পাহাড়-সমস্যা: মধ্যস্থতাকারীর নেতৃত্বে কমিটি, শাহর সঙ্গে বৈঠকে গুরুংরা
এই সময়, শিলিগুড়ি: পাহাড় সমস্যার সমাধানের পথে আরও একধাপ এগোল কেন্দ্রীয় সরকার। গত কয়েক বছর ধরে চলা টালবাহানা কাটিয়ে শনিবার শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত হলো তৃতীয় ত্রিপাক্ষিক বৈঠক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাজ্য সরকারের তরফে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মুখ্য সচিব অন্যদিকে, পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুং এবং গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের তরফে মন ঘিসিং এবং নীরজ জিম্বা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
এ দিনের বৈঠকে পাহাড় সমস্যার সমাধানে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজ সিংয়ের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে থাকবেন কেন্দ্র, রাজ্য এবং পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলির তরফে সমস্ত প্রতিনিধিরা। বিজ্ঞপ্তি জারি করে ওই কমিটি কয়েকদিনের মধ্যেই তৈরি করা হবে। জিটিএ-র পরিবর্তে পাহাড়ে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে নয়া স্বশাসনের পথ ওই কমিটি বাতলে দেবে বলে এ দিন আলোচনা হয়।
বৈঠকের পরে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ত বলেন, ‘পাহাড়ের মানুষ স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান বলতে যা বোঝেন তার চেয়ে বেশি পাবেন এই নয়া ব্যবস্থায়।’ এ দিনের আলোচনায় যে তাঁরা খুশি সেটা স্পষ্ট করেছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেমন বলেছেন, আমরাও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই পাহাড়ের সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান চাই। আজ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্বশাসনের চেহারা কেমন হবে সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
২০১৭–য় পাহাড় অশান্ত হওয়ার পরেও মোর্চার তরফে জিটিএ-কে ‘ব্যর্থ’ দাবি করে নয়া স্বশাসনের দাবি ওঠে। ২০২০–তে কেন্দ্রীয় সরকার ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকে। সেখানে রাজ্য সরকারের তরফে কেউ যোগ না-দেওয়ায় বৈঠক ব্যর্থ হয়। সে সময়ে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসন ছিল। তিনমাস আগে বিজেপি সরকার গঠনের পরেই ফের পাহাড় সমস্যার সমাধানের দাবিতে সমস্ত রাজনৈতিক দল একজোট হয়। মোর্চা নেতা বিমল গুরুংকে–ই পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলির নেতা বলে মেনে নেওয়া হয়। এ দিনের বৈঠকের পরে জিএনএলএফ নেতা নীরজ জিম্বা বলেন, ‘রাজু বিস্ত যেমন বলেছেন, এ দিনের বৈঠকে তেমনই আলোচনা হয়েছে। পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলির হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন বিমল গুরুং।’
২০১১–তে জিটিএ গঠনের পরেই রাজ্য সরকারের সঙ্গে বিমল গুরুংদের প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। সেই সময়ে লেচপা, ভুটিয়া, শেরপা সহ ১৫টি জনজাতির জন্য পৃথক উন্নয়ন বোর্ড গঠন করে রাজ্য সরকার। ২০২৬–এর বিধানসভা নির্বাচনে এই জনজাতিই ছিল পাহাড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মূল শক্তি। এ দিন দেখা গেল, সেখানেও ভাঙন শুরু হয়েছে। শনিবার ইন্ডিজেনাস লেপচা ট্রাইবাল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। অ্যাসোসিয়েশনের নেতা রুমদেন লেপচা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। পাহাড়ের সমস্যার সমাধানে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, আমাদের যেন বাদ না-রাখা হয়।’