সামরিক বন্ধন দৃঢ় করতে শুরু হল ভারত থাইল্যান্ড যৌথ মহড়া ‘মাইত্রি’
নয়াদিল্লি: ভারত ও থাইল্যান্ডের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও মজবুত হচ্ছে (Maitree)। এই আবহেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি দল আজ থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। তারা অংশ…
নয়াদিল্লি: ভারত ও থাইল্যান্ডের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও মজবুত হচ্ছে (Maitree)। এই আবহেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি দল আজ থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। তারা অংশ নেবে দুই দেশের যৌথ সামরিক মহড়া মাইত্রি-এর পঞ্চদশ সংস্করণে। এই মহড়া ২০২৬ সালের ১৮ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে থাইল্যান্ডের সুরাট থানি প্রদেশের বিভাবাদি রংসিত ক্যাম্পে।
জঙ্গল ও আধা-শহুরে এলাকায় যৌথ অভিযানের প্রশিক্ষণই হবে (Maitree)এবারের মূল ফোকাস।প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতীয় সেনাদল এবং থাই রাজকীয় সেনাবাহিনীর দলে প্রত্যেকের সংখ্যা ৮৫ জন করে। ভারতীয় দলে মূলত নবম গোর্খা রাইফেলসের জওয়ানরা রয়েছেন। অন্যদিকে থাই দলে রয়েছে পঞ্চম ডিভিশনের ২৫তম ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডের তৃতীয় ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।
আরও দেখুনঃ কৃষিখাতে বিশাল ভর্তুকি মোদী সরকারের! ৩০০০ র ইউরিয়ার বস্তা এখন মোটে ৩০০ টাকা
দুই বাহিনীর এই সমান সংখ্যক অংশগ্রহণ মহড়ার ভারসাম্য বজায় রাখবে এবং পারস্পরিক শেখার সুযোগ বাড়াবে।মাইত্রি (Maitree)মহড়ার মূল উদ্দেশ্য হলো ভারত ও থাইল্যান্ডের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর করা। এবারের সংস্করণে জঙ্গল ও আধা-শহুরে পরিবেশে যৌথ কাউন্টার-ইনসার্জেন্সি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনার দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে।
জাতিসংঘ সনদের সপ্তম অধ্যায়ের আওতায় এ ধরনের অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে দুই বাহিনী একসঙ্গে কাজ করবে। মাঠপর্যায়ের অনুশীলন, যুদ্ধ বিষয়ক আলোচনা, বক্তৃতা, প্রদর্শনী এবং শেষে একটি যৌথ মূল্যায়ন মহড়া এসবই থাকবে প্রশিক্ষণের অংশে। দুই দেশের সেনারা নিজেদের অপারেশনাল অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে এবং আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির ব্যবহারও দেখাবে।
আরও দেখুনঃ শ্রাবণের সোমবারে মর্মান্তিক পরিণতি! বিহারের অশোক ধাম মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে ৭ জনের মৃত্যু
এই মহড়ার আগের সংস্করণ হয়েছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে মেঘালয়ের উমরয়ের ফরেন ট্রেনিং নোডে। সেবার ভারতীয় মাটিতে অনুষ্ঠিত হলেও এবার থাইল্যান্ডে যাওয়া দুই দেশের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখারই ইঙ্গিত। মাইত্রি (Maitree)মহড়া শুরু হয়েছিল অনেক বছর আগে এবং ধীরে ধীরে এটি দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে আস্থা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় জঙ্গল ও আধা-শহুরে এলাকায় অভিযান পরিচালনার দক্ষতা দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।ভারত ও থাইল্যান্ডের সম্পর্ক শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘদিনের। মাইত্রি নামটিই সেই বন্ধুত্বের প্রতীক। ‘মাইত্রি’ শব্দের অর্থই হলো বন্ধুত্ব।
আরও দেখুনঃ ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলনে নয়া মোড়! সরকারকে ১৮ তারিখের ডেডলাইন বিক্ষোভকারীদের
এই নামে মহড়া আয়োজন করে দুই দেশ সেই বন্ধুত্বকে সামরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করতে চায়। (Maitree)এ ধরনের যৌথ মহড়া শুধু প্রশিক্ষণের সুযোগই দেয় না, বরং দুই বাহিনীর মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়েও সম্পর্ক গড়ে তোলে। জওয়ানরা একে অপরের কৌশল, সংস্কৃতি ও কাজের ধরন বুঝতে পারে।
এবারের মহড়ায় কোম্পানি স্তরের যৌথ প্রশিক্ষণ থাকবে। এর মানে ছোট দলগুলো একসঙ্গে কাজ করে বাস্তব পরিস্থিতির মতো অনুশীলন করবে। জঙ্গলের ঘন গাছপালার মধ্যে চলাচল, আধা-শহুরে এলাকায় লুকিয়ে থাকা শত্রু চিহ্নিত করা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানো এসব দক্ষতা বাস্তব অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।