সোনিয়ার স্মৃতিকথা নিয়ে বিতর্ক, পাশে দাঁড়ালেন কেরলের কংগ্রেস নেতারা
তিরুঅনন্তপুরম: সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অফ লাভ’ প্রকাশকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে তাঁর পাশে দাঁড়ালেন কেরলের কংগ্রেস নেতারা। শুক্রবার কেরলের…
তিরুঅনন্তপুরম: সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অফ লাভ’ প্রকাশকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে তাঁর পাশে দাঁড়ালেন কেরলের কংগ্রেস নেতারা। শুক্রবার কেরলের দুই মন্ত্রী কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীর সমর্থনে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় প্রকাশনা সংক্রান্ত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে। পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ভারতে সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথাটি প্রকাশ করছে না তারা। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউসেরই একটি মার্কিন প্রকাশনা সংস্থা আলফ্রেড এ নফ জানিয়েছিল, আগামী ১০ নভেম্বর বইটি প্রকাশিত হবে।
এর পরেই দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সোনিয়া গান্ধী পাণ্ডুলিপিতে ‘সম্পাদনাগত পরিবর্তন’ করতে রাজি না হওয়ায় প্রকাশক বইটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। যদিও এই দাবি নিয়ে প্রকাশনা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সোনিয়ার সিদ্ধান্তের প্রশংসা কেরলের মন্ত্রীর
কেরলের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী রোজি এম জন একটি ফেসবুক পোস্টে সোনিয়া গান্ধীর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর স্মৃতিকথায় পরিবর্তন আনতে অস্বীকার করার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। তিনি সোনিয়া গান্ধীর জীবনের একাধিক ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের কথাও তুলে ধরেন। বিশেষ করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং রাজীব গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি। রোজি এম জনের বক্তব্য, সোনিয়া গান্ধী প্রথমে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে পরবর্তীকালে তাঁকে কংগ্রেসের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে হয়।
২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেয়েও সোনিয়া গান্ধী সেই পদ গ্রহণ না করে মনমোহন সিংয়ের নাম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রস্তাব করেছিলেন, এই ঘটনাটিও নিজের পোস্টে উল্লেখ করেন কেরলের মন্ত্রী। রোজি এম জন বলেন, সারা জীবন নানা অভিযোগ এবং সমালোচনার মুখে পড়েও সোনিয়া গান্ধী নিজের জীবনকে কোনও রকম ‘ফিল্টার’ বা সম্পাদনার মাধ্যমে সামনে আনেননি। তাঁর মতে, নিজের জীবনের কথা ব্যক্তিগত লাভের জন্য নরম না করে বা ঘটনাকে আড়াল না করে প্রকাশ করার জন্য অসাধারণ সাহস প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন
‘ক্ষমতার দরজা থেকে সরে আসতে পারেন খুব কম মানুষ’
সোনিয়া গান্ধীর সমর্থনে সরব হয়েছেন কেরলের রাজস্বমন্ত্রী এ পি অনিল কুমারও। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, সোনিয়া গান্ধীর জীবন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসেরই একটি অংশ এবং সেই ইতিহাসকে নতুন করে লিখে দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর মতে, এই স্মৃতিকথা শুধুমাত্র কোনও রাজনৈতিক নেত্রীর আত্মজীবনী নয়। এর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত শোক, আত্মত্যাগ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা চ্যালেঞ্জের অভিজ্ঞতা।
ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে অনিল কুমার বলেন, কংগ্রেসের নেতৃত্বে আসার আগে সোনিয়া গান্ধীকে ভয়াবহ ব্যক্তিগত ক্ষতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, “সবাই ক্ষমতার দিকে এগিয়ে যেতে পারে। কিন্তু ইতিহাসে খুব কম মানুষই ক্ষমতার দরজা থেকে সরে আসতে পারেন।”
‘যন্ত্রণার কি সম্পাদনা সম্ভব?’
সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথায় কোনও পরিবর্তন আনার প্রশ্ন তুলে অনিল কুমার আরও বলেন, একজন মানুষের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে ইচ্ছেমতো সম্পাদনা বা পুনর্লিখন করা যায় না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যন্ত্রণার কি কোনও সম্পাদনা হয়? আত্মত্যাগের কি কোনও নতুন সংস্করণ লেখা যায়? ইতিহাসের ক্ষতকে কি সংশোধন করা সম্ভব? তাঁর বক্তব্য, নিজের জীবনের সত্যকে পরিবর্তন করতে অস্বীকার করা শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং ইতিহাসের প্রতি একটি দায়িত্ব। সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা প্রকাশকে ঘিরে প্রকাশনা সংক্রান্ত বিতর্কের মধ্যেই কেরলের কংগ্রেস নেতাদের এই প্রকাশ্য সমর্থন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।