হিমালয়ে চরম আবহাওয়া বাড়াচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন, বিপর্যয়ের ঝুঁকিও বাড়ছে
নয়াদিল্লি: হিমালয় অঞ্চলে (Himalaya) চরম বৃষ্টিপাতের ঘটনা ক্রমশ আরও ঘনঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে। এর পিছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে। একইসঙ্গে মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডও পাহাড়ি…
নয়াদিল্লি: হিমালয় অঞ্চলে (Himalaya) চরম বৃষ্টিপাতের ঘটনা ক্রমশ আরও ঘনঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে। এর পিছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে। একইসঙ্গে মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডও পাহাড়ি এলাকায় বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। মঙ্গলবার লোকসভায় এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানান, আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান এবং রাজ্য প্রশাসনের মূল্যায়নে হিমালয় অঞ্চলে চরম বৃষ্টিপাতের ঘটনা বৃদ্ধি এবং তার তীব্রতার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে।
হিমাচল প্রদেশে মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয় বৃদ্ধির পিছনে জলবায়ু পরিবর্তন ও অপরিকল্পিত নির্মাণের ভূমিকা রয়েছে কি না, সেই সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রের তরফে এই তথ্য জানানো হয়।
চরম আবহাওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় দলের তদন্ত
হিমাচল প্রদেশে মেঘভাঙা বৃষ্টি, হড়পা বান, ভূমিধস এবং অতিবৃষ্টির ঘটনা কেন বাড়ছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি মাল্টি-সেক্টরাল সেন্ট্রাল টিম (MSCT) গঠন করা হয়েছে।
এই দলে রয়েছে ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি, সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল মেটিওরোলজি, আইআইটি ইন্দোর-সহ বিভিন্ন সংস্থার বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়াও তদন্তের ক্ষেত্রে ইন্ডিয়া মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (IMD), সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন এবং জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া-র তথ্যও বিবেচনা করা হচ্ছে।
কেন্দ্র জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির ভৌগোলিক ও ভূপৃষ্ঠের পরিস্থিতি, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার দেওয়া তথ্য এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলির কারণ খতিয়ে দেখছে ওই কেন্দ্রীয় দল। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সেই বিষয়েও সুপারিশ করবে তারা।
দ্রুত বরফ গলাও বাড়াচ্ছে বিপদের আশঙ্কা
কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, উচ্চ পার্বত্য এলাকায় দ্রুত বরফ গলে যাওয়াও বিপদের অন্যতম কারণ। দ্রুত বরফ গলে গেলে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ জল নীচের দিকে নেমে আসে। ফলে আগে থেকেই দুর্বল পাহাড়ি এলাকায় জলপ্রবাহের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়তে পারে।
এছাড়া মোরেনের অস্থিতিশীলতা নিয়েও সতর্ক করেছে সরকার। হিমবাহের পিছনে পড়ে থাকা আলগা পাথর, মাটি এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষের স্তূপকে মোরেন বলা হয়। এগুলি অস্থিতিশীল হয়ে পড়লে পাহাড়ের ঢাল ভেঙে পড়া, জলপ্রবাহের গতি বেড়ে যাওয়া এবং কাদা-পাথরের স্রোতের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম বৃষ্টিপাতের তীব্রতা ও প্রবণতা বাড়ার পাশাপাশি দ্রুত বরফ গলা এবং অস্থিতিশীল মোরেনের মতো প্রাকৃতিক কারণও হিমালয়ের বিপর্যয় ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে লোকসভায় জানিয়েছে কেন্দ্র।
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের