খানাখন্দে ভরা রাস্তা, সন্তান স্কুলে গেলে চিন্তায় থাকেন ওঁরা
এই সময়, খড়্গপুর: বর্ষা নামতেই বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে বাখরাবাদ থেকে কুশবসান যাওয়ার রাস্তা। গোটা পথটাই খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টিতে তাতে জল জমে বিপদ আরও বাড়িয়েছে। জমা জলের কারণে গর্তের গভীরতা বুঝতে না পারায় ছোটখাটো দুর্ঘটনার বিরাম নেই। অবস্থা এমন যে, পরিবারের কেউ কাজে বেরোলে বা ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন পরিবারের লোকজন। বাসিন্দাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাটি সারানোর ব্যবস্থা করুক প্রশাসন।
এক সময়ে বেলদা থানা এলাকার বাখরাবাদ, কুশবসান, খাকুড়দা হয়েই দিঘা, এগরা-সহ একাধিক জায়গার বাস চলাচল করত। পরবর্তী কালে জাতীয় সড়ক হওয়ায় চিত্রটা বদলে গিয়েছে। সমস্ত যাত্রিবাহী বাস জাতীয় সড়ক হয়ে যাতায়াত করলেও বাখরাবাদ, কুশবসান, হেমচন্দ্র গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েক হাজার মানুষ এখনও এই রাস্তায় যাতায়াত করেন। ওই পথ দিয়েই বাজার, হাসপাতাল থেকে স্কুলে যাতায়াত করতে হয় তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বছর দু’য়েক ধরে রাস্তার হাল শোচনীয়। বর্তমানে বড় বড় গর্ত হয়ে গিয়েছে যত্রতত্র। সেই সব গর্তে জল জমার কারণে ট্রেকার, মোটরবাইক নিয়ে যাতায়াত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা চঞ্চল প্রধান, রাজকুমার পাল বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই শুনছি রাস্তার সংস্কার করা হবে। ২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে কিছুটা অংশের সংস্কার হয়েছিল। তার পরে হঠাৎ সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়।’
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। যে টাকায় বাখরাবাদ থেকে খাকুড়দা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করা হবে। বর্ষার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। বর্ষা মিটলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। তবে বাখরাবাদ থেকে কুশবসান পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ বলে স্বীকার করেছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরাও। নারায়ণগড়ের বিজেপি নেতা গৌরীশঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘বৃষ্টি কমলেই দ্রুত রাস্তার সংস্কার শুরু হবে।’