প্লাস্টিকের দাপটে সঙ্কটে ‘সোনালি আঁশ’, চটকল খুললেই কি ফিরবে বলাগড়ের পাটচাষিদের সুদিন?
এই পরিস্থিতিতে আশার কথা শোনাচ্ছেন বলাগড়ের বিধায়ক তথা মন্ত্রী সুমনা সরকার। তাঁর দাবি, চাষিদের কথা মাথায় রেখেই সরকার কাজ করছে। সুমনা বলছেন, ‘আগের সরকারের সময়ে পাটের দাম ৬ হাজার টাকা ছিল, ক্ষমতায় আসার পরে তা ৯ হাজার টাকা করা হয়েছে।’ পাশাপাশি বন্ধ জুটমিলগুলিও ফের খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাট সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিয়েও সরকারের তরফে ভাবনাচিন্তা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নতুন সরকার এখনও ১০০ দিনও পার করেনি। তবে চাষিদের সমস্যা নিয়ে সরকার অবশ্যই কথা বলবে।
বলাগড়ে পাট শুধু একটি ফসল নয়, বহু পরিবারের জীবিকার অবলম্বন। এখানকার পাটের পরেই শুরু হয় পেঁয়াজ চাষ। ফলে পাটের দাম কমলে তার প্রভাব পড়ে গোটা কৃষি অর্থনীতিতেই। একদিকে শ্রমিকের অভাব, অন্য দিকে সার ও চাষের খরচ বৃদ্ধি, তার উপর প্লাস্টিকের দাপটে পাটজাত পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়া—সব মিলিয়ে সঙ্কটে ‘সোনালি আঁশ’।
তবু হাল ছাড়তে নারাজ বলাগড়ের চাষিরা। তাঁদের আশা, চটকলগুলি ফের পুরোদমে চলবে, পাটের চাহিদা বাড়বে, আর সঠিক দাম মিললে আবারও লাভের মুখ দেখবে পাটের জমি। কারণ তাঁদের কাছে পাট বাঁচা মানেই শুধু একটি ফসল বাঁচা নয়—পাট বাঁচা মানে বহু কৃষক পরিবারের সংসার বাঁচা।