এলওসিতে তুরস্কের Bayraktar TB2 ড্রোন মোতায়েন পাকিস্তানের, নজরে ভারতীয় সেনার অবস্থান
নয়াদিল্লি: লাইন অব কন্ট্রোল বা এলওসি বরাবর তুরস্কে তৈরি বায়রাকতার টিবি২ (Bayraktar TB2) ড্রোন ব্যবহার করছে পাকিস্তান। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির নজরদারিতে এই ড্রোনগুলির উপস্থিতি ধরা…
নয়াদিল্লি: লাইন অব কন্ট্রোল বা এলওসি বরাবর তুরস্কে তৈরি বায়রাকতার টিবি২ (Bayraktar TB2) ড্রোন ব্যবহার করছে পাকিস্তান। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির নজরদারিতে এই ড্রোনগুলির উপস্থিতি ধরা পড়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সেনার অবস্থান পর্যবেক্ষণ এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের কাজে এই মনুষ্যবিহীন আকাশযান ব্যবহার করা হচ্ছে বলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়নে উঠে এসেছে।
সীমান্তে নজরদারিতে বায়রাকতার টিবি২
তুরস্কের প্রতিরক্ষা সংস্থা বায়কার তৈরি বায়রাকতার টিবি২ একটি মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘক্ষণ উড়তে সক্ষম সামরিক ড্রোন। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে হামলার কাজেও এই ইউএভি ব্যবহার করা যায়। প্রায় ২৭ ঘণ্টা পর্যন্ত আকাশে থাকার সক্ষমতা এবং প্রায় ২৭ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে পারার ক্ষমতা এই ড্রোনকে দীর্ঘক্ষণ সীমান্ত এলাকায় নজরদারির জন্য কার্যকর করে তুলেছে।
উন্নত ক্যামেরায় সংগ্রহ করে সীমান্তের তথ্য
বায়রাকতার টিবি২-তে ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল এবং ইনফ্রারেড সেন্সর ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে দূর থেকে উচ্চমানের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা সম্ভব। এলওসির কাছে এই ধরনের দীর্ঘক্ষণ উড়তে সক্ষম ড্রোন মোতায়েন থাকলে সীমান্তের ভূখণ্ড, সেনা অবস্থান এবং গতিবিধি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে। ফলে সীমান্তে প্রতিপক্ষের কার্যকলাপ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন
২০২২ সাল থেকেই পাকিস্তানের হাতে টিবি২
পাকিস্তান প্রায় ২০২২ সাল থেকে বায়রাকতার টিবি২ ড্রোন নিজেদের সামরিক ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করেছে বলে জানা যায়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংঘাতে এই ড্রোনের ব্যবহারও এর আগে নজরে এসেছে। বিশেষ করে ইউক্রেন সংঘাতে রুশ সামরিক সরঞ্জামের বিরুদ্ধে এবং নাগোরনো-কারাবাখ সংঘাতে এর ব্যবহার আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল।
এলওসির কাছে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন তৈরির খবর
সাম্প্রতিক কিছু গোয়েন্দা রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানি সেনা পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের কয়েকটি এলাকায় ড্রোন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং মোবাইল লঞ্চ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। মুজাফফরাবাদ ও কোটলির মতো কৌশলগত এলাকাগুলিতে এই ধরনের পরিকাঠামো তৈরির খবর সামনে এসেছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। এলওসির কাছাকাছি ড্রোন পরিচালনার পরিকাঠামো থাকলে সীমান্তে পৌঁছতে ড্রোনের সময় কমবে। ফলে সংবেদনশীল এলাকায় আরও বেশি সময় নজরদারি চালানোর সুযোগ পেতে পারে পাকিস্তান।
ভারতীয় সেনার জন্য কেন বাড়ছে চ্যালেঞ্জ?
দীর্ঘক্ষণ আকাশে থাকতে সক্ষম ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত নজরদারি চালানো সম্ভব। এর ফলে সেনা মোতায়েনের ধরন, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অবস্থান এবং সীমান্তের ভূখণ্ড সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি তথ্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে এলওসির মতো সংবেদনশীল এলাকায় এই ধরনের ধারাবাহিক নজরদারি ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
পাল্টা প্রস্তুতিতে ভারত
ড্রোননির্ভর নজরদারি ও হামলার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ভারতও সীমান্ত এলাকায় কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তি, সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল এবং সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করছে। ফলে এলওসিতে বায়রাকতার টিবি২-এর মতো দীর্ঘপাল্লার নজরদারি ড্রোনের উপস্থিতি ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে আধুনিক ইলেকট্রনিক ও ড্রোন যুদ্ধের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।