ডাক শুনেই চিনে ফেলেন, রংবেরঙের পাখি দেখিয়ে আনন্দ পান রামকুমার
ডুয়ার্সে এখন অনেকেই তাঁকে চেনেন ‘বার্ড গাইড’ হিসেবে। কিন্তু এই পরিচয়ের পিছনে রয়েছে প্রায় দু’দশকের নিরলস সাধনা। গোরুমারার মূর্তি বনবস্তির বাসিন্দা রামকুমার ২০০৫-০৬–এ যখন বন দপ্তরের উদ্যোগে ‘ইকো গাইড’ হিসেবে কাজ শুরু করেন, তখনও তাঁর কাছে জঙ্গল মানে ছিল হাতি, গন্ডার, বাইসন। ধীরে ধীরে সেই জঙ্গলেরই পাখির জগৎ তাঁকে টেনে নেয় অন্য এক নেশায়। সেই সময়ে মোবাইল ফোন ছিল না। ছিল না সামাজিক মাধ্যম। হাতে ছিল একটি বাইনোকুলার আর কয়েকটি পাখি চেনার বই। দিনের পর দিন জঙ্গলে ঘুরে, ডাক শুনে, আচরণ দেখে, তিনি শিখেছেন। বন দপ্তরের কর্মশালা, পাখি গণনা এবং বিশেষজ্ঞদের সান্নিধ্য তাঁর সেই আগ্রহকে পরিণত করেছে দক্ষতায়।
গোরুমারার তৎকালীন ডিএফও তাপস দাস ও রেঞ্জার বিমল দেবনাথের উদ্যোগে গোরুমারা জঙ্গল লাগোয়া মানুষদের স্বনির্ভর করতে উদ্যোগী হয় বন দপ্তর। সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া রামকুমার ‘নেচার গাইড’ হিসেবে যোগ দেন। পারিশ্রমিকের বিনিময়ে গোরুমারা জঙ্গলে বেড়াতে আসা পর্যটকদের বন ও বন্যপ্রাণী দেখানো শুরু করেন। রামকুমারের কথায়, ‘প্রথমে পাখি চিনতাম নিজের আনন্দের জন্য। পরে বুঝলাম, এই আনন্দ অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিলে কেমন হয়!’ তাঁর সংযোজন, ‘বেঙ্গালুরু, মুম্বই, কেরালা, উত্তরপ্রদেশ থেকে প্রচুর মানুষ পাখির ছবি তুলতে ডুয়ার্সে এসে আমাকে খোঁজেন।’