দেশে বিদেশে বিপুল চাহিদা! ব্রাহ্মোস অ্যারোস্পেসের অর্ডার বই ছাড়াল ছয় বিলিয়ন ডলার
নয়াদিল্লি: ব্রাহ্মোস অ্যারোস্পেসের অর্ডার বই এখন ছয় বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে (BrahMos)। ভারতের এই সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা সংস্থা বিশ্বজুড়ে বিপুল চাহিদার মুখে পড়েছে। কোম্পানির সহ-ব্যবস্থাপনা…
নয়াদিল্লি: ব্রাহ্মোস অ্যারোস্পেসের অর্ডার বই এখন ছয় বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে (BrahMos)। ভারতের এই সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা সংস্থা বিশ্বজুড়ে বিপুল চাহিদার মুখে পড়েছে। কোম্পানির সহ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে জানা গেছে, চারটি উৎপাদন ইউনিটই এখন পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে এবং দেশীয় ও রফতানি চুক্তিগুলো মিলিয়ে মোট অর্ডারের পরিমাণ প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
ব্রাহ্মোস ভারত-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগে তৈরি সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। (BrahMos)এটি স্থল, জল, সাবমেরিন ও আকাশ সব প্ল্যাটফর্ম থেকেই নিক্ষেপ করা যায়। এর গতি, নির্ভুলতা এবং বহুমুখী ব্যবহারের ক্ষমতা এটিকে আন্তর্জাতিক বাজারে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর সঙ্গে বড় চুক্তির পাশাপাশি ভিয়েতনামসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের সঙ্গে রফতানি চুক্তি ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
ফিলিপাইন প্রথম রফতানি গ্রাহক হয়েছিল (BrahMos)এবং এখন ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশও এই ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে।কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে নতুন চুক্তির আলোচনা চলছে। বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন ক্ষমতাও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। গত অর্থবছরে ব্রাহ্মোস অ্যারোস্পেসের রাজস্ব পাঁচ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে ডিআরডিও সূত্রে জানা গেছে।
এর মধ্যে রফতানি অর্ডারের অবদান উল্লেখযোগ্য।ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রে ব্রাহ্মোস একটি সফল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। একসময় দেশীয় চাহিদার ওপর নির্ভরশীল এই প্রকল্প এখন আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিচ্ছে। সুপারসনিক গতি এবং আধুনিক নির্ভুল প্রযুক্তির কারণে অনেক দেশ উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও দূরপাল্লার আক্রমণ ক্ষমতা বাড়াতে এই ক্ষেপণাস্ত্রকে বেছে নিচ্ছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের আত্মনির্ভরশীলতার লক্ষ্যেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। (BrahMos )ব্রাহ্মোসের সাফল্য শুধু একটি ক্ষেপণাস্ত্রের সাফল্য নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতার প্রমাণ। যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর, দেশীয় উৎপাদন এবং রপ্তানির সমন্বয় এই প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়েছে।
চারটি কারখানা পূর্ণ ক্ষমতায় চলছে মানে উৎপাদন লাইন ব্যস্ত এবং ভবিষ্যতের চাহিদা মেটানোর প্রস্তুতি চলছে।প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্রাহ্মোসের অর্ডার বই ছয় বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা।
এটি অন্যান্য দেশীয় প্রতিরক্ষা পণ্যের রফতানিতেও উৎসাহ যোগাবে। একই সঙ্গে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নেও এই ক্ষেপণাস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নৌবাহিনীর জাহাজগুলোতে ব্রাহ্মোস মোতায়েন অব্যাহত রয়েছে।