সুস্থই ছিলেন, একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, আর হাঁটতে পারছেন না! ২৫ বছরের যুবতীর সঙ্গে এ কী হল? – Bengali News | 25 Year old Woman Loose Walking Ability After Boyfriend Broke Up with Her, What Happened Actually
নয়া দিল্লি: হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, পা নড়ছে না। রাতারাতি হারিয়েছেন হাঁটাচলা করার ক্ষমতা। এমনটা যদি হয়, কী করবেন? এমনটাই ঘটল বছর পঁচিশের এক যুবতীর সঙ্গে। এই অসুস্থতার কারণ কী জানেন? ব্রেকআপ।
হ্যাঁ, শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, এটাই সত্যি। এক যুবতী রাতারাতি হাঁটাচলার ক্ষমতা হারালেন প্রেমিকের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর। কীভাবে হল এরকম?
দেখা হলেই পরিচিতরা জিজ্ঞাসা করেন, শরীর ভাল আছে তো? কিন্তু কাউকে কি প্রশ্ন করতে শুনেছেন, মন ভাল আছে কি না? শরীরের খোঁজ নিলেও, মনের খবর রাখে ক’জন? ব্যস্ত জীবনে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব শরীরে কতটা পড়ে, তার প্রমাণ ২৫ বছরের এক যুবতী।
ডঃ সুধীর কুমার নামক এক চিকিৎসক ওই যুবতীর জীবনের ঘটনা তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্ক ভাঙার পর যুবতী এতটাই ভেঙে পড়েন যে তাঁর নিউরোলজিক্যাল সমস্যা দেখা দেয়। এমনকী, ধীরে ধীরে হাঁটার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।
চিকিৎসক বলেন, “ওই যুবতীর দুই পা-ই দুর্বল হয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে। জেনারেল ফিজিশিয়ানকে দেখান প্রথমে, এরপর নিউরোলজিস্টকে দেখান চিকিৎসকের পরামর্শেই। রক্ত পরীক্ষা, এমআরআই ও অন্যান্য পরীক্ষা করেও কিছু পাওয়া যায়নি।”
এভাবেই ৪ মাস কেটে যায়। কোনও চিকিৎসকই ধরতে পারছিলেন না অসুস্থতার কারণ কী। এদিকে, ৫ মাস পর মিরিয়াম নামক ওই যুবতীর হুইলচেয়ার ছাড়া গতিবিধি অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল। কোনও কিছু না ধরে এক পা-ও হাঁটতে পারছিল না।
পরে চিকিৎসকরা খুঁজে পান রোগের সূত্র। মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা দুঃখই মানসিক রোগ হয়ে গ্রাস করে নিয়েছিল যুবতীকে। জানা যায়, ভিন ধর্মের এক যুবকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। ওই যুবকের পরিবার না মানায় সম্পর্ক ভেঙে যায়। ব্রেক আপের পরই যুবতী ডিপ্রেশনে ডুবে যায়। কষ্টের কথা পরিবার বা বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গেও ভাগ করে নিতে পারছিল না। চাপা কষ্ট থেকেই ফাংশনাল নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার হয় যে মোটর উইকনেস বা হাঁটাচলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।
ফাংশনাল নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার হল এক ধরনের অবস্থা, যেখানে মস্তিষ্ক সঠিকভাবে সিগন্যাল গ্রহণ ও পাঠানো বন্ধ করে দেয়। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, মানসিক আঘাতের মতো একাধিক কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়। অনেকটা স্ট্রোক বা টিউমারের মতো। এতে অনুভূতি, হাঁটাচলার ক্ষমতা, দৃষ্টিশক্তি, বিচারবুদ্ধি প্রভাবিত হয়। মৃগী বা পার্কিনসন ডিজিজের মতো উপসর্গ দেখা যায়।
