লাতুরের সরকারি স্কুলে অনুমতি ছাড়া ঢোকার অভিযোগ, CJP নেতা অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে FIR
মহারাষ্ট্রের লাতুরে সরকারি স্কুলে অনুমতি ছাড়া ঢুকে ক্লাসে ব্যাঘাত এবং শিক্ষকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল কক্রোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা তথা কনভেনর অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে। তাঁর পাশাপাশি আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করেছে পুলিশ। আউসা থানায় জেলা পরিষদের একটি উর্দু স্কুলের শিক্ষিকার অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে লাতুরের আউসার কাছে জাওয়ালি এলাকার জেলা পরিষদ উর্দু স্কুলে। মুম্বই থেকে ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত ওই স্কুলে দীপকে ও তাঁর সহযোগীরা কোনও অনুমতি ছাড়াই ঢুকে পড়েন বলে অভিযোগ। তাঁরা পড়ুয়াদের সঙ্গে আলাপ জমিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। এর জেরে স্কুলের ক্লাস এবং সরকারি কাজ ব্যাহত হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্কুলের শিক্ষক সৈয়দ শামশাদবানু খাইরাতালি (৫৩)।
স্কুলে গিয়ে ভিডিয়ো, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, স্কুলে ঢোকার পরে গোটা ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করেন দীপকে। পরে সেই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, স্কুল পরিদর্শনের সময় দীপকে এমন দাবিও করেন যে, অন্য একটি স্কুলের পড়ুয়াদের ওই স্কুলে এনে ক্লাসরুমে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। এই অভিযোগের মাধ্যমে স্কুলটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে বলে FIR-এ দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়াও দীপকে স্কুলের শিক্ষকদের সাসপেন্ড করিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। তবে FIR-এ থাকা এই অভিযোগগুলি এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশ তদন্তের পরই অভিযোগগুলির সত্যতা স্পষ্ট হবে।
‘School Thik Karo’ অভিযান ঘিরেই বিতর্ক
দীপকে সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের লাতুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি স্কুল পরিদর্শন করছেন। CJP-র ‘School Thik Karo’ বা সরকারি স্কুলের হাল ফেরানোর অভিযানের অংশ হিসেবেই তাঁর এই কর্মসূচি বলে জানা গিয়েছে। স্কুলগুলির পরিকাঠামো, পড়াশোনার পরিবেশ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরছেন তিনি।
এর আগে লাতুরের একটি সরকারি স্কুল পরিদর্শন করে দিপকে অভিযোগ করেছিলেন, সেখানে এমন পড়ুয়াদেরও বসানো হয়েছিল যারা ওই স্কুলে নথিভুক্ত নয়। স্কুল চত্বরে মদের বোতল পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁর পরিদর্শনের আগে স্কুলের প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
একাধিক ধারায় মামলা
পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ১৩২, ৩২৯(৩), ৩৫১(২) এবং ৩৫৬(২) ধারায় মামলা করেছে। সরকারি কর্মীকে তাঁর দায়িত্ব পালনে বাধা দিতে বলপ্রয়োগ, অনধিকার প্রবেশ, অপরাধমূলক হুমকি এবং মানহানির অভিযোগের সঙ্গে এই ধারাগুলি সম্পর্কিত। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অর্থাৎ, সরকারি স্কুলের অব্যবস্থা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে শুরু করা CJP-র প্রচার এ বার আইনি বিতর্কে জড়াল। অভিযোগগুলি কতটা সত্য, স্কুলে ঠিক কী ঘটেছিল এবং দীপকে ও তাঁর সহযোগীদের ভূমিকা কী ছিল—তদন্তেই তা স্পষ্ট হবে।