৬০ বছরের অপেক্ষার অবসান, গির অরণ্যে আবারও দেখা মিলল ‘ইন্ডিয়ান গ্রে হর্নবিলের’

প্রায় ছয় দশক পর আবারও গুজরাটের গির অরণ্যে দেখা মিলেছে ভারতীয় গ্রে হর্নবিলের (Indian Grey Hornbill)। যাকে স্থানীয়রা ডাকেন ‘চিলোত্রা’ নামে। শুধু ফিরে আসাই নয়, এই বিরল পাখিগুলি এখন গিরের জঙ্গলে বাসা বাঁধছে এবং বংশবিস্তারও করছে, এমনটাই জানিয়েছে বন দপ্তর।

কিন্তু কেন গ্রে হর্নবিল বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল? এক সময়ে গিরের জঙ্গলে অনেক ভারতীয় গ্রে হর্নবিল দেখা যেত। কিন্তু ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তাদের সংখ্যা কমতে থাকে। ১৯৬০-এর পর তারা কার্যত বিলুপ্তই হয়ে যায় গির থেকে।

এই বিলুপ্তির পিছনে বড় কারণ ছিল, খাদ্যের অভাব ও বনভূমির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমতে থাকা। এ ছাড়া গিরের প্রোটেক্টেড কোর এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশও ছিল এর পিছনে একটি বড় কারণ।

তবে ২০২১ সাল থেকে গুজরাট বন দপ্তর এই হারিয়ে যাওয়া পাখিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়। গির ছাড়াও গুজরাটের আরাবল্লী সংলগ্ন জঙ্গলে এখনও কিছু গ্রে হর্নবিল পাওয়া যায়। সেখান থেকেই বেশ কিছু পাখি এনে গিরে সুরক্ষিত পরিবেশে তাদের রাখা হয়।

২০২১ ও ২০২২ সালের প্রথম পর্যায়ে ২৮টি হর্নবিলকে গিরে আনা হয়। এরপর ২০২৩ সালে আরও ১২টি পাখিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ মোট ৪০টি হর্নবিলকে নিয়ে আসা হয় গিরে।

কিন্তু এদের বাঁচিয়ে রাখাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কোনও পাখি যাতে না মরে যায়, তার জন্য পাখিগুলির চলাফেরা, খাবার খাওয়া, প্রজননের উপর নজর রাখতে ১১টি পুরুষ হর্নবিলের গায়ে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার লাগানো হয়।

এই প্রযুক্তির সাহায্যে গবেষকরা জানতে পারেন, নতুন পরিবেশে এসে প্রথম কয়েক মাস পাখিগুলি জঙ্গলের বড় এলাকা জুড়ে ঘুরে বেড়িয়েছে। তবে পরে তারা নির্দিষ্ট এলাকায় স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করে। আর এতেই পাখি বিশেষজ্ঞরা বুঝতে পারেন, গিরের নতুন পরিবেশের সঙ্গে সফল ভাবে মানিয়ে নিয়েছে গ্রে হর্নবিলগুলি।

তবে শুধু থাকাই নয়, গিরের জঙ্গলে আসার প্রথম বছরের মধ্যেই একটি হর্নবিল জুটির ছানাও হয়। দ্বিতীয় বছরে আরও তিনটি ছানা জন্মায়।

কিন্তু শুধু বংশবিস্তার করিয়ে সংখ্যা বাড়ানোই নয়, এরা বনের ইকোসিস্টেমের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এরা বিভিন্ন ফল খেয়ে দূর-দূরান্তে বীজ ছড়িয়ে দেয়। ফলে নতুন গাছ জন্মাতে সাহায্য হয়।

গুজরাটের বন ও পরিবেশমন্ত্রী অর্জুন মোধওয়াডিয়া জানিয়েছেন, গির অরণ্যে ভারতীয় গ্রে হর্নবিলের ফিরে আসা এবং তাদের বংশবিস্তার নতুন করে আশার আলো ফুটিয়েছে। এটি বনভূমির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।