দিল্লিতে বাড়ছে H1N1 সংক্রমণ, একদিনে ১১৪ নতুন আক্রান্তের খবর - 24 Ghanta Bangla News
Home

দিল্লিতে বাড়ছে H1N1 সংক্রমণ, একদিনে ১১৪ নতুন আক্রান্তের খবর

Spread the love

নয়াদিল্লি: দিল্লিতে বাড়ছে ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ এবং বিশেষ করে এইচ১এন১ বা সোয়াইন ফ্লু-এর সংক্রমণ (Delhi H1N1 Cases)। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে দিল্লি সরকার সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। ভিড় এড়ানো, নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার এবং শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত দিল্লিতে চলতি বছরে মোট ২,৬০২টি ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্তের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২,৩৯২টি ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ এবং ২১০টি ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি সংক্রমণ। ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ আক্রান্তদের মধ্যে ১,৭৭৭ জন এইচ১এন১, ৩৭ জন এইচ১, ১৩৮ জন এইচ৩ এবং ৪৪০ জন অন্যান্য ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ আক্রান্ত হয়েছেন।

একদিনেই ১১৪টি এইচ১এন১ সংক্রমণ

স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে মোট ১৫৯টি ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্তের ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৫টি ছিল ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ। আক্রান্তদের মধ্যে ১১৪ জন এইচ১এন১, দু’জন এইচ১, একজন এইচ৩ এবং ৩৮ জন অন্যান্য ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ আক্রান্ত ছিলেন। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার চারটি ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি আক্রান্তের ঘটনাও রিপোর্ট হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত দিল্লিতে ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ আক্রান্তের সংখ্যা ২,৩৯২ এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি আক্রান্তের সংখ্যা ২১০। ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি আক্রান্তদের মধ্যে ২০০ জন ভিক্টোরিয়া স্ট্রেন এবং ১০ জন অন্যান্য ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন।

ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ

সংক্রমণ বাড়তে থাকায় দিল্লির স্বাস্থ্য দফতর সাধারণ মানুষের জন্য একাধিক সতর্কতামূলক পরামর্শ দিয়েছে। কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ও নাক ঢেকে রাখতে বলা হয়েছে। সাবান ও জল দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভিড়ের জায়গায় মাস্ক ব্যবহার এবং শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়িয়ে চলার কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া হাত দিয়ে চোখ ও নাক স্পর্শ না করা, প্রকাশ্যে থুতু না ফেলা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল পান করার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।

জ্বর বা শ্বাসকষ্ট হলে চিকিৎসকের পরামর্শ

জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, শরীরে ব্যথা বা মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। নিজে থেকে ওষুধ না খাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। বিশেষ করে উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।

৩৫টি হাসপাতাল নজরদারিতে

দিল্লি সরকার জানিয়েছে, ঋতুভিত্তিক ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণের বৃদ্ধি মোকাবিলায় রাজধানীর হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা, চিকিৎসক, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে। মোট ৩৫টি হাসপাতালকে বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস বা এইমস এবং ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল বা এনসিডিসি-তে দুটি রেফারেল ল্যাবরেটরি নির্ধারণ করা হয়েছে। রোগীদের শ্রেণিবিন্যাস, চিকিৎসার পদ্ধতি, ভেন্টিলেটর ব্যবস্থাপনা, মাস্কের ব্যবহার এবং বাড়িতে রোগীর যত্ন নিয়ে প্রযুক্তিগত নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ও কোভিডের তথ্যও নজরে

দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ইনফ্লুয়েঞ্জার পাশাপাশি ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো অসুস্থতা বা আইএলআই, গুরুতর তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ বা সারি এবং কোভিড-১৯ আক্রান্তদের তথ্য নিয়মিত রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইন্টিগ্রেটেড হেলথ ইনফরমেশন প্ল্যাটফর্ম বা আইএইচআইপি পোর্টালের মাধ্যমে এই তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

জেলা স্তরের স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং হাসপাতালগুলিকেও রোগীদের পরীক্ষা, আক্রান্তের তথ্য প্রকাশ এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ এবং ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিও চলছে। এর মাধ্যমে রোগগুলির উপসর্গ, বিদ্যমান চিকিৎসা নির্দেশিকা এবং আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কর্মীদের আরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিদিন পরিস্থিতি পর্যালোচনা

দিল্লি স্টেট হেলথ মিশন ইন্টিগ্রেটেড ডিজিজ সার্ভিল্যান্স প্রোগ্রাম বা আইডিএসপির মাধ্যমে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। আইডিএসপি-আইএইচআইপি পোর্টালে প্রতিদিন ইনফ্লুয়েঞ্জা, আইএলআই এবং সারি আক্রান্তদের তথ্য পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে দৈনিক বুলেটিন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হচ্ছে।

২০ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের সচিবের নেতৃত্বে একটি আন্তঃবিভাগীয় বৈঠকও হয়। সেখানে দিল্লি পুরসভা, নয়াদিল্লি পুরসভা, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, শিক্ষা দফতর এবং দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন দফতরকে ঋতুভিত্তিক ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন

স্বাস্থ্য দফতরের মতে, ঋতুভিত্তিক ইনফ্লুয়েঞ্জা একটি তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ, যা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণে হয়। ছোট শিশু এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভোগা বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। ভারতে সাধারণত বছরে দু’টি সময়ে ঋতুভিত্তিক ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ বাড়তে দেখা যায়। প্রথমটি জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে এবং দ্বিতীয়টি বর্ষা-পরবর্তী সময়ে।

এ বছর দিল্লিতে প্রধান উপধরন এইচ১এন১

স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, গত বছর দিল্লিতে ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে এইচ৩এন২ প্রধান উপধরন ছিল। তবে চলতি বছরে এইচ১এন১ প্রধান উপধরন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারা বছরই নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে সংক্রমণ বাড়ায় সেই নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী পঙ্কজ কুমার সিং শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠকে ঋতুভিত্তিক ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় দিল্লির প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকের পর পঙ্কজ কুমার সিং জানান, রাজধানীতে শয্যা, চিকিৎসক, ওষুধ বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের কোনও ঘাটতি নেই। আক্রান্তের সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য দফতর হাসপাতালগুলিতে সচেতনতামূলক প্রচার, রোগীদের সঙ্গে স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনা এবং তথ্যসমৃদ্ধ প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ওপরও জোর দিয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চলবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকাঠামো আরও বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *