জিম্বাবোয়েতে ভয়াবহ ফেরি দুর্ঘটনায় মৃত ৬৮ জন, নিখোঁজ আরও বহু - 24 Ghanta Bangla News
Home

জিম্বাবোয়েতে ভয়াবহ ফেরি দুর্ঘটনায় মৃত ৬৮ জন, নিখোঁজ আরও বহু

Spread the love

জিম্বাবোয়েতে ভয়াবহ ফেরি দুর্ঘটনায় ৬৮ জনের মৃত্যু। গত মঙ্গলবার প্রবল হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে যাত্রীবোঝাই ফেরিটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে। দুর্ঘটনার পরে ৪৬ জনের দেহ মিলেছিল। শনিবার লেক কারিবা থেকে আরও ২২টি দেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।

জিম্বাবোয়ে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, শনিবার উদ্ধার হওয়া ২২টি দেহের পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮। এই দুর্ঘটনাকে দেশের অন্যতম ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। জিম্বাবোয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তে অবস্থিত লেক কারিবায় এ যাবৎ ঘটা সমস্ত দুর্ঘটনার মৃতের সংখ্যা ছাপিয়ে গিয়েছে এই ঘটনা ।

ফেরিতে অনেক বেশি যাত্রী

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ফেরিটিতে নির্ধারিত সীমার তুলনায় অনেক বেশি যাত্রী ছিলেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নৌযানটির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ছিল ৯০ জন। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় তাতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং পাঁচ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। এর পাশাপাশি কত জন শিশু ছিল, সেই সংখ্যা প্রথমে স্পষ্ট ছিল না। অন্য একটি সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মোট যাত্রীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

প্রবল হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণেই ফেরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান। তবে অতিরিক্ত যাত্রী ফেরিতে তোলা হয়েছিল কি না এবং নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

৭৭ জনকে উদ্ধার

দুর্ঘটনার পরে এখনও পর্যন্ত ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জিম্বাবোয়ের সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট জানিয়েছে। তবে মোট কত জন যাত্রী ছিলেন এবং এখনও কত জন নিখোঁজ, সেই সংখ্যা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই দুর্ঘটনায় শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সূত্রে অন্তত ১৮ জন শিশুর মৃত্যুর কথা জানা গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেহগুলি শনাক্ত করতে শনিবার কারিবা শহরের জেলা হাসপাতালে ভিড় করেন বহু স্বজন। এদিকে, উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা জানা সম্ভব নয়। তাই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কার মধ্যেই লেক কারিবায় তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।

ফেরিটি কারিবা শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম ও মাছ ধরার এলাকার দিকে যাচ্ছিল। ওই অঞ্চলে রাস্তা খারাপ এবং গণপরিবহণের সুযোগও সীমিত। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ঘটনার পরে ফেরি চলাচলের নিরাপত্তা এবং অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *