কুয়েতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে মিসাইল হামলায় অগ্নিকাণ্ড, আমেরিকাকে পাল্টা জবাবে ইরানের
পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-আমেরিকা সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আমেরিকার সেনাবাহিনীর টানা নবম দিনের বিমান হামলার জবাবে এবার কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ আল-সুবিয়া (Al-Subiya) বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জল লবণমুক্তকরণ (Desalination) কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। হামলার পরেই বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন লেগে যায়। যা কিছুক্ষণের মধ্যেই ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োতে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং আগুনের বিশাল শিখা বের হতে দেখা গিয়েছে।
কুয়েত সরকারের দাবি, ইরানের হামলায় দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই প্রচেষ্টার ফলে বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
আল-সুবিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র কুয়েতের অন্যতম বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। এখানেই রয়েছে বিশাল জল লবণমুক্তকরণ প্রকল্প, যার মাধ্যমে সমুদ্রের জলকে পানীয় জলে পরিণত করা হয়। মরুপ্রধান দেশ কুয়েতে পানীয় জলের অভাব মেটাই এই প্ল্যান্ট। দেশের পানীয় জলের বড় অংশের জোগানই এই ধরনের ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের উপর নির্ভরশীল। ফলে এই পরিকাঠামোয় হামলাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছে কুয়েত প্রশাসন।
মার্কিন সেনাবাহিনী গত নয় দিন ধরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার, ড্রোন ভাণ্ডার এবং নজরদারি কেন্দ্রগুলিতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের দাবি, নতুন করে ইরানের হামলায় মার্কিন সেনার মৃত্যুর পরেই এই অভিযান শুরু হয়। ইরানের সামরিক সক্ষমতার মেরুদণ্ড একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে দিতেই এই হামলা।
এর পাল্টা হিসেবে ইরান আমেরিকার বন্ধু রাষ্ট্র, একাধিক উপসাগরীয় দেশে অবস্থিত আমেরিকার সেনা ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। কুয়েত, বাহরিন, জর্ডন এবং অন্যান্য অঞ্চলেও হামলার খবর মিলেছে।
কুয়েতের বিদেশ মন্ত্রক এই হামলাকে ‘বিপজ্জনক ভাবে উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে ইরান’ বলে উল্লেখ করেছে। তাদের বক্তব্য, অসামরিক বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সামিল। বিদ্যুৎ ও জল মন্ত্রক জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশে দ্রুত মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে।
ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে গোটা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে। উপসাগরীয় দেশগুলিতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ় প্রণালী ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।