শ্বাসকষ্টের নেপথ্যে স্নায়ুরোগ! চিকিৎসায় সাফল্য কলকাতায়
এই সময়: শ্বাসকষ্ট হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসক নিউমোনিয়া কিংবা শ্বাসযন্ত্রের অন্য কোনও গোলযোগই সন্দেহ করেন। কিন্তু কখনও কখনও ফুসফুস নয়, বিপদ লুকিয়ে থাকে যে স্নায়ুতন্ত্রেও, সেই বিরল নজির দেখা গেল ঝাড়খণ্ডের এক কিশোরীর ক্ষেত্রে।
এক বিরল প্রাণঘাতী রোগের হদিশ পেলেন কলকাতার মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের চিকিৎসকরা। প্রথমে নিউমোনিয়া বলে মনে হলেও, পরে ধরা পড়ে, ওই কিশোরী আসলে মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস–জনিত মায়াস্থেনিক ক্রাইসিসে আক্রান্ত। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও দ্রুত চিকিৎসায় শেষ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে সম্প্রতি বাড়ি ফিরেছে ওই কিশোরী ।
মে মাসে মেয়েটিকে একটি রেল হাসপাতাল থেকে সল্টলেকের ওই বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়ার পরে সিটি স্ক্যানে নিউমোনিয়ার ইঙ্গিত মেলায় তাকে ইন্ট্রাভেনাস অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়।
ওই কিশোরীকে ভেন্টিলেটরে রাখতে হয়। হাসপাতালের পালমোনোলজি বিভাগের অধিকর্তা দেবরাজ যশ জানান, রোগীর শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সিটি স্ক্যানের রিপোর্টের মিল পাওয়া যাচ্ছিল না। ফুসফুসের ক্ষতি তুলনামূলক কম হলেও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাচ্ছিল। তখন চিকিৎসকরা স্নায়বিক সমস্যার বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। তাতেই ধরা পড়ে রোগ।
পরীক্ষায় ধরা পড়ে, রোগীর পেশিশক্তি উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গিয়েছে। ফুসফুসের পেশিও কাজ করতে পারছে না প্রত্যাশিত স্তরে। মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস ও গিয়াঁ-বারে সিনড্রোমের বিষয়টি যাচাইয়ের পরে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন, ওই কিশোরী মায়াস্থেনিক ক্রাইসিসে আক্রান্ত। এই অটোইমিউন রোগে স্নায়ু ও পেশির মধ্যে সংকেত আদান-প্রদান ব্যাহত হয়। শ্বাসপ্রশ্বাসের পেশিও দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে শ্বাসযন্ত্র বিকল হতে পারে।
রোগ নির্ণয়ের পরেই ওই কিশোরীকে ইন্ট্রাভেনাস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (আইভি–আইজি) থেরাপি, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পালমোনোলজি, নিউরোলজি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে তার পেশিশক্তি ফিরে আসে। নিউরোলজিস্ট বৈভব শেঠের বক্তব্য, অনেক সময়ে মায়াস্থেনিক ক্রাইসিসের প্রথম লক্ষণই হতে পারে শ্বাসকষ্ট। তাই অজানা কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা হলে শুধু ফুসফুসের রোগ নয়, স্নায়বিক কারণও বিবেচনায় আনা জরুরি।