নিরপেক্ষ হননি, নৈতিক দায়ের পক্ষ নিয়েছেন
হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রবল বিরোধী হলেও ঐতিহাসিক ভাবে হিন্দুত্ববাদকে বোঝার চেষ্টায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন তিনি। তপন বসু, প্রদীপ দত্ত, তনিকা সরকার, সম্বুদ্ধ সেনদের সঙ্গে লিখেছেন ‘খাকি শর্টস স্যাফ্রন ফ্ল্যাগস’।
পক্ষ নেওয়ার নির্ভীক ইতিহাসচেতনা তাঁর জীবনে কম বাধার সৃষ্টি করেনি। ১৯৪৬ সালের দলিল-দস্তাবেজ সংগ্রহ করে তাঁর সম্পাদিত ‘টুয়ার্ডস ফ্রিডম’ সিরিজ়ের বইয়ের প্রকাশ এক কালে আটকে গেছিল সরকারি হস্তক্ষেপে— দেশভাগের অবশ্যম্ভাবীতার বদলে ঔপনিবেশিকতার অবদানের মূহূর্তে নানা ধরনের আন্দোলন ও বিভিন্ন সাম্প্রদায়িকতার প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছবি তুলে ধরার কারণে। অবশেষে, ইউপিএ সরকারের সময়ে প্রকাশিত হয় এই বই।
আবার নিজের রাজনৈতিক মতবাদে বিশ্বাসী তদানীন্তন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দেওয়া রবীন্দ্র পুরস্কার, যা পেয়েছিলেন ‘রাইটিং সোশ্যাল হিস্ট্রি’ বইয়ের জন্য, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের ঘটনার প্রতিবাদে সেটিও ফিরিয়ে দিতে পিছপা হননি
তিনি। সুমিত সরকার শিখিয়ে গেছেন কী ভাবে পক্ষ নিতে হয়— নৈতিকতার
পক্ষ, বিশ্লেষণী দায়বদ্ধতার পক্ষ। ইতিহাসবিদের পক্ষ নেওয়ার অর্থ সুবিধাবাদ বা দলানুগত্য নয়।