হরমুজ প্রণালী খুললেই যুদ্ধ থামাতে রাজি ট্রাম্প? বাড়ছে জল্পনা - 24 Ghanta Bangla News
Home

হরমুজ প্রণালী খুললেই যুদ্ধ থামাতে রাজি ট্রাম্প? বাড়ছে জল্পনা

Spread the love

কলকাতা ডেস্ক: ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি না হলেও, পশ্চিম এশিয়ার চলতে থাকা সংঘাত (West Asia Conflict) শেষ করার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।…

কলকাতা ডেস্ক: ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি না হলেও, পশ্চিম এশিয়ার চলতে থাকা সংঘাত (West Asia Conflict) শেষ করার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তারজন্য ইরানকে সম্পূর্ণভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে এমনই দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁর কয়েকজন শীর্ষ সহযোগীর সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় এই সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে নিজের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিষয়টি তুলে ধরার প্রস্তুতিও তিনি নিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের নতুন শর্ত

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করার আগে তেহরান ওয়াশিংটনের কাছে একাধিক শর্ত রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিপূরণ হিসেবে কয়েক বিলিয়ন ডলার দেওয়া, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং ইরানের উপর মার্কিন নৌ অবরোধ বন্ধ করা। এই দাবিগুলিই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এর আগে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান ছিল, সংঘাত শেষ করার যে কোনও চুক্তিতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পরে বৃহত্তর আলোচনার প্রেক্ষিতে ট্রাম্প সেই শর্ত কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা এখনও আলোচনার অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালীই ইরানের বড় হাতিয়ার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীর জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার ক্ষমতা ইরানকে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এই পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

ট্রাম্প সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে একাধিকবার দাবি করেছেন যে হরমুজ প্রণালী খোলা রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তবে এই পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বোমাবর্ষণের হুমকিও দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেই প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

মার্কিন নির্বাচনের চাপও রয়েছে

সংঘাত শেষ করার জন্য ট্রাম্পের এই উদ্যোগের পেছনে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর তিন মাসেরও কম সময় বাকি। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পেট্রলের দাম আরও বাড়লে তা নির্বাচনের আগে ট্রাম্প এবং তাঁর রিপাবলিকান দলের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে ফলে আন্তর্জাতিক সংঘাতের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির দাম নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের উপর চাপ বাড়ছে।

হরমুজ খুলতে নারাজ ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস

রবিবার ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডস জানিয়েছে, ওয়াশিংটন তেহরানের সব শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না। এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর এর আগে ইরান এবং লেবানন, প্যালেস্টাইন, ইয়েমেন ও ইরাকে তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে চলা “যুদ্ধ ও আগ্রাসন” বন্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন।

রেভলিউশনারি গার্ডস জানিয়েছে, প্রণালী বন্ধ রাখাই তাদের বর্তমান কৌশল। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, শত্রুপক্ষ তেহরানের সব শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী তাদের কাছে শুধুমাত্র একটি জলপথ নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্র।

সংঘাত শেষ করার পথ এখনও অনিশ্চিত

একদিকে ট্রাম্প পরমাণু চুক্তিকে সংঘাত শেষ করার পূর্বশর্ত হিসেবে না রেখে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার দিকে গুরুত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন। অন্যদিকে, ইরান ক্ষতিপূরণ, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং নৌ অবরোধ বন্ধের মতো একাধিক শর্ত সামনে রেখেছে।

ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনায় কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত মিললেও সংঘাতের দ্রুত অবসানের পথ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। হরমুজ প্রণালী কবে স্বাভাবিকভাবে খুলবে এবং দুই পক্ষ শেষ পর্যন্ত কোনও সমঝোতায় পৌঁছতে পারবে কি না, এখন সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *