চলন্ত ট্রেনের প্রতিবন্ধী কামরায় অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে ‘ধর্ষণ’, ধৃত ১
আলিপুরদুয়ার: চলন্ত ট্রেনের ফাঁকা কামরায় এক অন্তঃসত্ত্বা বধূর উপর পাশবিক অত্যাচারের অভিযোগ উঠল। মহানন্দা এক্সপ্রেসের প্রতিবন্ধী কামরায় ২০ বছর বয়সি ওই মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগে রীতিমতো…
আলিপুরদুয়ার: চলন্ত ট্রেনের ফাঁকা কামরায় এক অন্তঃসত্ত্বা বধূর উপর পাশবিক অত্যাচারের অভিযোগ উঠল। মহানন্দা এক্সপ্রেসের প্রতিবন্ধী কামরায় ২০ বছর বয়সি ওই মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আলিপুরদুয়ার স্টেশনে ট্রেনটি পৌঁছতেই আর্তনাদ শুনে কামরায় পৌঁছয় রেল পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে। ধৃতের নাম গৌতম মাহাতো। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বাড়ি অসমের রাঙ্গিয়ায়।
রেল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা ওই মহিলার বাড়ি আলিপুরদুয়ারের কালচিনিতে। দিল্লি থেকে মহানন্দা এক্সপ্রেসে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। উঠেছিলেন ট্রেনের প্রতিবন্ধী কামরায়। অভিযোগ, ট্রেনটি কালচিনিতে ঢোকার আগে কামরাটি ফাঁকা থাকার সুযোগ নেয় অভিযুক্ত গৌতম। চলন্ত ট্রেনের মধ্যেই ওই অন্তঃসত্ত্বা মহিলার উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, ঘটনার পরেই কোনও মতে ওই বধূ তাঁর স্বামীকে ফোন করে গোটা বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে দ্রুত স্টেশনে ছুটে যান স্বামী। অন্য দিকে, ট্রেনটি যখন হাসিমারার কাছাকাছি, তখন পাশের কামরাতেই ছিলেন রেলের বৈদ্যুতিক বিভাগের কিছু কর্মী। প্রতিবন্ধী কামরা থেকে আচমকাই এক মহিলার চিৎকার ও আর্তনাদ শুনতে পান তাঁরা। বিপদ বুঝে কালবিলম্ব না করে তড়িঘড়ি রেলের হেল্পলাইন নম্বরে খবর দেন কর্মীরা।
এর পরেই তৎপর হয় প্রশাসন। ট্রেনটি আলিপুরদুয়ার স্টেশনে পৌঁছনো মাত্রই নির্দিষ্ট কামরায় হানা দেয় আরপিএফ এবং জিআরপি। অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করা হয়, পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় ওই বধূকেও।
জিআরপি-র এসআরপি ইন্দ্রবদন ঝা জানিয়েছেন, মহিলার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গৌতম মাহাতোকে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কী ভাবে ওই ব্যক্তি প্রতিবন্ধী কামরায় উঠল এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে গোটা ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।