জাতীয় সড়কে চোঙা বেঁধে কর্মসূচি, সতর্ক করল পুলিশ
আশিস নন্দী, বারাসত
শব্দদূষণ রুখতে মাইক বাজানোর বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ জারি করেছে বিজেপি সরকার। কড়া অবস্থানের কথাও জানিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ধর্মীয় স্থান থেকে ইতিমধ্যেই মাইক খুলে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। কিন্তু সেই বার্তা আদৌ সর্বত্র পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেশুরু করেছে।
শব্দদূষণের তোয়াক্কা না করেই উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর বারাসত শহরের প্রাণকেন্দ্র কলোনি মোড় থেকে ন’পাড়া, হাটখোলা–সহ ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় গত এক সপ্তাহ ধরে অবিরত বাজছে মাইক। জাতীয় সড়কের কয়েক কিলোমিটার ধরে প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টে চোঙা বাঁধা হয়েছে। তারস্বরে মাইক বাজিয়ে সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য লাগাতার প্রচার চলছে।
সম্প্রতি একটি সংগঠনের ব্যানারে রক্তদানের অনুষ্ঠান রয়েছে বারাসতে। সেখানে তাবড় নেতার কর্মসূচি রয়েছে। তার জন্য ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের দু’ধারের প্রতিটি লাইট পোস্টে বাঁধা রয়েছে একগুচ্ছ মাইক। কয়েক কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে দিনরাত সেই অনুষ্ঠানের প্রচার চলছে তারস্বরে মাইক বাজিয়ে। এ ছাড়াও বারাসতের ন’পাড়া ও হাটখোলার দু’টি ক্লাবও একই ভাবে সামাজিক অনুষ্ঠানের প্রচার চালাচ্ছে মাইক বাজিয়ে। বারাসতের পুলিশ সুপার জে মার্সি বলেন, ‘১২ নম্বর জাতীয় সড়কে যে মাইকগুলো বাজানো হচ্ছে তার পুলিশি অনুমতি রয়েছে।’
বারাসতের বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সামাজিক অনুষ্ঠানের বিষয়টি ভিন্ন। তবে লাগাতার মাইক বাজানো নিয়ে আমার কাছেও অভিযোগ এসেছে। জেলাশাসকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। তারস্বরে মাইক বাজানো যাবে না। ডেসিবেল মেনে সকালের দিকে তিন ঘণ্টা এবং বিকেলে দু’ঘণ্টা মাইকবাজাতে হবে।’
মাইক বাজানোর অনুমতি নেওয়ার সময়ে শব্দের ডেসিবেল নিয়ে সংগঠকদের সতর্ক করে পুলিশ। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে সেটা মানা হয় না। জেলা সদরে লাগাতার এই শব্দ দূষণে মানুষের সমস্যা হলেও কোনও হেলদোল নেই উদ্যোক্তাদের। শব্দের অত্যাচারে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দা দেবযানী মিত্র বলেন, ‘ব্যস্ত রাস্তায় চলাচল করতে মনোযোগী হতে হয়। কিন্তু বছরভর কোনও না কোনও অনুষ্ঠানের জন্য মাইক বাজতেই থাকে। বিষয়টি পুলিশের দেখা উচিত।’ স্কুলের শিক্ষক খোকন সমাদ্দার বলেন, ‘রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। কিন্তু মানুষের অসুবিধে করে মাইক বাজানোর সংস্কৃতির পরিবর্তন হয়নি।’