শেরওয়ানিতে বর, হাতে মালার বদলে হেলমেট, ব্যতিক্রমী বিয়েতে মুগ্ধ পূর্ব বর্ধমান
রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন বর। পরনে শেরওয়ানি, মাথায় পাগড়ি। পাশে লাল বেনারসিতে নববধূ। মাথায় একহাত ঘোমটা। বরের হাতে রজনীগন্ধার মালা নয়, রং বেরঙের হেলমেট। পথচারী বাইক আরোহীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন তিনি। দিচ্ছেন ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফের’ বার্তা। রবিবার পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের এরুয়ার গ্রামে এমন বিয়ের অনুষ্ঠান দেখে বাহবা দিচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ তো নতুন বরের পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলে গেলেন, ‘শাবাস।’
এ দিন মঙ্গলকোটের পালিশগ্রামের প্রিয়া চৌধুরীর সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন ভাতারের তানবীর আনসারি। জীবনের এই স্মরণীয় দিনটিকে শুধু ব্যক্তিগত উদ্যাপনে আটকে রাখতে চাননি তাঁরা। বরং সমাজের জন্য কিছু করার ভাবনা থেকেই একাধিক জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করেন নবদম্পতি। অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে প্রায় ১০০টি চারাগাছ রোপণ করেন তানবীর। পাশাপাশি আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেন বই, খাতা ও কলম। তবে সবচেয়ে নজর কাড়ে তাঁর এই অভিনব উদ্যোগ।
‘সেভ ড্রাইভ, সেফ লাইফের’ বার্তা দিতে অনুষ্ঠান শেষে বিয়ের পোশাকেই রাস্তায় নেমে পড়েন বর। তার পরে মোটরসাইকেল আরোহীদের হাতে তুলে দেন নতুন হেলমেট। বরের হাত থেকে এমন উপহার পেয়ে অনেকেই অবাক হয়ে যান। পরে তাঁরা জানান, এই হেলমেট নিছক উপহার নয়, নিরাপত্তার বার্তাও। তানবীরের কথায়, ‘জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনটিকে মানুষের কাজে লাগাতে চেয়েছি। যদি এই উদ্যোগ দেখে একজন মানুষও হেলমেট পরে বাইক চালানো শুরু করেন, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
কনের পরিবারের অনেক সদস্যই আপ্লুত। নিমন্ত্রিত এক অতিথি তো বলেই দিলেন, ‘এমন বিয়ে আগে কখনও দেখিনি। বিয়ের আনন্দের সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতাকে এ ভাবে জুড়ে দেওয়ার কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়।’
এলাকার বাসিন্দা সাবির আলি উপস্থিত ছিলেন বিয়েতে। তিনি কার্যত অবাক হয়ে গিয়েছেন। বলে দিলেন, ‘এই ধরনের উদ্যোগ সচরাচর দেখা যায় না। বিয়ের মতো ব্যক্তিগত আনন্দের দিনেও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।’ হেলমেট যে শুধু নিয়ম মানার বিষয় নয়, জীবন বাঁচানোর হাতিয়ার— সেই বার্তাই মানুষের কাছে পৌঁছে দিল এই উদ্যোগ। সাবিরের আশা, ‘তানবীরকে দেখে নিশ্চয় আরও অনেক তরুণ এমন সামাজিক দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসবেন।’