H1N1 সোয়াইন ফ্লু বাড়িয়ে দিতে পারে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি, সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা
রাজধানী দিল্লিতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জ়া বা সোয়াইন ফ্লু-এর প্রকোপ। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল (NCDC)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ১২ আগস্ট পর্যন্ত দিল্লিতে ১,৪৪৯ জন H1N1 আক্রান্তের খবর মিলেছে। ২০২৫ সালের ঠিক এই সময়সীমার (২২৯ জন) তুলনায় এই পরিসংখ্যান ছয় গুণেরও বেশি। H1N1 সাধারণ ভাইরাসজনিত শ্বাসযন্ত্রের রোগ হলেও এটি কেবল ফুসফুস বা গলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংক্রমণ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় (Immune system) তীব্র প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা সরাসরি হৃদযন্ত্রকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়।
H1N1 কী ভাবে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করে?
১. হৃদযন্ত্রের উপর অতিরিক্ত কাজের চাপ
সংক্রমণের সময় দেহের তাপমাত্রা (জ্বর) বেশি, জলশূন্যতা (Dehydration), দ্রুত হৃদস্পন্দন এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার ফলে হৃৎপিণ্ডকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করতে হয়। এটি প্রবীণ এবং আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হার্ট ফেলিয়রের ঝুঁকি বাড়ায়।
২. মায়োকার্ডাইটিস (Myocarditis) বা হৃদপেশির প্রদাহ
কখনও কখনও ইনফ্লুয়েঞ্জ়া ভাইরাস সরাসরি বা শরীরের প্রতিক্রিয়া হিসেবে হৃদযন্ত্রের পেশিতে প্রদাহ তৈরি করে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মায়োকার্ডাইটিস বলে। মারাত্মক ক্ষেত্রে এটি হৃদস্পন্দনের ছন্দ বিগড়ে দেয় (Arrhythmia) এবং হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হার্ট ফেলিয়রের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৩. হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি
ভাইরাসজনিত প্রদাহের কারণে রক্তনালিতে থাকা পুরোনো প্ল্যাক (Plaque) ফেটে যেতে পারে। এর সঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়ায় ইনফ্লুয়েঞ্জ়ায় আক্রান্ত হওয়ার পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়।
কাদের ঝুঁকি বেশি?
-
যাঁদের কোরোনারি আর্টারি ডিজ়িজ় (CAD) বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে
-
একবার স্ট্রোক বা মাইল্ড অ্যাটাক হয়েছে
-
অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিসে ভুগছেন এমন ব্যক্তি
-
প্রবীণ নাগরিক ও দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ
কখন সতর্ক হবেন?
সর্দি-কাশির পাশাপাশি যদি বুকে তীব্র চাপ, ব্যথা বা অস্বস্তি হয়, সে ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। ক্রমাগত শ্বাসকষ্ট বা বুক ধড়ফড় করলেও (Palpitations) অবহেলা করা যাবে না। হঠাৎ মাথা ঘোরা, ঝিমুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা চরম দুর্বলতা এবং অতিরিক্ত ক্লান্তিতেও তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
FAQ
১. H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জ়া কী ভাবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়?
উত্তর: H1N1 সংক্রমণের ফলে মানবদেহে সিস্টেমিক ইনফ্লেমেশন বা প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এটি রক্তনালির প্রাচীরে জমে থাকা চর্বির স্তর (Plaque) অস্থিতিশীল করে তোলে এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
২. সমস্যা যে হার্টে পৌঁছে গিয়েছে বুঝবেন কী ভাবে?
উত্তর: সাধারণ ফ্লু-তে জ্বর, কাশি, গলা ও গায়ে ব্যথা থাকে। কিন্তু যদি এর সঙ্গে যদি বুকে চাপ বা ব্যথা, তীব্র শ্বাসকষ্ট, হঠাৎ বুক ধড়ফড় করা কিংবা মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ যোগ হয়, তবে বুঝতে হবে যে এটি হৃদযন্ত্রে প্রভাব ফেলছে।
৩. হৃদরোগীরা কী ভাবে H1N1 এর হাত থেকে সুরক্ষা পেতে পারেন?
উত্তর: হৃদরোগী ও প্রবীণদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ হলো প্রতি বছর নিয়ম করে ইনফ্লুয়েঞ্জ়া ভ্যাকসিন (Flu Shot) নেওয়া। এ ছাড়া বাইরে বেরোলে মাস্ক পরা, বারবার হাত ধোয়া এবং লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।