Purba Bardhaman: সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি বিক্রির নামে চলত বড় ‘খেলা’, যুক্ত আরটিও? | Memari Used Car Scam: Man Arrested for Loan Fraud and Illegal Vehicle Ownership Transfers
মেমারি: সেকেন্ড হ্যান্ড চারচাকা গাড়ি বিক্রির নামে সুপরিকল্পিত প্রতারণার অভিযোগ। চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে। অভিযোগ, ব্যাঙ্ক ঋণ বাকি থাকা গাড়ি মালিকের অজান্তেই অন্যের কাছে বিক্রি করে, মালিকানা বদল এবং নতুন ঋণের ব্যবস্থা করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিত একটি চক্র। এই ঘটনায় চক্রের মূল অভিযুক্ত শেখ শাহরুখকে গ্রেফতার করেছে মেমারি থানার পুলিশ। এই চক্রে একাধিক আরটিও (রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট অফিস)-র ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে শেখ শাহরুখকে গ্রেফতারর করা হয়। রবিবার তাঁকে বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। অভিযোগ, মেমারি হাসপাতাল মোড়ে অবস্থিত ‘মেমারি মোটরস’ নামে একটি পুরনো গাড়ি কেনাবেচার শোরুমকে কেন্দ্র করেই এই প্রতারণার জাল বিস্তার করা হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, যাঁরা ব্যাঙ্ক ঋণে গাড়ি কিনে পরবর্তীকালে ইএমআই দিতে সমস্যায় পড়তেন, তাঁদের কাছ থেকে গাড়ি নিয়ে পুরনো ঋণ শোধ, গাড়ি বিক্রি এবং বিক্রির টাকা মালিককে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত এই চক্র। অভিযোগ, বাস্তবে পুরনো ঋণ পরিশোধ না করেই গাড়িটি অন্য ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হত। শুধু তাই নয়, আরটিও-র মাধ্যমে গাড়ির মালিকানাও বদলে দেওয়া হত এবং নতুন ক্রেতার জন্য অন্য একটি আর্থিক সংস্থা থেকে ঋণের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হত।
এর ফলে গাড়ির আসল মালিক দীর্ঘদিন কিছুই জানতে পারতেন না। পরে ব্যাঙ্ক থেকে বকেয়া ইএমআই সংক্রান্ত নোটিস পেয়ে তাঁরা বুঝতে পারতেন যে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে। অভিযোগ, বিক্রির টাকা চাইতে গেলে চক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগীদের গাঁজার মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিত।
এই ঘটনায় একাধিক প্রতারিত ব্যক্তি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ গোটা ঘটনার আর্থিক লেনদেন, আরটিও-র নথিপত্র এবং চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই প্রতারণার জাল আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং আরও বহু মানুষ এর শিকার হয়েছেন।
দীপ সরকার নামে এক অভিযোগকারী বলেন, “আমাদের কয়েকটি গাড়ি ছিল। ঋণে গাড়িগুলি কিনেছিলাম। ঋণ শোধ করতে পারছিলাম না। সেজন্য গাড়িগুলি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিই। শেখ শাহরুখের সঙ্গে চুক্তি হয়। গাড়িগুলি কেনার সময় ও নাম ট্রান্সফার করার সময় ঋণ পরিশোধ করে দেবে। তারপর উভয় পক্ষ গিয়ে নাম ট্রান্সফার করা হবে। সেইমতো গাড়িগুলি দিই। কিন্তু, কিছুদিন পর জানতে পারি, গাড়িগুলির নাম ট্রান্সফার হয়ে গিয়েছে। আবার গাড়িগুলির উপর ঋণ নিয়েছে। ঋণ পরিশোধ না করে কীভাবে নাম ট্রান্সফার হল, সেটাই আমরা বুঝতে পারছি না। আমাদের সন্দেহ, এর সঙ্গে আরটিও যুক্ত রয়েছে।”