সুমিতকে মৌখিক রক্ষাকবচ, বাড়িতে নোটিস অন্য কেসে - 24 Ghanta Bangla News
Home

সুমিতকে মৌখিক রক্ষাকবচ, বাড়িতে নোটিস অন্য কেসে

Spread the love

এই সময়: ভুয়ো নথি তৈরি করে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি জমি বিক্রিতে অভিযুক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে আপাতত মৌখিক রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ পুলিশকে মৌখিক ভাবে নির্দেশ দেন, মামলার শুনানি চলাকালীন সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করা যাবে না। আদালত জানায়, এখন থেকে মামলাটির শুনানি প্রতিদিন করার চেষ্টা করা হবে এবং শুক্রবারের মধ্যে লিখিত নির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা হবে।

শুনানিতে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার দাবি করেন, বিএলআরও অফিসে সরকারি নথিতে কারচুপি করে পোর্টালে আপলোড করা হয়েছিল। ২০০৭ থেকেই সরকারি জমি ভুয়ো নথির মাধ্যমে বিক্রির চক্র সক্রিয় ছিল। ২০২০–তেও জমি বিক্রি হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের উপরে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের জন্যেও প্রভাব খাটানো হতো এবং এই চক্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’ সুমিত রায়। অভিযোগ, জমি বিক্রির টাকা যেত সুমিতের কাছে। স্থানীয় ভাবে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা সেই টাকা সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন। রাজ্যের দাবি, এই মামলার তদন্ত সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

সুমিতের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মামলায় মূল অভিযোগ সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে। সুজয়ের সঙ্গে সুমিতের কোনও আর্থিক লেনদেন বা যোগাযোগের ডিজিটাল প্রমাণ থাকলে তা আদালতে পেশ করা হোক। তাঁর দাবি, পরিকল্পিত ভাবে অভিযোগ সাজানো হয়েছে। সিআইডি ৯ জুন ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে তল্লাশি চালিয়েও কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়নি। ৬ জুন তদন্ত শুরুর পরে সুজয় হাজরাকে গ্রেপ্তার করে তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়।

তল্লাশির সময়ে সিসিটিভি ক্যামেরা চালু ছিল এবং সুজয় হাজরার মোবাইলও তদন্তকারীদের কাছেই রয়েছে। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে বিচারপতি ঘোষ জানান, প্রতিদিন এই মামলার শুনানি হবে। পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত সুমিতকে গ্রেপ্তার না করার মৌখিক নির্দেশ বহাল থাকবে।

এ দিনই আবার সুমিতের নিউ আলিপুরের বাড়িতে পৌঁছয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ। সেখানকার একটি রিসর্ট ভাড়া নিয়ে বিল না মেটানোর মামলার সূত্রে এই অভিযান। সঙ্গে ছিলেন বেহালা থানার পুলিশকর্মীরাও। কলিং বেল বাজাতেই সুমিতের মা বেরিয়ে আসেন। তাঁর হাতে একটি নোটিস তুলে দেওয়া হয়। ওই নোটিসে আগামী তিন দিনের মধ্যে সুমিতকে থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে শালবনি থানায় প্রতারণার মামলা দায়েরের পর থেকেই সুমিত পলাতক। তাঁর খোঁজে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও গিয়েছিল শালবনি থানার পুলিশ। সংবাদমাধ্যমকে সুমিতের মা বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমস্যা মিটে যাক, সেটাই চাইছি।’ তবে, সুমিত কোথায়—সে বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই বলে দাবি করেছেন মা।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *