোর সমতুল্য পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। শুধু সাধারণ রাস্তায় স্কুটার চালিয়ে পরীক্ষা করেই থেমে থাকেনি অ্যাথার । দীর্ঘদিন ব্যবহারের সময় স্কুটারের বিভিন্ন অংশ কী ধরনের চাপ সহ্য করতে পারে, সেটিও আলাদা করে যাচাই করা হয়েছে।
ড্রপ টেস্ট থেকে ভাইব্রেশন, সবই হয়েছে
কোনার্ক-এর উপর ড্রপ টেস্ট, অতিরিক্ত ওজন বহনের পরীক্ষা, ভাইব্রেশন সাইকেল এবং কম্প্রেশন টেস্ট চালানো হয়েছে। এই পরীক্ষাগুলির মাধ্যমে স্কুটারের কাঠামো এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দীর্ঘদিন ব্যবহারের সময় কতটা চাপ সহ্য করতে পারে, তা বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। ভারতের রাস্তায় গর্ত, অসমান রাস্তা এবং বারবার ধাক্কা খাওয়ার মতো পরিস্থিতি মাথায় রেখে স্কুটারটির উপর বিশেষ পরীক্ষা চালানো হয়েছে।
বৃষ্টি ও জলের মধ্যেও পরীক্ষা
ভারতের আবহাওয়া এবং রাস্তার পরিস্থিতি মাথায় রেখে কোনার্ক-কে বিভিন্ন কঠিন পরিবেশের মধ্যেও পরীক্ষা করেছে অ্যাথার । এর মধ্যে রয়েছে:
- প্রবল বৃষ্টির সিমুলেশন
- জল পেরিয়ে চলার পরীক্ষা
- গভীর জলে চালানোর পরীক্ষা
- বন্যার মতো পরিস্থিতির সিমুলেশন
এই পরীক্ষাগুলির মূল লক্ষ্য হল স্কুটারের বৈদ্যুতিক সিস্টেম এবং অন্যান্য সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ কতটা সুরক্ষিত থাকে, তা যাচাই করা। বিশেষ করে ইলেকট্রিক স্কুটারের ক্ষেত্রে জল ঢুকে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে সমস্যা তৈরি না হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই জল এবং আর্দ্রতার বিরুদ্ধে সুরক্ষার উপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গর্ত এবং উঁচু রাস্তার ধাক্কাও সামলাতে হবে
ভারতের শহর ও শহরতলির রাস্তায় গর্ত বা উঁচু রাস্তার ধারে ধাক্কা খাওয়া খুবই সাধারণ বিষয়। তাই কোনার্ক-এর আন্ডারবডি নিয়েও বিশেষ পরীক্ষা চালানো হয়েছে। কের্ব ইমপ্যাক্ট টেস্টের পাশাপাশি একটি রাফ-রোড সিমুলেটর ব্যবহার করে একই ধরনের ধাক্কা এবং কম্পন বারবার তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের রাস্তার ধাক্কা অল্প সময়ের মধ্যে অনুকরণ করে স্কুটারের স্থায়িত্ব যাচাই করা হয়েছে।
স্টিয়ারিং থেকে ব্রেক, সবকিছুই পরীক্ষার আওতায়
শুধু মূল চ্যাসিস নয়, দৈনন্দিন ব্যবহারে বারবার ব্যবহার করা হয় এমন বিভিন্ন অংশের উপরও পরীক্ষা চালিয়েছে অ্যাথার । এর মধ্যে রয়েছে হ্যান্ডেলবার, স্টিয়ারিং অ্যাসেম্বলি, ব্রেকিং সিস্টেম, সাসপেনশন, সেন্টার স্ট্যান্ড, সুইচ, কেবল এবং কী-লক মেকানিজম। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরে এই অংশগুলিতে যাতে অতিরিক্ত ক্ষয় বা কার্যক্ষমতার সমস্যা না হয়, তা যাচাই করাই এই পরীক্ষাগুলির উদ্দেশ্য।
প্রচণ্ড গরম ও ঠান্ডাতেও পরীক্ষা
কোনার্ক-কে বিভিন্ন তাপমাত্রায় পরীক্ষা করার জন্য থার্মাল চেম্বার ট্রায়ালও করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অত্যন্ত গরম বা তুলনামূলক ঠান্ডা পরিবেশে স্কুটারের বৈদ্যুতিক এবং যান্ত্রিক অংশগুলি কীভাবে কাজ করে, তা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জল ও বৃষ্টির পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক অংশের সিলিং এবং নির্ভরযোগ্যতাও যাচাই করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ভাইব্রেশন দিয়ে স্কুটারের রাস্তার ধাক্কা সহ্য করার ক্ষমতাও পরীক্ষা করা হয়েছে।
স্টিল চ্যাসিস ও মেটাল বডি
অ্যাথার ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছে যে কোনার্ক-এ স্টিল চ্যাসিস এবং মেটাল এক্সটেরিয়র বডি প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। দৈনন্দিন ব্যবহারে স্কুটারটিকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যেই এই নির্মাণ পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পরীক্ষার ভিডিয়ো থেকে আরও জানা গিয়েছে, স্কুটারটিতে সুইংআর্ম-মাউন্টেড মোটর, সামনে ১৪ ইঞ্চি চাকা এবং পিছনে ১২ ইঞ্চি চাকা থাকছে।
দাম ও ব্যাটারি নিয়ে এখনও রহস্য
অ্যাথার এখনও কোনার্ক-এর সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন প্রকাশ করেনি। ফলে আপাতত জানা যায়নি স্কুটারটির ব্যাটারি কত বড় হবে, এক চার্জে কত কিলোমিটার চলবে, মোটরের শক্তি কত হবে কিংবা কতগুলি ভ্যারিয়েন্ট বাজারে আসবে। দাম নিয়েও সংস্থার তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবে বাজারে প্রায় ১ লক্ষ টাকা থেকে ১.২৫ লক্ষ টাকা দামের মধ্যে কোনার্ক আসতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই দাম এখনও নিশ্চিত নয়। এই দামের মধ্যে লঞ্চ হলে কোনার্ক-এর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে বাজাজ চেতক এবং টিভিএস আইকিউব-এর মতো জনপ্রিয় ইলেকট্রিক স্কুটার থাকতে পারে।
অ্যাথার -এর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ কোনার্ক?
কোনার্ক শুধু অ্যাথার -এর নতুন একটি ইলেকট্রিক স্কুটার নয়, সংস্থার নতুন EL প্ল্যাটফর্মের প্রথম প্রোডাকশন মডেল। ফলে এই মডেলের সাফল্য ভবিষ্যতের আরও একাধিক মডেলের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। লঞ্চের আগে প্রায় ২ হাজার পরীক্ষার মাধ্যমে ১ লক্ষ কিলোমিটারের বেশি ব্যবহারের সমতুল্য পরিস্থিতি তৈরি করার দাবি থেকে স্পষ্ট, অ্যাথার এবার স্কুটারটির দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা এবং ভারতীয় রাস্তার উপযোগিতা নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
আগামী ২৯ আগস্ট অ্যাথার Community Day-তে কোনার্ক-এর সম্পূর্ণ ডিজাইন, ব্যাটারি, রেঞ্জ, মোটর, ফিচার, ভ্যারিয়েন্ট এবং দাম প্রকাশিত হলে ছবিটা আরও পরিষ্কার হবে।