একাধিক দিন দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক, পুজোর মুখেই চরম দুর্ভোগের আশঙ্কা
নয়াদিল্লি: উৎসবের মরশুমের ঠিক মুখেই গ্রাহকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেশজুড়ে একাধিক দিন ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের (Bank Strike) ডাক দিল ব্যাঙ্ক কর্মীদের সম্মিলিত মঞ্চ ‘ইউনাইটেড ফোরাম…
নয়াদিল্লি: উৎসবের মরশুমের ঠিক মুখেই গ্রাহকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেশজুড়ে একাধিক দিন ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের (Bank Strike) ডাক দিল ব্যাঙ্ক কর্মীদের সম্মিলিত মঞ্চ ‘ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস’ (UFBU)। সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ এবং নতুন ‘পারফরম্যান্স-লিঙ্কড ইনসেনটিভ’ (PLI) স্কিম প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ধাপে ধাপে এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। দাবি না মানা হলে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইউনিয়নগুলি।
ইউএফবিইউ-এর মূল দাবি দু’টি। প্রথমত, সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের (5 Days Banking) যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্র যে সংশোধিত পিএলআই (PLI) স্কিম বা ইনসেনটিভ ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
ইনসেনটিভ নিয়ে কেন এত ক্ষোভ?
ব্যাঙ্ক কর্মীদের অভিযোগ, অর্থ মন্ত্রকের আনা নতুন ইনসেনটিভ স্কিমটি চরম বৈষম্যমূলক। এই স্কিমে স্কেল ফোর এবং তার উপরের পদমর্যাদার আধিকারিকদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বছরে ৩৬৫ দিনের বেসিক পে (Basic Pay) পর্যন্ত ইনসেনটিভ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ কর্মী ও স্কেল থ্রি পর্যন্ত অফিসারদের ক্ষেত্রে তা মাত্র ১৫ দিনের বেসিক পে ও মহার্ঘভাতার (DA) মধ্যে বেঁধে রাখা হয়েছে।
ইউনিয়নের দাবি, এই নীতি কার্যকর হলে উচ্চপদস্থ অফিসাররা সাধারণ কর্মীদের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি ইনসেনটিভ পাবেন, যা ব্যাঙ্ক কর্মীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করবে। এর বদলে, ব্যাঙ্কের সার্বিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সকল কর্মীর জন্য সমান ইনসেনটিভ পরিকাঠামোর দাবি জানিয়েছে তারা।
ধর্মঘটের সূচি
ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস-এর তরফে জানানো হয়েছে, সরকার তাদের দাবি না মানলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে তারা। যার রুটিন হলো:
১১ সেপ্টেম্বর: একদিনের সর্বভারতীয় ব্যাঙ্ক ধর্মঘট।
২৮, ২৯ এবং ৩০ সেপ্টেম্বর: দেশজুড়ে টানা তিন দিন ব্যাঙ্ক ধর্মঘট।
২৬ অক্টোবর: এই দিন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশব্যাপী ব্যাঙ্ক ধর্মঘট শুরু হবে।
পুজোর ঠিক আগেই টানা এই ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে পারেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী মহল। এখন দেখার, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার এবং ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয়।
দেশে বিদেশে বিপুল চাহিদা! ব্রাহ্মোস অ্যারোস্পেসের অর্ডার বই ছাড়াল ছয় বিলিয়ন ডলার