প্রাক্তন আইসি–কে সেই থানাতেই ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ
এই সময়, কাঁথি: যে কাঁথি থানায় এক সময়ে তিনি আইসি (ইনস্পেক্টর–ইন–চার্জ) ছিলেন, সেখানেই ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো অমলেন্দু বিশ্বাসকে। জেলার প্রাক্তন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম হাসানকেও তলব করা হয়েছিল থানায়। গত সোম ও মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাঁদের থানায় বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে পুলিশের একটি সূত্রের খবর।
উল্লেখ্য, তৃণমূল জমানায় পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি থানার দায়িত্বে থাকাকালীন স্থানীয় পুরসভার দুর্নীতি মামলায় বিজেপি সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন অমলেন্দু। পরে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানায় বদলি হয়েও বিতর্কে জড়ান তিনি। সেখানে ২০২৫–এ জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পুজো কমিটির লোকজনদের গালিগালাজ এবং লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পরে বর্ধমান থানায় বদলি হলেও ২০২৬–এর বিধানসভা ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন তাঁকে সরিয়ে দেয়। রাজ্যে পালাবদলের পরে কৃষ্ণনগরের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়। কাঁথিতে থাকাকালীন স্থানীয় এক বিজেপি কর্মীর দোকান ভাঙচুর ও তাঁকে মারধরের অভিযোগও উঠেছিল অমলেন্দুর বিরুদ্ধে। ২০২২–এ কাঁথিতে পুরভোটের আগে শেরপুরের বিজেপি কর্মী রঞ্জন দাস তাঁর দোকান ভাঙচুর ও মারধরের ওই অভিযোগ করেন। তখন অমলেন্দুর সঙ্গে তৃণমূল–ঘনিষ্ঠতারও অভিযোগ ওঠে। চার বছর পরে, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় রঞ্জন গত ২৫ জুলাই কাঁথি থানায় অমলেন্দু–সহ ছ’জন পুলিশ অফিসার ও কর্মীর নামে লিখিত অভিযোগ জানান। উল্লেখ্য, সে দিনই সাসপেন্ড হয়েছিলেন অমলেন্দু।
রঞ্জনের কথায়, ‘রসলপুর বাসস্ট্যান্ডে আমার চা, পান, বিস্কুটের দোকান ছিল। ২০২২–এর ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে অমলেন্দু বিশ্বাস পুলিশ বাহিনী নিয়ে দোকানে এসে আমাকে টেনে বের করে মারধর করেন। দোকানের জিনিসপত্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন। আমাকে থানায় নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করেন। এই ভাঙচুরের ঘটনার পরে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। আমার বেঁচে থাকার ইচ্ছে চলে যায়। সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতাম।’ সূত্রের খবর, রসলপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে সে সময়ে বেআইনি দোকান উচ্ছেদের নোটিস দিয়েছিল কাঁথি পুরসভা। অভিযোগ, নোটিস পেয়েও দোকান সরাননি রঞ্জন।