চিনের জি-২১ স্টেলথ ড্রোনের উড়ান পরীক্ষা, চূড়ান্ত সমুদ্র পরীক্ষায় সিচুয়ান - 24 Ghanta Bangla News
Home

চিনের জি-২১ স্টেলথ ড্রোনের উড়ান পরীক্ষা, চূড়ান্ত সমুদ্র পরীক্ষায় সিচুয়ান

Spread the love

বেজিং: চিন (China Military) তাদের অত্যাধুনিক জি-২১ স্টেলথ অ্যাটাক ড্রোনের উড়ান পরীক্ষা করেছে। একই সময়ে প্রায় ৪০ হাজার টনের টাইপ ০৭৬ ‘সিচুয়ান’ অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপ…

বেজিং: চিন (China Military) তাদের অত্যাধুনিক জি-২১ স্টেলথ অ্যাটাক ড্রোনের উড়ান পরীক্ষা করেছে। একই সময়ে প্রায় ৪০ হাজার টনের টাইপ ০৭৬ ‘সিচুয়ান’ অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপ তার চূড়ান্ত সমুদ্র পরীক্ষায় প্রবেশ করেছে। এই যুদ্ধজাহাজটিকেই ড্রোন পরিচালনার জন্য চিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসে চিনের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত তিনটি ভিডিওতে উত্তর-পূর্ব চিনের লিয়াওনিং প্রদেশের হুলুদাও শহরের একটি হাইওয়ে সার্ভিস এলাকার উপর দিয়ে জি-২১ ড্রোনকে উড়তে দেখা যায়। জি-২১ হল নৌবাহিনীর জন্য তৈরি একটি স্টেলথ অ্যাটাক ড্রোন। এটি মূল জি-১১ স্টেলথ অ্যাটাক ড্রোনের নৌ সংস্করণ হিসেবে পরিচিত।

প্যারেডে আত্মপ্রকাশ, এবার উড়ান পরীক্ষা

জি-২১ প্রথমবার প্রকাশ্যে আসে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে চিনের ‘ভিক্টরি ডে’ সামরিক কুচকাওয়াজে। এরপর অবশ্য ড্রোনটির প্রকাশ্য উপস্থিতি খুবই সীমিত ছিল। চলতি বছরের জুলাইয়ে চিনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি কম্পিউটার-জেনারেটেড ফুটেজ সম্প্রচার করে, যেখানে টাইপ ০৭৬ সিচুয়ান থেকে জি-২১ ড্রোন উৎক্ষেপণের দৃশ্য দেখানো হয়।  সেই সম্প্রচারে এক বিশেষজ্ঞের বক্তব্য উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, সিচুয়ান তার পরীক্ষার চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এবার জি-২১-এর উড়ান পরীক্ষার খবর সামনে আসায় যুদ্ধজাহাজ এবং এই স্টেলথ ড্রোনের সমন্বিত ব্যবহারের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে নজর পড়েছে।

বিশ্বের প্রথম ড্রোন ক্যারিয়ার হিসেবে সিচুয়ান

চিনের টাইপ ০৭৬ সিচুয়ানকে বিশ্বের প্রথম ড্রোন ক্যারিয়ার হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। জাহাজটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট সিস্টেম।  এই ব্যবস্থার সাহায্যে জাহাজটি শুধু হেলিকপ্টার নয়, বিভিন্ন ধরনের ক্রু-সহ এবং চালকবিহীন ফিক্সড-উইং বিমানও পরিচালনা করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে। জি-২১-এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও চালকবিহীন বিমান এই প্ল্যাটফর্ম থেকে পরিচালিত হতে পারে। ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট প্রযুক্তি সাধারণত বিমানবাহী রণতরীর সঙ্গে বেশি পরিচিত। কিন্তু সিচুয়ানের মতো অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপে এর ব্যবহার চিনের নৌবাহিনীর বিমান পরিচালনার সক্ষমতাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

কেমন এই সিচুয়ান?

পূর্ণ লোডে সিচুয়ানের ওজন ৪০ হাজার টনেরও বেশি। এটি মূলত অ্যাম্ফিবিয়াস অপারেশনের জন্য তৈরি। অর্থাৎ সৈন্য, ল্যান্ডিং ক্রাফট, সাঁজোয়া যান এবং বিভিন্ন ধরনের বিমান বহন করে উপকূলীয় এলাকায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারবে।  তবে এর বিমান পরিচালনার সক্ষমতার কারণে জাহাজটির ভূমিকা শুধু প্রচলিত অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। চিনের সামরিক পরিকল্পনায় তাই সিচুয়ানকে একটি বহুমুখী সমুদ্রভিত্তিক বিমান ও ড্রোন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কিংদাওয়ের কাছে চিনা নৌবহরের গতিবিধি

বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী এমটি অ্যান্ডারসন প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতেও সিচুয়ানের অবস্থান নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসে। ছবিতে ২৫ আগস্ট কিংদাও নৌঘাঁটির কাছে সিচুয়ানকে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।  সিচুয়ানের সঙ্গে সেখানে দুটি টাইপ ০৫২ ডেস্ট্রয়ার এবং তিনটি টাইপ ০৫৪ ফ্রিগেট থাকার ছবিও প্রকাশিত হয়েছে। কিংদাও হল চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির নর্দার্ন থিয়েটার কমান্ডের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি।

তাইওয়ানকে ঘিরে কেন গুরুত্বপূর্ণ?

চিনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সিচুয়ানকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সম্ভাব্য তাইওয়ান সংঘাতের পরিস্থিতিতে এই ধরনের একটি প্ল্যাটফর্ম চিনা বাহিনীকে দূরবর্তী এলাকায় সৈন্য, যানবাহন এবং বিমান মোতায়েনে অতিরিক্ত নমনীয়তা দিতে পারে।  বিশেষ করে স্টেলথ ড্রোন যুক্ত হলে জাহাজটি নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য সামরিক মিশনে আরও কার্যকর হতে পারে।  জি-২১-এর মতো চালকবিহীন প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার আরও একটি সুবিধা দিতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মানবচালিত বিমান পাঠানোর পরিবর্তে ড্রোন ব্যবহার করলে পাইলটের জীবনের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তবে জি-২১-এর প্রকৃত যুদ্ধক্ষমতা, সেন্সর, অস্ত্র বহনের ক্ষমতা এবং সিচুয়ান থেকে এর নিয়মিত অপারেশনাল ব্যবহার সম্পর্কে চিন এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

চিনের নৌবাহিনী চলতি বছরের শেষ নাগাদ সিচুয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে জি-২১-এর সাম্প্রতিক উড়ান পরীক্ষা এবং সিচুয়ানের চূড়ান্ত সমুদ্র পরীক্ষা চিনের সমুদ্রভিত্তিক ড্রোন যুদ্ধক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *