হাইড্রোজেনের শক্তিতে ছুটবে কাওয়াসাকির চার পায়ের ‘ঘোড়া’ কর্লিও
কলকাতা: দুই চাকার মোটরসাইকেলের বদলে এবার চার পায়ে চলা এক অভিনব অফ-রোড যান তৈরি করছে কাওয়াসাকি। সংস্থার এই নতুন প্রকল্পের নাম কর্লিও (Kawasaki Corleo)। এটি একটি…
কলকাতা: দুই চাকার মোটরসাইকেলের বদলে এবার চার পায়ে চলা এক অভিনব অফ-রোড যান তৈরি করছে কাওয়াসাকি। সংস্থার এই নতুন প্রকল্পের নাম কর্লিও (Kawasaki Corleo)। এটি একটি চার পায়ের মোবিলিটি ভেহিকল, যা হাইড্রোজেন থেকে তৈরি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চলবে।
কাওয়াসাকির লক্ষ্য, ভবিষ্যতে কঠিন ও দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের জন্য এই যান ব্যবহার করা। সংস্থাটি ২০৩৫ সালের কাছাকাছি সময়ে কর্লিওকে বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে। সৌদি আরবের রিয়াদে এক্সপো ২০৩০-তেও এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ চলছে।
মোটরসাইকেল ও রোবোটিক্স প্রযুক্তির মিশেল
কর্লিও প্রথমবার ধারণা হিসেবে সামনে এসেছিল এক্সপো ২০২৫ ওসাকা-তে। এরপর কাওয়াসাকি এই প্রকল্পকে বাণিজ্যিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আলাদা সেফ অ্যাডভেঞ্চার বিজনেস ডেভেলপমেন্ট টিম তৈরি করেছে। সাধারণ গাড়ি বা মোটরসাইকেলের মতো চাকায় চলবে না কর্লিও। এর পরিবর্তে চারটি স্বাধীনভাবে নিয়ন্ত্রিত পা রয়েছে।
পিছনের দুই পায়ে ব্যবহার করা হয়েছে মোটরসাইকেলের প্রযুক্তি থেকে নেওয়া সুইংআর্ম ব্যবস্থা। এর ফলে পাগুলি আলাদাভাবে নড়াচড়া করতে পারে এবং রাস্তার ধাক্কা সামলানোর পাশাপাশি চালকের শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
Also Read | চার-দরজার Ford Mustang আসছে? ৪ সেকেন্ডের কমে ১০০ কিমি গতি!
ঘোড়ার মতো চালানো যাবে কর্লিও
কর্লিও চালানোর পদ্ধতিও বেশ অভিনব। অনেকটা ঘোড়ায় চড়ার মতো চালক নিজের শরীরের ওজনের পরিবর্তনের মাধ্যমে যানটিকে নিয়ন্ত্রণ করবেন। চালকের পায়ের স্টিরাপ এবং হাত রাখার জায়গায় থাকা সেন্সর তাঁর নড়াচড়া শনাক্ত করবে। সেই তথ্য কর্লিওর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পৌঁছে যাবে। কাওয়াসাকির দাবি, এই প্রযুক্তির সাহায্যে কর্লিও পাহাড়ি এলাকা, অসমতল জমি এমনকি জল পার হওয়ার মতো কঠিন ভূখণ্ডেও চলতে পারবে।

১৫০ সিসি হাইড্রোজেন ইঞ্জিন
কর্লিওর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলির একটি হল এর শক্তির উৎস। যানটির পিছনের অংশে হাইড্রোজেন সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ক্যানিস্টার থাকবে। একটি ১৫০ সিসি হাইড্রোজেন ইঞ্জিন সেই হাইড্রোজেন ব্যবহার করে বিদ্যুৎ তৈরি করবে। এই বিদ্যুৎ চারটি পায়ের অ্যাকচুয়েটর এবং যানটির অন্যান্য অংশকে চালাবে। হাইড্রোজেন ক্যানিস্টারগুলি পরিবর্তনযোগ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ প্রচলিত জ্বালানি ভরার পরিকাঠামো না থাকলেও নির্দিষ্ট জায়গায় ক্যানিস্টার বদলে যানটিকে ফের চালু করা সম্ভব হতে পারে।
Also Read | বিমানে কার্বন নির্গমন কমাতে হাইড্রোজেন ইঞ্জিন! দেশে ইতিহাস গড়ছে TCS-রোলস রয়েস
কঠিন ভূখণ্ড বুঝে নিজেই প্রতিক্রিয়া জানাবে
কর্লিওর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শুধু চালকের নির্দেশ অনুসরণ করবে না। যানটির শরীরের অবস্থান এবং চলাচলও পর্যবেক্ষণ করবে। চারটি পায়ের নিচের ভূখণ্ডের পরিস্থিতি অনুযায়ী যানটির ভারসাম্য এবং গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে এই ব্যবস্থা। ফলে যেখানে সাধারণ চাকাওয়ালা যান চলাচলে সমস্যায় পড়তে পারে, সেই ধরনের জায়গায় কর্লিওকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তৈরি হচ্ছে কর্লিও রাইডিং সিমুলেটর
কাওয়াসাকি শুধু আসল যানটি তৈরি করছে না, এর জন্য একটি রাইডিং সিমুলেটরও তৈরি করছে। সিমুলেটরটি ২০২৭ সালের মধ্যে তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে কর্লিওর চালানোর অভিজ্ঞতা, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং চলাচলের বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া গেমিং এবং ই-স্পোর্টসের ক্ষেত্রেও এই সিমুলেটরের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে ভাবা হচ্ছে।
২০৩৫-এর মধ্যে বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্য
কাওয়াসাকি কর্লিওকে প্রায় ২০৩৫ সালের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আনার লক্ষ্য নিয়েছে। তবে এখনও এর চূড়ান্ত উৎপাদন সংস্করণ, দাম বা সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত স্পেসিফিকেশন প্রকাশ করা হয়নি।
কর্লিও প্রকল্পটি কাওয়াসাকির সেফ অ্যাডভেঞ্চার উদ্যোগের অংশ। এই উদ্যোগের অধীনে আবহাওয়া, রাস্তার পৃষ্ঠের অবস্থা এবং বন্যপ্রাণীর উপস্থিতির মতো বিষয় বিশ্লেষণ করে নিরাপদ পথ নির্ধারণের প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করছে সংস্থাটি। অর্থাৎ, কর্লিও শুধু একটি অভিনব চার পায়ের যান নয়। কাওয়াসাকি এটিকে ভবিষ্যতের দুর্গম এলাকায় নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব চলাচলের একটি নতুন প্রযুক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে।