Purulia Mission Aakash: ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ মাও ব্রিগেডকে বাগে আনতে যৌথ অভিযান বাংলা-ঝাড়খণ্ড পুলিশের, পুরুলিয়ায় শুরু ‘মিশন আকাশ’ | Mission Aakash: Bengal Jharkhand Police Launch Joint Operation to Hunt Maoist Leader Asim Mondal in Purulia
পুরুলিয়াতে ‘মিশন আকাশ’Image Credit: Tv9 Bangla
পুরুলিয়া: দেশ মাওবাদী মুক্ত। দিন কয়েক আগেই রাজ্যসভায় একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে, বেশ কয়েকটি জেলাকে বিশেষ নজরে রাখা হয়েছে। মূলত স্পর্ষকাতর বলা হচ্ছে ওই এলাকাগুলিকে। কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য মাওবাদী শূন্য দেশ। সেই লক্ষ্যেই পুরুলিয়ায় শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান। নাম মিশন আকাশ। জানা গিয়েছে,মাও নেতা অসীম মণ্ডলকে বাগে আনতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে জেলা পুলিশ।
বাংলার তিন মাওবাদী নেতা-নেত্রীকে জেরা করে শুরু হয়েছে অপারেশন ‘মিশন আকাশ’। ব্লু প্রিন্ট তৈরি করে ঝাড়খণ্ড পুলিশের সঙ্গে অভিযানে নেমেছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে অভিযান শুরু হয়েছে। ঝাড়খন্ড ছুঁয়ে থাকা বান্দোয়ান এলাকায় অপারেশন শুরু হয়। আর এই অপারেশনের আগে স্পর্শকাতর এলাকায় মাও দমনে থাকা রাজ্য পুলিশের কুঁচিয়া ক্যাম্প ঘুরে দেখেন বাঁকুড়া রেঞ্জের ডিআইজি অভিষেক মুদি। সঙ্গে ছিলেন পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ। এদিন, তিনি ঝাড়খণ্ড সীমানা বরাবর কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখেন।
মাওবাদী অধ্যুষিত রাজ্যগুলির ডিজি-দের সঙ্গে বৈঠকে দেশকে মাওবাদী মুক্ত করার নির্দেশ দেয় দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তারপর থেকেই তৎপর রাজ্য ও জেলা পুলিশ। বুধবারই ভোর রাতে ঝাড়খণ্ডের দলমা পাহাড়তলির সরাইকেলা-খরসোওয়া জেলা থেকে গ্রেফতার হন মদন মাহাতো, সাগর সিং ও তাঁর স্ত্রী মীরা পাহাড়িয়া। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দলমা পাহাড়ের চান্ডিল থানার আসনবনি গ্রাম থেকে একটি ম্যাগাজিন ভর্তি ইনসাস রাইফেল ও ২০৮ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়।
তিনজনকে জেরা করে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে,তাঁদের দলে আরও ছয়জন রয়েছেন। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, দলে রয়েছেন মূল মাথা অসীম মণ্ডল বা আকাশ। তাঁর খোঁজে অনেকদিন ধরেই খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। সারান্দার জঙ্গল বদল করে দলমা এলাকায় ফিরে আসে অসীম মণ্ডল-সহ ৯ জনের জল। তিনজনের গ্রেফতারির পর বর্তমানে দলে রয়েছেন মাত্র ৬ জন। তাঁদের মধ্যে আকাশ ছাড়া রয়েছেন শচিন এবং তার স্ত্রী মিতা, ধৃত মদন মাহাতর স্ত্রী বুলু ওরফে জবা এবং সমীর মাহাত ও তার স্ত্রী মালতী। ঝাড়খণ্ড পুলিশের দাবি, এই তিন মাও নেতা-নেত্রীদের গ্রেফতারিতে মনোবল ভেঙে পড়েছে আকাশ-সহ তার দলের সদস্যদের। ফলে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাকিদের হাতে পেতে চাইছে বাংলা-ঝাড়খণ্ড পুলিশ।
জঙ্গলে মাওবাদীদের খোঁজের পাশাপাশি গ্রামবাসীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলায় প্রবেশ করা সমস্ত ছোট-বড় গাড়ি, এমনকি বাইক থেকে সাইকেল আরোহীদের ব্যাগপত্র তল্লাশি করা চলছে। কড়া নজরদারিও চালানো হচ্ছে।