ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে ‘এল নিনো’! চরম আবহাওয়ার আশঙ্কায় কাঁপছে ভারত-সহ গোটা বিশ্ব
নয়াদিল্লি: এল নিনো (El Nino) নিয়ে যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, এবার সেটাই সত্যি হতে চলেছে। প্রশান্ত মহাসাগর জুড়ে ক্রমশ তৈরি হচ্ছে একটি শক্তিশালী এল নিনো…
নয়াদিল্লি: এল নিনো (El Nino) নিয়ে যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, এবার সেটাই সত্যি হতে চলেছে। প্রশান্ত মহাসাগর জুড়ে ক্রমশ তৈরি হচ্ছে একটি শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি। আবহাওয়াবিদদের সতর্কতা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ভাগে এবং ২০২৭ সালের শুরুর দিকে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ ধারণ করতে পারে, যার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশেরও বেশি! এর ফলে চলতি বছরের শেষ দিকে বা আগামী বছরের শুরুতেই ভারত-সহ বিশ্বের একাধিক দেশে আবহাওয়ায় বিরাট পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন আবহাওয়া গবেষণা সংস্থা ‘ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (NOAA)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এটি শক্তিশালী এল নিনো তৈরির অন্যতম প্রধান লক্ষণ। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন-
নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এখন স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি গরম। শুধুমাত্র সমুদ্রপৃষ্ঠ নয়, অনেক গভীর পর্যন্ত জল গরম হয়ে গিয়েছে। এর ফলে আগামী মাসগুলিতে এল নিনো আরও শক্তিশালী হতে পারে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আবহাওয়ার পরিবর্তন৷
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রশান্ত মহাসাগর জুড়ে আবহাওয়ার পরিবর্তন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে এবং এল নিনোর স্পষ্ট প্রভাব চোখে পড়ছে। মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অনেকটাই বেড়েছে। উল্টোদিকে, ইন্দোনেশিয়ার বেশ কিছু অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে গিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে উঠেছে। ক্রান্তীয় অঞ্চলে বাতাসের গতিপথেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা এল নিনোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
ভারতের শীতে কি প্রভাব পড়বে?
এল নিনোর প্রভাবে চলতি বছরে ভারতের শীতের ওপর প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে আবহাওয়া পরিবর্তনের একটা বড় আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। হাওয়া অফিস এখনই নিশ্চিত করে কিছু না জানালেও, আন্তর্জাতিক আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থাগুলির জলবায়ু মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এবারের এল নিনো অতীতের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি করতে পারে। সেক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার পাশাপাশি ভারতের শীতেও নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এল নিনো আসলে কী?
এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রের জল অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে গেলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিভিন্ন অঞ্চলে অতি বৃষ্টিপাত থেকে শুরু করে খরা, তাপপ্রবাহ এবং প্রবল সামুদ্রিক ঝড়ের আশঙ্কা বাড়ে।
আপাতত বিশ্বের আবহাওয়াবিদরা এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে এল নিনোর গতিপ্রকৃতি নিয়ে আরও নতুন আপডেট পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিমানে কার্বন নির্গমন কমাতে হাইড্রিজেন ইঞ্জিন! দেশে ইতিহাস গড়ছে TCS-রোলস রয়েস
রাঁচিতে ছাত্র আন্দোলনের নেতা দেবেন্দ্রকে তিরঙ্গা যাত্রায় অংশগ্রহণ করতে বাধা পুলিশের
কে ছিলেন পিঙ্গলি ভেঙ্কাইয়া? জানুন ভারতের জাতীয় পতাকা তৈরির নেপথ্যের ইতিহাস